নিজেদের অভাব ভুলে মনশ্রীর পাশে মাদ্রাসা ; মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ত্রিপুরায়

Story by  Nurul Haque | Posted by  Aparna Das • 15 h ago
জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে মনশ্রীর জন্য অর্থ সহায়তা সঞ্চয় করার কিছু মুহূর্ত
জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে মনশ্রীর জন্য অর্থ সহায়তা সঞ্চয় করার কিছু মুহূর্ত
 
নূরুল হক / আগরতলা

১৮ কোটি টাকার চিকিৎসা। আর সেই চিকিৎসার আশায় দিন গুনছে ত্রিপুরার ছোট্ট শিশু মনশ্রী চৌধুরী। মাত্র ২২ মাস বয়সেই মনশ্রী চৌধুরী দুরারোগ্য এসএমএ (Spinal Muscular Atrophy)-এ আক্রান্ত। এই শিশুর জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন ইনজেকশন ত্রিপুরা রাজ্য তথা দেশের বিরল। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ঔষধের জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা তার আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব।
 

কিন্তু সংকটের এই সময়ে প্রমাণ হয়েছে, মানবতার কোনো ধর্ম, বর্ণ বা জাত নেই। মনশ্রীর মুখের হাসি ফিরিয়ে আনতে আজ এক কাতারে দাঁড়িয়েছেন ত্রিপুরার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, মন্দির, মসজিদ, সবার পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে মাদ্রাসাগুলিও।
 
এই মানবিক উদ্যোগের এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বিশালগড় জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা। সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানবিহীন এই মাদ্রাসাটি মানুষের দান-অনুদানের ওপর নির্ভর করেই পরিচালিত হয়। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান, আবার অনেকেই এতিম।
 
মনশ্রী চৌধুরী
 
তবুও নিজেদের সীমাবদ্ধতা ভুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনশ্রীর চিকিৎসার জন্য প্রায় ১১ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন এবং স্ক্যানারের মাধ্যমে সেই অর্থ শিশুটির পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেন।
 
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, ইসলামে একটি মানুষের প্রাণ রক্ষা করাকে সমগ্র মানবজাতির প্রাণ রক্ষার সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সেই শিক্ষা থেকেই মানবতার দায়িত্ব পালন করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। তিনি ছোট্ট মনশ্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
 
জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে মনশ্রীর জন্য অর্থ সহায়তা সঞ্চয় করার কিছু মুহূর্ত
 
সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় হলো, যে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই অভাবের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা করছে, তারাই নিজেদের খাবারের খরচ থেকে কিছু অংশ বাঁচিয়ে আরেকটি শিশুর জীবন বাঁচানোর জন্য এগিয়ে এসেছে। এই ছোট ছোট ত্যাগই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়।
 
মনশ্রীর জন্য এগিয়ে আসা এই উদ্যোগ শুধু একটি অর্থ সহায়তার ঘটনা নয়; এটি মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য বার্তা। এমন উদ্যোগ সমাজের প্রতিটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, একটি জীবন বাঁচাতে সামর্থ্য নয়, প্রয়োজন আন্তরিকতা।
 
জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে মনশ্রীর জন্য অর্থ সহায়তা সঞ্চয় করার কিছু মুহূর্ত
 
আজ মনশ্রী শুধু একটি পরিবারের সন্তান নয়, সে হয়ে উঠেছে সমগ্র ত্রিপুরার সন্তান। আর তার জন্য মানুষের এই ঐক্যবদ্ধ ভালোবাসাই হয়তো নতুন আশার আলো দেখাবে।


শেহতীয়া খবৰ