আমাদের টাকা দ্বিগুণ! অন্নপূর্ণার ৩ হাজারে সব ভয় ভুলে গেরুয়া আবিরে মাতলেন সংখ্যালঘু মহিলারা, উৎসবের পরিবেশ এলাকায়

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 8 h ago
আমাদের টাকা দ্বিগুণ! অন্নপূর্ণার ৩ হাজারে সব ভয় ভুলে গেরুয়া আবিরে মাতলেন সংখ্যালঘু মহিলারা, উৎসবের পরিবেশ এলাকায়
আমাদের টাকা দ্বিগুণ! অন্নপূর্ণার ৩ হাজারে সব ভয় ভুলে গেরুয়া আবিরে মাতলেন সংখ্যালঘু মহিলারা, উৎসবের পরিবেশ এলাকায়
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা 

অন্নপূর্ণার টাকা ঢুকতেই উচ্ছ্বাসে মাতলেন মুসলিম পাড়ার মহিলারা। ৩০০০ টাকা হাতে নিয়েই গেরুয়া আবিরে মাখালেন একে অপরকে। সঙ্গে চলল মিষ্টিমুখ। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা অ্যাকাউন্টে আসতেই জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১৫ নম্বর বুথের ছবিটা বদলে গেল নিমেষেই। তৈরি হল উৎসবের পরিবেশ। রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র প্রথম কিস্তির টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেন স্থানীয় মুসলিম মহিলারা।
 
রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতি মত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে চালু করেছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। যোগ্য মহিলাদের এই প্রকল্পের সুবিধে দিতে নতুন তালিকা তৈরির সময় থেকেই এলাকায় রটেছিল নানা গুজব। অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে অনেকে প্রচার করে বলেছিলেন এই সরকার মুসলিম মহিলাদের টাকা দেবে না। সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দিয়েই করা হবে তালিকা। ফলে সরকারের দেওয়া ৩০০০ টাকা পাওয়া নিয়ে একপ্রকার সংশয় দানা বেঁধেছিল পাহাড়পুরের সংখ্যালঘু পরিবারগুলোতে।
 

শোনা যায়, গুজবের কারণে ভয়ে অনেকেই আবেদনটুকুও করতে সাহস পাননি। কিন্তু জুলাইয়ের প্রথমেই কেটে গেল তাঁদের আশঙ্কার মেঘ। পয়লা জুলাই মোবাইল ফোনে ‘টাকা ক্রেডিট’ হওয়ার মেসেজ আসতেই বদলে যায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার চেনা ছবিটা। গুজব উড়িয়ে এক ধাক্কায় দ্বিগুণ হয়ে ৩০০০ ঢুকেছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। আর তাতেই খুশির জোয়ারে ভাসল গোটা এলাকার মহিলারা।
 
সরকারের দেওয়া টাকা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে এক সংখ্যালঘু মহিলা বললেন, আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছিল যে মুসলমান মহিলারা নাকি এই ভাতার টাকা পাবেন না। সেই ভয়ে অনেকে অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম ফিলাম করেন নি। কিন্তু আজ আমাদের সব ভুল ভেঙে গেল। জুলাইয়ের শুরুতেই আমাদের এলাকার প্রায় বেশিরভাগ মহিলাই তিন হাজার টাকা করে পেয়ে গেছেন। লক্ষ্মীর ভান্ডারে দেওয়া টাকা একলাফে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় আমাদের সংসার চালাতে অনেকটাই সুবিধে হবে। হাতে টাকা পাওয়ার খুশিতেই আমরা সকলে আবির মেখে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করলাম।
 
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে উচ্ছ্বসিত সংখ্যালঘুরা
 
সংখ্যালঘু মহিলাদের মধ্যে এই উচ্ছ্বাস দেখে বিজেপি কর্মী শাহাজান আলির জানালেন, তৃণমূলের তরফ থেকে প্রচার করা হয়েছিল এই সরকার আসলে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ছাড়া করবে, টাকা কখনোই অ্যাকাউন্টে দেবে না। মানুষের ভুল ভাঙাতে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের বুঝিয়ে ফর্ম ফিলআপ করিয়েছিলাম। আজ তাঁরা বুঝতে পারছে। সত্যটা নিজের চোখে দেখছেন মহিলারা। 
 
পাহাড়পুরের এই ছবি ভেদাভেদ তৈরির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এক জবাব বলা যায়। যে গেরুয়া রঙকে দেখিয়ে এত দিন তৈরি করা হয়েছিল ভেদাভেদের রাজনীতি, সেই গেরুয়া আবিরেই অকাল হোলিতে মাতলেন সংখ্যালঘু মহিলারা। এই দৃশ্য প্রমাণ করল, উন্নয়ন কিন্তু সমাজের কোনো ধর্মের সীমানা মানে না। শোনা যাচ্ছে, প্রতিবেশিরা হাতে কড়কড়ে ৩০০০ টাকা পেয়েছে দেখে এলাকার যে মহিলারা অন্যের কথা শুনে এত দিন আবেদন করেননি, তাঁরাও এখন নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম তুলতে লাইনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।