সুফি সাধকদের বার্তা: শান্তি ও ভালোবাসার ধ্বনি দুই রাজ্য জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 10 h ago
সুফি সাধকদের বার্তা: শান্তি ও ভালোবাসার ধ্বনি দুই রাজ্য জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে
সুফি সাধকদের বার্তা: শান্তি ও ভালোবাসার ধ্বনি দুই রাজ্য জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে
 
আওয়াজ দ্য ভয়েস / নয়াদিল্লি

অল ইন্ডিয়া সুফি সজ্জাদানশীন কাউন্সিলের (এআইএসএসসি) দেশব্যাপী প্রচারাভিযান ‘আমার দেশ, আমার পরিচয়’ এখন দক্ষিণ ভারতে পৌঁছেছে। কাউন্সিলের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল সম্প্রতি তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকে দুই দিনের সফর সম্পন্ন করেছে। এই সফরকালে উভয় রাজ্যের বিভিন্ন শহরে বড় বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানগুলিতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং দেশে ঐক্য বজায় রাখার শপথ নেন।

এই সফরটি শুধু ধর্ম বিষয়ক ছিল না। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের সংবিধান, জাতীয় ঐক্য এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদ, সাঙ্গারেড্ডি, জহিরাবাদ এবং হুমনাবাদে প্রধান অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কর্ণাটকের কালাবুরগি, আলান্দ এবং হালকাটার মানুষও এই অভিযানকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছিল।
 
দেশের নানা প্রান্ত থেকে সুফি সাধকগণ সমবেত হয়েছিলেন

এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটির নেতৃত্ব দেন আজমির দরগাহর প্রধানের উত্তরাধিকারী এবং সর্বভারতীয় সুফি সজ্জাদানশিন কাউন্সিলের সভাপতি হযরত সৈয়দ নাসিরউদ্দিন চিশতী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বেশ কয়েকটি প্রধান দরগাহর প্রধান এবং সুফি আলেমগণ।

এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন উত্তর প্রদেশের বিখ্যাত দরগাহ রুদৌলির সাজ্জাদানশীন হযরত শাহ আহমদ আহমদ সাহেব (নায়ার মিয়ান) এবং জয়পুরের দরগাহ মীর জি কা বাগের সাজ্জাদানশীন জনাব হাবিবুর রহমান নিয়াজি সাহেব।

এই সফরে আরও অংশগ্রহণ করেন গুজরাট থেকে জনাব সৈয়দ আনজুম ফরিদ সাহেব (দরগাহ আম্বেতা শরীফের সজ্জাদানশীন), হায়দ্রাবাদ থেকে জনাব হুসেন খান সাহেব (চিনু বাবা) এবং কর্ণাটক এআইএসএসসি-এর রাজ্য সভাপতি জনাব সৈয়দ আলী জাকি হুসাইনি সাহেব। জাতীয় সমন্বয়কারী জনাব সৈয়দ আব্দুল কাদির কাদরী সাহেব সম্পূর্ণ কর্মসূচিটি সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

সব শহরেই স্থানীয় লোকজন, যুবক ও মহিলারা ফুলের মালা দিয়ে সুফি সাধকদের বিপুলভাবে স্বাগত জানান।

" আমার দেশ, আমার পরিচয়" শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি একটি জাতীয় সংকল্প।

হায়দ্রাবাদ ও কালাবুরগি সহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে হযরত সৈয়দ নাসিরউদ্দিন চিশতী অত্যন্ত সরলতা ও জোরালো বক্তব্যে কথা বলেন। তিনি বলেন যে, ভারতের প্রকৃত শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে নিহিত। সুফি সাধকগণ সর্বদা মানবতাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। আমরা বিশ্বের যেখানেই যাই না কেন, আমাদের পরিচয় হয় শুধুমাত্র ভারতীয় হিসেবে, কোনো ধর্ম বা বর্ণ দিয়ে নয়।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, “আমার দেশ, আমার পরিচয়” কোনো সাধারণ স্লোগান নয়। এটি ভারতের গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ ও শক্তিশালী করার একটি প্রধান আন্দোলন। আজকের সময়ে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সংবিধানকে সম্মান করা এবং দেশের অখণ্ডতার জন্য একসঙ্গে কাজ করা উচিত।

ঘৃণার জবাব ঘৃণা দিয়ে দেওয়া যায় না। সুফি সাধকদের শিক্ষা আমাদের শেখায় যে, সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ভালোবাসার চেয়ে বড় অস্ত্র আর নেই। — হযরত সৈয়দ নাসিরউদ্দিন চিশতী

সমাজকে বিভক্তকারী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সংহতি

অনুষ্ঠান চলাকালীন উত্তর প্রদেশ থেকে হযরত শাহ আহমদ আহমদ সাহেব (নায়ার মিয়াঁ) এবং জয়পুর থেকে জনাব হাবিবুর রহমান নিয়াজী সাহেবও শ্রোতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সমসাময়িক সময়ে সুফি আদর্শের ক্রমবর্ধমান প্রাসঙ্গিকতার ওপর জোর দেন। এমন এক সময়ে যখন কিছু শক্তি সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে, তখন সুফি মাজারগুলো মানুষকে একত্রিত করতে কাজ করছে।

সকল বক্তা যুবকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়ানো ঘৃণা ও উগ্রবাদ থেকে দূরে থাকতে এবং দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
 
 
তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকের এই প্রধান কেন্দ্রগুলিতে কর্মসূচিগুলি অনুষ্ঠিত হয়েছিল

এই দুই দিনব্যাপী সফরকালে সুফি সাধকগণ যে প্রধান স্থানগুলিতে সমবেত হয়েছিলেন, তার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

তেলেঙ্গানা: হায়দ্রাবাদ (ঐতিহাসিক চারমিনার এলাকা), সাঙ্গারেড্ডি, জহিরাবাদ এবং হুমনাবাদ।

 

কর্ণাটক: কালাবুরাগী (খাজা বান্দা নওয়াজের পবিত্র ভূমি), আলন্দ এবং হালকাতা।

 
এই সমস্ত স্থানে একটি বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানগুলো সমাপ্ত হয়। সুফি সাধকগণ এবং হাজার হাজার ভক্ত দেশে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্বের জন্য প্রার্থনায় হাত তোলেন। তাঁরা সর্বসম্মতিক্রমে সমাজে শান্তি বজায় রাখতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।