‘রসগোল্লা খাওয়াব না’, থানা থেকে বেরিয়েই আবার ‘গরম’ হুমায়ুন! ৪ ঘণ্টার জেরার পর থানা থেকে বেরিয়েই খেললেন ‘ভিকটিম কার্ড’?

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
‘রসগোল্লা খাওয়াব না’, থানা থেকে বেরিয়েই আবার ‘গরম’ হুমায়ুন! ৪ ঘণ্টার জেরার পর থানা থেকে বেরিয়েই খেললেন ‘ভিকটিম কার্ড’?
‘রসগোল্লা খাওয়াব না’, থানা থেকে বেরিয়েই আবার ‘গরম’ হুমায়ুন! ৪ ঘণ্টার জেরার পর থানা থেকে বেরিয়েই খেললেন ‘ভিকটিম কার্ড’?
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ

‘আঘাত হলে চুপচাপ হজম করব না’, থানা থেকে বেরিয়ে বলে দিলেন হুমায়ুন কবীর। এরপরই তিনি  ফের হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, আমার কিংবা আমার পার্টির উপর আঘাত হলে আমি চুপচাপ হজম করব না। আমাকে কেউ আঘাত করলে আমি তাঁকে রসগোল্লা খাওয়াব না। আগেও বলেছি। আবার এ কথা বলছি।নওদার বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টি-র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতি এই মুহূর্তে তোলপাড়।
 
২৬ জুনের ‘স্যাঁটা ভেঙে’ দেওয়ার বিতর্কিত মন্তব্য ইতিমধ্যেই বাংলার রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। শেষমেশ হুমায়ুনকে থানায় হাজিরা দিতে হয়েছে এই মন্তব্যের জেরে। শনিবার প্রায় চার ঘণ্টা ধরে রেজিনগর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হতেই থানা থেকে বেরিয়ে হুমায়ুন দাবি করেন, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
 
বিষয়টি তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে, হুমায়ুনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের আঁচ পৌঁছে গেছে বিধানসভার অলিন্দেও। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন হুমায়ুনকে। তারপরই যে রেজিনগর পুলিশ তৎপরতা দেখাতে হতে বাধ্য হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। ইতিমধ্যেই হুমায়ুনের সভার তিন আয়োজককে গ্রেফতার করে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতিফলন দেখিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তবে বিতর্ক চলার মাঝেই হুমায়ুন কবীর থানায় যান। কয়েক ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে ফের চেনা মেজাজেই ধরা দিলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমাকে আঘাত করলে আমি তো রসগোল্লা খাওয়াব না।” বিধায়কের দাবি, তাঁকে বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে ফোন করে বা মেসেজ করে। পুলিশকে এ নিয়েও পদক্ষেপ করতে হবে।
 
তিনি আরও বলেন, ‘‘এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি রাজ্যের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকেও। আইন শুধু হুমায়ুনের জন্য? হুমায়ুন কবীরকে আঘাত করলে রেসপন্স পাওয়া যাবে না পুলিশের। আর হুমায়ুন কবীর যখন পাল্টা কিছু বলবে, তখন হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে তৎপরতা বাড়বে, এটা গণতন্ত্রে চলতে পারে না।’ হুমায়ুন অবশ্য বলেন, “আমাকে যে যে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার উত্তর দিয়েছি। যে মন্তব্যের জন্য এতকিছু, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছি। আগামী ১৪ তারিখ আবার ডাকা হয়েছে, আমি অবশ্যই আসব।”
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই ‘লড়াকু’ ইমেজ হয়ত তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবলকে চাঙ্গা করবে। তবে একটি গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় থেকে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আগামী ১৪ তারিখ ফের হুমায়ুনের হাজিরা নিয়ে নানা মন্তব্য ঘুরছে হুমায়ুনের অনুগামী থেকে রাজনীতির ময়দানে। আইন আর রাজনৈতিক আস্ফালনের দড়ি টানাটানিতে আগামী দিনে মুর্শিদাবাদের আইন-শৃঙ্খলা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলার রাজনৈতিকমহল।


শেহতীয়া খবৰ