আশহার আলম / নয়া দিল্লি
তেলেঙ্গানার ইয়াদাদ্রি ভূবনগিরি জেলায় একটি মসজিদে নৃশংস ভাঙচুরের ঘটনার পর সমাজে উষ্ণতা ছড়িয়েছে এক মানবিক উদ্যোগ। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে এক হিন্দু ব্যবসায়ী এগিয়ে এসে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদটির মেরামতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র।
ইয়াদাদ্রি ভূবনগিরি জেলার জলালপুর গ্রামে এই ঘটনাটি সামনে আসে, যেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মসজিদে ভাঙচুর চালায়। খবরে জানা যায়, মসজিদের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, জানালা ভাঙা হয়েছে, ওয়াশরুমের দরজা নষ্ট করা হয়েছে এবং সাউন্ড সিস্টেমের তারে নাশকতা চালানো হয়েছে। মসজিদের ভেতরে খালি বিয়ারের বোতল পাওয়া গেছে, এমনকি পবিত্র কুরআনের কপিগুলিও ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়।
মসজিদ কমিটির সদস্যরা এ ঘটনায় গভীর হতবাক প্রকাশ করে বলেন, উপাসনালয় সবসময়ই শ্রদ্ধার স্থল হওয়া উচিত। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজেন্দ্র আগরওয়াল, র্যাম কন্ডাক্টর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কমিটি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেরামতের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।
পরবর্তীতে তিনি স্থানটি পরিদর্শন করেন, মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ ও জরুরি সুবিধা পুনরুদ্ধারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। আগরওয়াল জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় স্থানে হামলা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সমাজকে একসঙ্গে হয়ে শান্তি ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সম্প্রদায়ের নেতারা এই উদ্যোগকে প্রশংসা করে বলেন, এটি সামাজিক সম্প্রীতির একটি ইতিবাচক বার্তা। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, এই পদক্ষেপ অঞ্চলটির দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও মিলনের ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে।
তবে কিছু সম্প্রদায় প্রতিনিধি এলাকায় ধর্মীয় স্থাপনা ও উপাসনার প্রচলিত কিছু বিতর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা কর্তৃপক্ষকে ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান।
মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে হিন্দু ব্যবসায়ী রাজেন্দ্র আগারওয়ালের একটি ছবি
স্থানীয় পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর এবং বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে তারা ন্যায়সঙ্গত ও গভীর তদন্ত পরিচালনা করবে।
মেরামত কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই ঘটনা বিভেদ নয় বরং সাম্প্রদায়িক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে দুই সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতারও আহ্বান জানানো হয়েছে।