৪ মাস পর ১৫ লাখের গয়না ফেরত, ফরিদাবাদের কাবাড়িওয়ালা ‘খান সাহেব’-এর সততার দৃষ্টান্ত
নয়াদিল্লি
সততার গল্প আমরা অনেক শুনেছি, কিন্তু বাস্তব জীবনে যখন তা চোখের সামনে সত্যি হয়ে ওঠে, তখন মানুষের ওপর বিশ্বাস আবারও নতুন করে জন্ম নেয়। ফরিদাবাদের এক সাধারণ কাবাড়িওয়ালার অসাধারণ কাজ সম্প্রতি ঠিক এমনই আলো ছড়িয়েছে। চার মাস পর এক কাবাড়িওয়ালা দশ তোলা সোনার গয়না এর আসল মালিকের হাতে তুলে দিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন যে মানবিকতা ও সততা এখনো হারিয়ে যায়নি।
ফরিদাবাদের এই ঘটনাটি, যেখানে এক মুসলিম কাবাড়িওয়ালা শর্মা পরিবারের সেই গয়না ফিরিয়ে দেন, যা ভুল করে কাবাড়ের সঙ্গে চলে গিয়েছিল এবং গোডাউনে পড়ে ছিল। চার মাস ধরে শর্মা পরিবার এই গয়নার অভাবে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এই ঘটনা দ্রুতই আলোচনায় ওঠে আসে এবং নতুন করে আলো ফেলেছে সততার প্রতি মানুষের বিশ্বাসে।
হরিয়ানার ফরিদাবাদে খান সাহেব নামে এক কাবাড় ব্যবসায়ী অসাধারণ সততার পরিচয় দেন। তিনি প্রায় ১০০ গ্রাম সোনার গয়না পুলিশ স্টেশনে জমা দেন এবং ব্যাপক প্রশংসা পান। কাবাড় ব্যবসায়ী চাচা জানান, শর্মা জি কিছুদিন আগে কাবাড় বিক্রি করেন যা গোডাউনে ফেলে রাখা হয়। প্রায় দুই মাস পর তারা ফিরে এসে জানান যে তাদের গয়না হারিয়েছে এবং সন্দেহ করছেন কাবাড়ের সঙ্গেই তা চলে এসেছে। বহু খোঁজাখুঁজির পরও সেটি খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তারা ফিরে যান হতাশ হয়ে।
কাবাড়িওয়ালার কথায়, দু’দিন আগে গোডাউনে জিনিসপত্র যাচাই করার সময় তার নজরে আসে একটি পাত্র। খুলে দেখার পর মনে হলো এটি হয়তো কারও মূল্যবান গয়না, যা ভুল করে কাবাড়ে চলে এসেছে। ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, এতে প্রায় ১০০ গ্রাম সোনা রয়েছে। তিনি তখনই বুঝতে পারেন যে এটি শর্মা জির হতে পারে।
তিনি বলেন, “শর্মা জিকে আমি আগে থেকেই চিনি, তিনি ভালো মানুষ। তাই আমানত তাদের ফেরত দেওয়াই উচিত মনে করেছি।” তিনি আরও জানান, “আমরা হারাম খাই না। পরিশ্রম করেই যা উপার্জন করি, তাতেই সন্তুষ্ট থাকি। সোনার কথা বাড়িতে বলার পর সবাই আমার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় সুখ হলো কারও আমানত তাকে ফিরিয়ে দিতে পারা।”
এই ঘটনা গত বছরের জানুয়ারির। ফরিদাবাদের বাসিন্দা অশোক শর্মা পরিবার নিয়ে কুম্ভমেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বাড়ি ফাঁকা থাকার কারণে চুরির আশঙ্কায় পরিবারের প্রায় ১০ তোলা সোনা একটি পুরনো পাত্রে রেখে কাবাড়ের বস্তার মধ্যে লুকিয়ে রাখেন, যাতে কারও সন্দেহ না হয়।
শর্মা জি ও কাবাড়িওলা খান সাহেব
দীপাবলির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় ঘটে ভুল। দীর্ঘসময় পাত্রটি সেভাবেই বস্তার মধ্যে পড়ে ছিল। দীপাবলির ঝাড়পোঁছের সময় অসাবধানতাবশত সেই বস্তাকে কাবাড় মনে করে খান সাহেবের গোডাউনে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে দীপাবলি পূজার প্রস্তুতির সময়ে গয়না খুঁজতে গিয়ে ঘটনাটি মনে পড়তেই পরিবার ভেঙে পড়ে, যা নিরাপদে রাখতে লুকানো হয়েছিল, সেটিই ভুল করে কাবাড়ে বিক্রি হয়ে গেছে।
কয়েক মাসের দুশ্চিন্তার পর সততা আবারো আশা জাগায়। চার মাসের খোঁজাখুঁজি ও হতাশার পর খান সাহেব গোডাউনে কাবাড়ের স্তুপ ঘাঁটতে গিয়ে সেই পাত্রটি খুঁজে পান এবং দ্রুত খবর দেন। পরে এএসপি জতীশ মালহোত্রার উপস্থিতিতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার গয়না অশোক শর্মা ও তাঁর পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।