রমজানে মুসলিমদের জন্য বিশেষ উদ্যোগে প্রশংসার কেন্দ্র রোহিত প্রকাশ শর্মা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 17 h ago
রমজানে মুসলিমদের জন্য বিশেষ উদ্যোগে প্রশংসার কেন্দ্র রোহিত শর্মা
রমজানে মুসলিমদের জন্য বিশেষ উদ্যোগে প্রশংসার কেন্দ্র রোহিত শর্মা
 
অনিকা মাহেশ্বরী / নয়া দিল্লি 

ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মাঝেও একতার বার্তা বারবার সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ঠিক যেমন কিছুদিন আগে কোটদ্বার শহরে দীপক কুমার শিষ্ঠাচারবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে ওঠেন এবং “সেক্যুলার ভারতের আইকন” হিসেবে পরিচিতি পান। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যা সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের আরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
 
হালদ্বানি-এর বনভুলপুরা এলাকায় বসবাসকারী এক হিন্দু যুবক রোহিত প্রকাশ শর্মা রমজান মাস উপলক্ষে মুসলিম দোকানদারদের রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিম ঐক্য, শান্তি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
 

রমজান হলো ইবাদত, আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক চর্চার বিশেষ সময়। এ সময় মুসলিমরা গভীর রাত পর্যন্ত নামাজ, তারাবিহ এবং সেহরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু এলাকায় প্রচলিত রাত্রিকালীন নিষেধাজ্ঞার কারণে মুসলিমদের ধর্মীয় কার্যক্রমে অসুবিধা দেখা দিচ্ছিল। তাই এলাকার প্রতিনিধিরা ও কাউন্সিলরদের একটি দল প্রশাসনের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার অনুরোধ জানায়। তারা জানান, রমজান মাসে এলাকায় সবসময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে এবং দোকান খোলা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা খুবই কম।
 
প্রতিনিধিদের মতে, রাত্রিকালীন নিষেধাজ্ঞা মানুষের ধর্মীয় পালনকে অকারণে বাধাগ্রস্ত করছে, যা তাঁদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তাই রমজানের সময় বিশেষ ছাড় দিলে মুসলিম সম্প্রদায় নির্বিঘ্নে তাঁদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
 

রোহিত শর্মার এই উদ্যোগ শুধু মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই নয়, বরং ভারতীয় সমাজে এখনও বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর উদ্যোগ প্রমাণ করে যে ভারতের প্রকৃত শক্তি নিহিত আছে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতায়।
 
সবশেষে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে প্রশাসন এই মানবিক ও সম্প্রীতিমূলক আবেদনকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং রমজান মাসে এলাকার মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সমাজ তখনই শক্তিশালী হয় যখন মানুষ একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতি ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। এ ধরনের উদ্যোগই ভারতের সামাজিক ঐক্য ও বহুত্ববাদের প্রকৃত সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।