মুসলিম নারীদের একটি বাক্সে তালাবন্দি গয়নার সঙ্গে তুলনা এবং নারীদের প্রকাশ্য পরিসরে আসাকে ‘বড় ধ্বংসের’ কারণ হতে পারে—এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করলেন মুসলিম ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের আহ্বায়ক ড. শুজাত আলি কাদরি। কান্থাপুরম আবুবকর মুসালিয়ার ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের তুলনা নারীদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা ও অধিকারকে খাটো করে।
ড. কাদরির বক্তব্য, মুসলিম নারীরা কোনও গয়না নন যে তাঁদের মূল্য বজায় রাখতে বাক্সবন্দি করে রাখতে হবে। তাঁদের নিজস্ব মেধা, অধিকার, দায়িত্ব ও সামাজিক ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষা, ব্যবসা, সমাজসেবা, জনজীবনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলিম নারীদের ঐতিহাসিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ইসলামের ইতিহাসের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি হজরত খাদিজা (রা.)-র কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, খাদিজা (রা.) ছিলেন সফল ও সম্মানিত ব্যবসায়ী। একইভাবে হজরত আয়েশা (রা.) ইসলামের প্রাথমিক যুগের অন্যতম বিশিষ্ট জ্ঞানী ছিলেন এবং নারী-পুরুষ উভয়কেই শিক্ষা দিতেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া হজরত নুসাইবা বিনতে কাব (রা.)-এর যুদ্ধক্ষেত্রে ভূমিকা, রুফাইদা আল-আসলামিয়ার চিকিৎসা ও সমাজসেবামূলক কাজ এবং ফাতিমা আল-ফিহরির শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের কথাও তুলে ধরেন ড. কাদরি। মুসলিম ইতিহাসে শাজার আল-দুর ও দিল্লি সালতানাতের রজিয়া সুলতানের মতো নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদাহরণও তিনি সামনে আনেন।
ড. কাদরি বলেন, নারীদের শোষণ, হয়রানি ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই সুরক্ষার নামে তাঁদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাধীনতা বা সামাজিক অংশগ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।
তাঁর কথায়, নারীদের সমস্যার সমাধান তাঁদের ‘বাক্সবন্দি’ করে রাখা নয়; বরং এমন সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে তাঁরা মর্যাদা, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সমান সুযোগ নিয়ে জীবনযাপন করতে পারেন। ধর্মীয় নেতা ও আলেমদেরও নারীদের বিষয়ে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।