নিজের পা অকেজো, তবুও অন্যের জীবন ছোটালেন! ১ টাকার স্বার্থ না দেখে দুলাল লাইয়া যা করলেন তাতে প্রশংসার ঝড় নেটদুনিয়ায়
তরুণ নন্দী / কলকাতা
নিজে চলতে পারে না, তবুও কত বড় মন তাঁর। নিজের উপহারের ট্রাই-সাইকেল অন্য প্রতিবন্ধীকে দিয়ে বারাসাতের ‘সুপারহিরো’ ধূপকাঠি বিক্রেতা দুলাল। শরীর জুড়ে আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা প্রতিবন্ধকতা। বাহ্যিক চেহারা দেখে দুলাল লাইয়া নামে এই যুবকের মানসিকতা বোঝা যাবে না। এই অতিসাধারণ যুবকের বুকের ভিতর যে কতটা বিশাল এক হৃদয় লুকিয়ে ছিল, তা বোধহয় এবার টের পেল নেটদুনিয়া।
শারীরিক কারণে নিজেই চলতে পারেন না, দুবেলা পেটের ভাত জোগাড় করতে লড়তে হয় প্রতিনিয়ত, তবুও নিজের হাতে পাওয়া বহুমূল্য উপহার হেলায় তুলে দিলেন আরেকজন অসহায় মানুষের হাতে। স্বার্থপরতার এই যুগে দাঁড়িয়ে দুলাল দেখিয়ে দিলেন, মানুষের মত মানুষ হতে কোনো বিশেষ পোশাক লাগে না, দরকার শুধু একটা বড় মনের।
ধূপকাঠি বিক্রেতা দুলাল লাইয়া ও ভিক্ষাজীবী প্রতিবন্ধী ভন্দুয়া
সম্প্রতি ‘বাউলি ফ্যাশন’-এর মঞ্চ থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে প্রতিবন্ধী যুবক দুলালের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি নতুন ট্রাই-সাইকেল। যেহেতু নিজে থেকে সাইকেলটি চালাতে পারেনা দুলাল তাই আসপাশের অনেকেই বুদ্ধি দিয়েছিলেন, ট্রাই-সাইকেলটা বেচে দিলে বেশ কিছু টাকা হাতে আসবে তোর হাতে। নানা বুদ্ধি কানে এলেও প্রলোভনের সেই সহজ ফাঁদে পা দেননি দুলাল। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাহনটি তিনি নিজে চালাতে পারবেন না বুঝে, এক মুহূর্ত দেরি না করে সিদ্ধান্ত নেন উপহারের সঠিক ব্যবহার করার।
যেমন ভাবা তেমনি কাজ, নিজের হাত থেকে উপহারটি তুলে দিতে দুলাল বাউলি ফ্যাশনের উদ্যোক্তা দীপ দত্ত ও খুশী দত্তকে সসম্মানে ডেকে আনেন বারাসাতে। তাঁদের উপস্থিতিতেই উপহারের ট্রাই-সাইকেলটি তুলে দিলেন ভন্দুয়া নামের এক নিঃস্ব, ভিক্ষাজীবী প্রতিবন্ধী মানুষের হাতে। বহু দ্বারে ঘুরেও যে সাইকেলের আশ্বাস মেলেনি, এক ধূপকাঠি বিক্রেতার ভালোবাসায় তা পেয়ে কান্না ধরে রাখতে পারেননি ভন্দুয়া ও তাঁর স্ত্রী জ্যোৎস্না দেবী।
দুলালের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের সামনে দাঁড়িয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন ফ্যাশান ডিজাইনার দীপ দত্ত ও খুশী দত্ত। তাঁরা বলেই ফেললেন, গ্ল্যামারের হাজারো আলোর ভিড়ে দুলালের মতো মানুষের এই দরদী রূপই তো আসল সমাজের ছবি।
পিছিয়ে পড়া সমাজের প্রতিনিধি দুলাল লাইয়া যেন বুঝিয়ে দিলেন, আসল পঙ্গুত্ব শরীরে নয়, পঙ্গুত্ব লুকিয়ে থাকে মানুষের সংকীর্ণ অন্য এক অসহায় মানুষের জীবনকে সচল করে দেওয়া দুলাল আজ যেন মানবিকতার এক জীবন্ত সংকেত।