আরবি নয়, সোহা খাতুনের মুখে সংস্কৃত শ্লোক, আর সংস্কৃত গল্পপাঠে তাবাসসুম নজর কাড়ল, নবদ্বীপের স্কুলে ‘সংস্কৃত দিবসে’ আকর্ষনীয় ছবি
তরুণ নন্দী / কলকাতা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সোহা খাতুনের মুখে সংস্কৃত শ্লোক, আর গল্পপাঠ তাবাসসুমের। ছবি ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা কুর্নিশ জানালেন। নদীয়ার নবদ্বীপের স্কুলে ‘সংস্কৃত দিবসে’র অনন্য ছবি উদাহরণ হয়ে রইল। সরকারি নির্দেশিকা মেনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শুরু থেকেই নজর কাড়ে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া সোহা খাতুনের সংস্কৃত শ্লোক পাঠ।
ধর্ম-বর্নের বেড়াজাল পেরিয়ে শিক্ষার যে কোনো সীমানা হয় না, এই বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়ারা তাদের প্রতিভা দিয়ে তা বোধ বুঝিয়ে দিল। 'সংস্কৃত দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্লাস ফাইভের ছাত্রী সোহা খাতুনের সাবলীল সংস্কৃত শ্লোক পাঠের পাশাপাশি তাবাসসুমের সংস্কৃত গল্পপাঠের ছবি এখন নেটদুনিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল।
'সংস্কৃত দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান
এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রার্থনা সভায় ধ্যেয়মন্ত্র ও সুভাষিত পাঠ হয়। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে শিক্ষক থেকে পড়ুয়া সকলের নজর কাড়ে সোহা খাতুন। কোনো রকম জড়তা ছাড়াই সে সাবলীলভাবে বলতে শুরু করে সংস্কৃত শ্লোক। শুনেই মুগ্ধ হয়ে যান উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু উপস্থিত সকলে। অন্যদিকে পঞ্চম শ্রেণির আরেক ছাত্রী তাবাসসুম সংস্কৃত ভাষায় এমন সুন্দরভাবে গল্প পাঠ করল যেন মনে হল এ যেন তাদের বহুদিনের অভ্যস্ত ভাষা।
সোহা বা তাবাসসুমই নয় এদিন পিছিয়ে ছিল না অন্য পড়ুয়াদের প্রতিভাও। চতুর্থ শ্রেণির আসাস ও নাসিম চমৎকার সংস্কৃত কথোপকথন পরিবেশন করে সকলকে চমকে দিয়েছে। আর পঞ্চম শ্রেণির সাকিব ও সোহা দুজনে মিলে সংস্কৃত কবিতা সুন্দর করে আবৃত্তি করে সকলের মন জয় করে নেয়।
'সংস্কৃত দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান
বলা ভালো, পুরো অনুষ্ঠানের সময়টাতেই সংস্কৃত শ্লোক, ছড়া আর গল্পে মুখরিত হয়ে ওঠে বিদ্যালয় চত্বর। পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই উদ্যোগের কারণে সংস্কৃত ভাষার প্রতি ভালোবাসা জন্মেছে এই খুদে পড়ুয়াদের মধ্যে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরণ শেখ আবেগপ্রবণ হয়ে জানালেন, সংস্কৃত ভাষাকে শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় না রেখে নানাভাবে পরিবেশনার মাধ্যমে পড়ুয়াদের সঙ্গে পরিচিত করাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
ছোট বয়স থেকেই যদি কোন ভাষার প্রতি ভালোবাসা জন্মে তবে যেকোনো কঠিন ভাষাই সহজ হয়ে ওঠে। যা বাস্তবে দেখিয়ে দিল পূর্ব মোল্লাপাড়ার এই শিক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বড় কথা হল, সোহা খাতুনের মুখে সংস্কৃত শ্লোক বলার ভিডিও দেখে নেটিজেনরা বলছেন, শিক্ষা ও ভাষার কোনো জাত হয় না।