ধর্ম শেখায় মানবতা, বিচ্ছেদ নয়, বিদ্বেষের রাজনীতি ভেঙে এক মঞ্চে বিশিষ্টরা! সম্প্রীতির নতুন সুর সব ধর্মের প্রতিনিধিদের গলায়

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 1 h ago
ধর্ম শেখায় মানবতা, বিচ্ছেদ নয়, বিদ্বেষের রাজনীতি ভেঙে এক মঞ্চে বিশিষ্টরা! সম্প্রীতির নতুন সুর সব ধর্মের প্রতিনিধিদের গলায়
ধর্ম শেখায় মানবতা, বিচ্ছেদ নয়, বিদ্বেষের রাজনীতি ভেঙে এক মঞ্চে বিশিষ্টরা! সম্প্রীতির নতুন সুর সব ধর্মের প্রতিনিধিদের গলায়
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে ধর্ম কখনো শেখায় না। নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠনে সাহায্য করে। কলকাতার শেক্সপিয়র সরণিতে ‘ধর্মীয় মোর্চা’ আয়োজিত ‘ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড হারমনি’ শীর্ষক আলোচনাচক্র থেকে কার্যত এই সুরেই সুর মেলালেন সমাজের বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে বিভাজনের রাজনীতি সমাজকে খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করছে।
 
তাই এদিনের এই আলোচনাচক্র থেকে সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার এক বলিষ্ঠ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করলেন উপস্থিত ব্যক্তিত্বরা। এদিনের আলোচনা চক্রে উপস্থিত ছিলেন জামাআতে ইসলামি হিন্দের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি প্রফেসর সেলিম ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েস্ট বেঙ্গল পুরোহিত অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ভারগব আচারিয়া, নিউটাউন চার্চের ফাদার গৌরব, বেলুর মঠের পরমানন্দ গিরি মহারাজ, বারাসতের আমানত মসজিদের মুতাওয়াল্লি পার্থ সারথি বসু, লাউডান শনি মন্দিরের বাবা শাহ পণ্ডিত অমিত কুমার ঝা প্রমুখ। 
 
কলকাতার শেক্সপিয়র সরণিতে ‘ধর্মীয় মোর্চা’ আয়োজিত ‘ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড হারমনি’ 
 
আলোচনাচক্রেই জামাআতে ইসলামি হিন্দের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি প্রফেসর সেলিম ইঞ্জিনিয়ার ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বললেন,  ধর্মকে কেন্দ্র করে নানা জায়গায় ঝামেলা তৈরি হয় আর এতেই নষ্ট হয় দেশের ঐক্য। সব মানুষের একটাই পথ হওয়া দরকার, তাহলো ন্যায়,প্রেম,আর অপরকে সম্মান দেওয়া। ধর্মের কাজ সকল মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
 
তিনি আরও বলেন, ভারত প্রাচীন দেশ। আর এই দেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করেন।এমন দেশ বিশ্বের মধ্যে কোথাও নেই। প্রাচীন ভারতের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে অহেতুক বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে ধর্মকে কেন্দ্র করে। এই সমস্যা একমাত্র শিক্ষা ও সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
 
কলকাতার শেক্সপিয়র সরণিতে ‘ধর্মীয় মোর্চা’ আয়োজিত ‘ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড হারমনি’ 
 
এই একই কথাই যেন অন্যভাবে তুলে ধরলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল পুরোহিত অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ভারগব আচারিয়া। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আসলে কোনো বিরোধিতা নেই। কিন্তু কৃত্রিম ইস্যু তৈরি হয়ে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে আঘাত হানার মত ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। সমাজের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা খুবই জরুরী। দেশের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকারগুলোর শতভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি সঠিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
 
বেলুড় মঠের পরমানন্দ গিরি মহারাজ বললেন, সকলকে নিয়ে চলাই হল নেতৃত্ব। যে মাদ্রাসা থেকে পড়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে, সেই মাদ্রাসা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা ঠিক নয়। তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন তিনি। ক্যানসারে আক্রান্ত এই সন্ন্যাসী জানান, কীভাবে ইসলাম ধর্মাবলম্বী ভাইরা তাঁর সংকটে আর্থিক সাহায্য নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। মাদ্রাসা শিক্ষার গুরুত্ব বজায় রেখে তিনি বলেন, বিভেদের চেষ্টার বদলে সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলাই প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত।
 
নিউটাউন চার্চের ফাদার গৌরব দেশে ভ্রাতৃত্ববোধ ক্ষুণ্ন হওয়া থেকে দেশের নাগরিকদের গায়ে অন্যায়ভাবে নানা তকমা সেঁটে দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই আলোচনাচক্রে পার্থ সারথি বসু বলেন, আমি বারাসাতের একটি মসজিদের মুতাওয়াল্লি। নবী দিবসে ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষকে খাইয়েছি।
 
আমি দেখেছি প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে কখনোই ঘৃণা করতে শেখায় না বরং শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। উপস্থিত ব্যক্তিত্বদের কথায়, মানবতা ও সাম্যের শিক্ষা দেয় ধর্ম। এদিন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা বোঝালেন, শিক্ষাব্যবস্থার সঠিক বিকাশ আর ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চাই পারে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করতে।