আজমের শরিফে ১৮তম আন্তর্জাতিক সুফি রং উৎসবের সমাপ্তি, তিন দিনে অংশ নিলেন দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ
আজমের, রাজস্থান:
আজমের শরিফের দরগাহ হজরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-র ঐতিহাসিক মাহফিলখানায় তিন দিনব্যাপী ১৮তম আন্তর্জাতিক সুফি রং উৎসব ২০২৬-এর সমাপ্তি হয়েছে। তিন দিনের এই আয়োজনে দেড় লক্ষেরও বেশি সুফি অনুরাগী, তীর্থযাত্রী ও শিল্পপ্রেমী অংশ নেন। পবিত্র প্রাঙ্গণে তাঁরা প্রত্যক্ষ করেন সুফি শিল্প, জীবন্ত ক্যালিগ্রাফি ও ভক্তিমূলক সংগীতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিশতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাজি সৈয়দ সালমান চিশতি, উৎসবের পরিচালক ড. আজিম এস. মেমন এবং সমন্বয়ক হাজি মাহমুদ আহমেদ শেখ। অনুষ্ঠানের শুরু হয় বিশিষ্ট কাওয়াল আফতাব কাদরি ইন্দোরির হৃদয়স্পর্শী মাহফিল-এ-সামা দিয়ে। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে কেরাত পাঠ করেন সৈয়দ ফুজাইল চিশতি।
সমাপনী বক্তব্যে হাজি সৈয়দ সালমান চিশতি উৎসবে অংশ নেওয়া দর্শক, শিল্পী ও ক্যালিগ্রাফারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা নিজেদের এলাকায় পবিত্র ক্যালিগ্রাফি ও শিল্পচর্চার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং সেই শিল্পকে খাজা গরিব নওয়াজের দরবারে নিয়ে এসেছেন। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম যখন কাগজের উপর স্মরণ ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে কলমের চলন দেখে, তখন তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি হয়—এটাই এই উৎসবের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
সমাপনী অনুষ্ঠানে হলিউড প্রযোজক আর্নো ক্রেমার, আজমের বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট ট্যান্ডন, আনজুমান সৈয়দজাদগান খুদ্দাম-এ-খাজার সম্পাদক সৈয়দ কালিমুদ্দিন চিশতি, প্রবীণ সদস্য সৈয়দ মুনাওয়ার চিশতি, সর্বধর্ম মৈত্রী সংস্থানের সভাপতি প্রকাশ জৈন, শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন এনসিপিইউএলের মোহাম্মদ কাসিম-সহ বিশিষ্ট অতিথিদের সম্মানিত করা হয়।
উৎসবে অংশ নেওয়া প্রায় ৪০ জন শিল্পী ও ক্যালিগ্রাফারকেও উত্তরীয় ও স্মারক দিয়ে সম্মান জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আফতাব কাদরি, আরিব উমর, আমান হুসেন, আহসান শেখ, আকসা খান, আফশা খান, আলফিয়া মদিনা, অনিল কুমার চৌহান, আয়েশা সিদ্দিকা, দারাখশা ফাতিমা, দিলেনুর ফাতিমা, এলিজা রাফাত, হাফিজা তাসনিম, গুল আয়ুবি, গুলশান ফাতিমা, গিয়াসউদ্দিন শেখ, ইমতিয়াজ আনসারি, ইরশাদ আলি বানারসি, জামাল আহমেদ, খুরশিদ আলম, মাদিয়া সুলতানা, মোহাম্মদ রফিক, মুনাওয়ার আজমি, শেখ নিয়াজ আহমেদ, রাজেশ চৌহান, সৈয়দা নাহিদ, সাইকা রশিদ, শাহজাহান, সিরাজউদ্দিন শেখ, বিক্রম রাও, জাফর রাজা খান ও জিয়াউদ্দিন চিশতিসহ অনেকে।
শেষে বিশ্বশান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের জন্য সম্মিলিত দোয়া করা হয়। দোয়ায় নেতৃত্ব দেন জহুর বাবা ও জনাব মুনাওয়ার চিশতি।
উৎসবের মূল বার্তা—“সবার প্রতি ভালোবাসা, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়” (“Love Towards All, Malice Towards None”)—আজমের শরিফের সুফি ঐতিহ্যের মানবতা, সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতার বার্তাকেই আরও একবার সামনে তুলে ধরল।