শ্রীকৃষ্ণের বাঁশিতে ‘সুরূদ-এ-রব্বানি’: আল্লামা ইকবালের ভাবনা ও কবিতায় কৃষ্ণ-কানাইয়ার বিশেষ স্থান

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 19 h ago
শ্রীকৃষ্ণের বাঁশিতে ‘সুরূদ-এ-রব্বানি’: আল্লামা ইকবালের ভাবনা ও কবিতায় কৃষ্ণ-কানাইয়ার বিশেষ স্থান
শ্রীকৃষ্ণের বাঁশিতে ‘সুরূদ-এ-রব্বানি’: আল্লামা ইকবালের ভাবনা ও কবিতায় কৃষ্ণ-কানাইয়ার বিশেষ স্থান
 
গৌস শিবানী 

মুহাম্মদ আল্লামা ইকবালের চিন্তাভাবনা ও কবিতায় শ্রীকৃষ্ণের একটি বিশেষ স্থান ছিল। ইসলামী দর্শনকে শক্তিশালীভাবে কবিতায় প্রকাশ করা এই কবি কৃষ্ণ-কানাইয়ার দ্বারাও গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। কৃষ্ণের আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক উত্তরাধিকারের প্রতিফলন তাঁর লেখাতেও দেখা যায়।প্রকৃতপক্ষে, ইকবাল যেমন বিখ্যাতভাবে ভগবান রামকে ‘ইমাম-এ-হিন্দ’ (ভারতের নেতা) হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, তেমনই তিনি কৃষ্ণের বাঁশিকে ‘সুরূদ-এ-রব্বানি’ (ঐশ্বরিক সঙ্গীত) বলে উল্লেখ করেছিলেন।

যদিও ইকবালকে ব্যাপকভাবে ‘ইসলামের কবি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাঁর বৌদ্ধিক দিগন্ত কোনও একটি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের সীমার মধ্যে আবদ্ধ ছিল না। তিনি বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি এবং দার্শনিক ঐতিহ্য অধ্যয়ন করেছিলেন এবং সেগুলির মধ্যে যে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রজ্ঞার সন্ধান পেয়েছিলেন, তা স্বীকার করেছিলেন। যেখানে তিনি মানবতা, আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা ও সত্যের প্রতিফলন ঘটানো কোনও ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন, সেখানেই তিনি সেই ভাবনার সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী হয়েছেন এবং তাকে সম্মান জানিয়েছেন। এই বিস্তৃত বৌদ্ধিক কাঠামোর মধ্যেই শ্রীকৃষ্ণ হিন্দু ধর্মের সেইসব ব্যক্তিত্বের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছিলেন, যাঁদের প্রতি ইকবাল বিশেষ শ্রদ্ধা পোষণ করতেন।
 
অর্জুনের সারথি হিসেবে ভগবান কৃষ্ণ
 
শ্রীকৃষ্ণ কে?
 
শ্রীকৃষ্ণকে বিষ্ণুর দশ অবতারের মধ্যে অষ্টম অবতার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিষ্ণু বিভিন্ন মহাজাগতিক যুগে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন অশুভ শক্তির বিনাশ এবং ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য। হিন্দু ধর্মে তিনি অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন, শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব ভারতীয় সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, সংস্কৃতি ও দর্শনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। কোটি কোটি মানুষের কাছে কৃষ্ণ প্রেম, প্রজ্ঞা, আধ্যাত্মিকতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিনি মথুরায় বাসুদেব ও দেবকীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
 
কৃষ্ণের শৈশবের কাহিনিগুলি ভারতীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। তাঁর বাঁশির সুর, গোপীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং রাধার সঙ্গে তাঁর বন্ধন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কবি, সঙ্গীতশিল্পী ও শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছে। এই ঐতিহ্যগুলির আরও গভীর আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। কৃষ্ণ ও রাধার প্রেমকে প্রায়শই ব্যক্তিসত্তার আত্মা এবং পরমাত্মার মধ্যকার সম্পর্কের রূপক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
 
কৃষ্ণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক ভূমিকা মহাভারতের সঙ্গে যুক্ত। মহাযুদ্ধে তিনি পাণ্ডবদের সমর্থন করলেও নিজে অস্ত্র ধারণ করেননি। পরিবর্তে তিনি অর্জুনের সারথি হয়েছিলেন এবং কর্তব্য, নৈতিকতা, জীবন ও আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে তাঁকে শিক্ষা দিয়েছিলেন। এই শিক্ষাগুলিই হিন্দু ধর্মের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ধর্মগ্রন্থ ‘ভগবদ্গীতা’-র মূল বিষয়। কৃষ্ণের প্রভাব ধর্মীয় গ্রন্থের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর বিস্তৃত। তাঁকে কেন্দ্র করে অসংখ্য বই, কবিতা, নাটক, গান ও শিল্পকর্ম সৃষ্টি হয়েছে। জন্মাষ্টমী ভারতজুড়ে এবং বিশ্বের আরও বহু প্রান্তে উদযাপিত হয়।
 
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ইকবালের শ্রদ্ধা
 
ইকবাল শ্রীকৃষ্ণকে শুধুমাত্র একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেননি; বরং তাঁকে এমন এক আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক, শিক্ষক ও চিন্তাবিদ হিসেবে দেখেছিলেন, যাঁর প্রভাব ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে গড়ে তুলেছিল। তাঁর লেখায় কৃষ্ণের শিক্ষা এবং মানবজীবনে তার প্রাসঙ্গিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।
 
ইকবালের শ্রদ্ধার অন্যতম স্পষ্ট প্রকাশ পাওয়া যায় তাঁর ‘বাং-এ-দারা’ কাব্যগ্রন্থের ‘সর্গুজশ্ত-এ-আদম’ রচনায়। এখানে ইকবাল কৃষ্ণের বাঁশিকে ‘সুরূদ-এ-রব্বানি’, অর্থাৎ ঐশ্বরিক সঙ্গীত, হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর সঙ্গে হিন্দভূমিতে পৌঁছে যাওয়া এক আধ্যাত্মিক বার্তার সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
 
মুহাম্মদ আল্লামা ইকবাল
 
ইকবাল লিখেছেন: “হিন্দে এসে [তিনি] সুরূদ-এ-রব্বানি বাজালেন।” (উর্দু থেকে অনূদিত) এই বাক্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কৃষ্ণের বাঁশিকে ‘সুরূদ-এ-রব্বানি’ বলে অভিহিত করার মাধ্যমে ইকবাল এর সুরকে একটি ঐশ্বরিক বার্তার বাহন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বাঁশি এখানে কৃষ্ণের আধ্যাত্মিক শিক্ষার রূপক হয়ে ওঠে এবং তার সুরে পথনির্দেশ, সত্য, প্রেম ও মানবতার ভাবনা প্রতিফলিত হয়।
 
এটি ভারতকে গভীর আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের ভূমি হিসেবে ইকবালের উপলব্ধিকেও প্রতিফলিত করে। এমন এক ভূমি, যেখানে সাধু, নবী, সুফি ও সংস্কারকদের শিক্ষা দীর্ঘদিন ধরে মানবতার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে অবদান রেখে এসেছে। একটি মাত্র কাব্যিক অভিব্যক্তির মধ্যে ইকবাল এভাবেই আরও বৃহৎ একটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক আখ্যানকে সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন।
 
ইকবালের অন্যান্য লেখাতেও কৃষ্ণের দর্শনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সম্পৃক্ততার আরও প্রমাণ পাওয়া যায়। ‘আসরার-এ-খুদি’-র ভূমিকায় তিনি লিখেছেন: “আসরার-এ-খুদি, যা শ্রীকৃষ্ণ, শ্রী রাম এবং রামানুজ উন্মোচন করার চেষ্টা করেছিলেন, শ্রীশঙ্করের যুক্তির মোহে আবার আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছিল; ফলস্বরূপ, শ্রীকৃষ্ণের অনুসারীরা সেই নবজাগরণের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।”
 
এই অংশটি ভারতীয় ধর্মীয় ও দার্শনিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ইকবালের বৌদ্ধিক সম্পৃক্ততার প্রতিফলন। তিনি কৃষ্ণ, রাম ও রামানুজকে এমন ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যাঁরা কর্ম, প্রেম এবং মানুষ ও পরম সত্তার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক জীবন্ত আধ্যাত্মিক সত্যকে উন্মোচন করার চেষ্টা করেছিলেন।
 
ইকবালের সমালোচনা ছিল তাঁর দৃষ্টিতে অতিরিক্ত বিমূর্ত বৌদ্ধিকতার ওপর। তাঁর মতে, আধ্যাত্মিক সত্য যখন জীবন, কর্ম এবং নৈতিক দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন তার রূপান্তরকারী শক্তি হারিয়ে যায়। এই ধারণার সঙ্গে তাঁর নিজের ‘খুদি’ বা আত্মসত্তার দর্শনের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। এই দর্শনে নিষ্ক্রিয় বৌদ্ধিক চিন্তনের পরিবর্তে প্রাণশক্তি, কর্ম, নৈতিক সাহস এবং মানব ব্যক্তিত্বের সক্রিয় বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
 
কৃষ্ণ সম্পর্কে ইকবালের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লিখতে গিয়ে ড. মুহাম্মদ নাফিস হাসানও তাঁর চিন্তার এই দিকটির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে কৃষ্ণের শিক্ষা, বিশেষত গীতায় প্রতিফলিত শিক্ষা, প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও কর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত।
 
কৃষ্ণ ও গোপীদের পাহাড়ি মিনিয়েচার চিত্রকলা
 
‘আসরার-এ-খুদি’-র ভূমিকায় ইকবাল লিখেছেন: “শ্রীকৃষ্ণের নাম সর্বদা শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হবে। এই মহান ব্যক্তিত্ব তাঁর দেশ ও সমাজের দার্শনিক ঐতিহ্যের সমালোচনা করেছিলেন এক শক্তিশালী পদ্ধতিতে এবং এই সত্যকে স্পষ্ট করেছিলেন যে কর্ম ত্যাগ করাই প্রকৃত ত্যাগ নয়; কারণ কর্ম প্রকৃতির দাবি এবং জীবনের স্থিতিশীলতা তার ওপরই নির্ভরশীল। বরং কর্মের ত্যাগ বলতে কর্ম এবং তার ফল, উভয়ের প্রতিই সম্পূর্ণ অনাসক্তির অবস্থাকে বোঝায়।”
 
হাসান ‘সর্গুজশ্ত-এ-আদম’-এ কৃষ্ণের বাঁশি সম্পর্কে ইকবালের বর্ণনাও উল্লেখ করেছেন: “হিন্দে এসে তিনি ঐশ্বরিক সুর (সুরূদ-এ-রব্বানি) বাজালেন।” এই উল্লেখটি ড. মুহাম্মদ নাফিস হাসানের ‘ফিকর-এ-ইকবাল কে মাশরিকি মাসাদির’ (ইকবালের চিন্তার প্রাচ্য উৎস), ১৪২ নম্বর পৃষ্ঠায় পাওয়া যায়।
 
কৃষ্ণের শিক্ষার প্রতি ইকবালের আগ্রহের আরও একটি প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর মহারাজা কিশন প্রসাদ শাদের কাছে লেখা একটি চিঠিতে। সেখানে ইকবাল ‘ভগবদ্গীতা’কে উর্দুতে অনুবাদ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
 
ইকবালের কাছে কৃষ্ণের গুরুত্ব ধর্মীয় পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তিনি কৃষ্ণকে প্রেম, ভ্রাতৃত্ব এবং আধ্যাত্মিক সংযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। ইকবালের দর্শনে প্রেম এমন এক শক্তি, যা মানুষকে ঈশ্বরের কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং একই সঙ্গে ঘৃণা ও বিভেদকে অতিক্রম করতে সাহায্য করে। তাই ইকবালের পক্ষে কৃষ্ণকে একজন সর্বজনীন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা সম্ভব হয়েছিল, নিজের ইসলামী পরিচয়কে কোনওভাবেই খর্ব না করে।
 
নেতা হিসেবে কৃষ্ণ
 
সামাজিক জাগরণ এবং আত্মপরিচয় ইকবালের কবিতায় বারবার ফিরে আসা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি এমন ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা করতেন, যাঁরা অবক্ষয়ের সময়ে সমাজকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং নৈতিক ও বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণের পথে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই ইকবাল কৃষ্ণকে এমন একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেছিলেন, যিনি ভারতীয় সমাজকে আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক শক্তিতে সমৃদ্ধ করেছিলেন।
 
কৃষ্ণের সঙ্গে ইকবালের সম্পৃক্ততা বিশ্লেষণ করতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ‘ভগবদ্গীতা’-র প্রসঙ্গ সামনে আসে, যেখানে অর্জুনের প্রতি কৃষ্ণের শিক্ষাগুলি সংকলিত হয়েছে। ইকবাল ‘আসরার-এ-খুদি’-র ভূমিকায় গীতা এবং এর ভাষ্যগুলির উল্লেখ করেছেন। তিনি গীতার কর্ম, দায়িত্ব এবং আত্মসংযমের ওপর গুরুত্বারোপের মধ্যে মানব চরিত্রের বিকাশে সহায়ক কিছু ধারণা দেখতে পেয়েছিলেন।
যদিও ইকবালের ‘খুদি’-র দর্শনের শিকড় ইসলামী চিন্তায় প্রোথিত ছিল, তিনি স্বীকার করেছিলেন যে ভারতীয় দার্শনিক ঐতিহ্যের মধ্যেও এমন কিছু ধারণা রয়েছে, যা আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিকাশে অবদান রাখতে পারে।
 
ইকবাল ও ধর্মীয় সহনশীলতা

কৃষ্ণ সম্পর্কে ইকবালের লেখাগুলি ভারতের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর বৃহত্তর বৌদ্ধিক সম্পৃক্ততারই একটি অংশ। তিনি ভগবান রাম, গুরু নানক, স্বামী রাম তীর্থ, গৌতম বুদ্ধ এবং আদি শঙ্করাচার্যের মতো ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও শ্রদ্ধার সঙ্গে লিখেছেন। একই সঙ্গে কৃষ্ণকেও তিনি ভারতের অন্যতম মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
 
তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নির্বিচারে সবকিছু গ্রহণ করার ছিল না। বরং তিনি নিজের বৌদ্ধিক ও দার্শনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ভাবনাকে বিচার করেছেন এবং যেখানে প্রজ্ঞার সন্ধান পেয়েছেন, সেখানেই তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এমন এক সময়ে, যখন ধর্মীয় ও সামাজিক পার্থক্য প্রায়ই উত্তেজনা ও বিভেদের কারণ হয়ে ওঠে, কৃষ্ণের প্রতি ইকবালের এই দৃষ্টিভঙ্গি বৌদ্ধিক উদারতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
 
তাঁর লেখাগুলি দেখায় যে অন্য ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অর্থ নিজের বিশ্বাস পরিত্যাগ করা নয়। একজন মানুষ নিজের ধর্মে শিকড় গেড়ে থেকেও অন্যদের আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। ইকবালের কাছে শ্রীকৃষ্ণ শুধুমাত্র ভারতের ধর্মীয় অতীতের একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন না। তিনি ছিলেন প্রেম, জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা এবং জাতীয় ও নৈতিক জাগরণের সম্ভাবনার প্রতীক।
 
কৃষ্ণের বাঁশিকে ‘সুরূদ-এ-রব্বানি’ বলে তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন সম্ভবত সেই প্রশংসার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী প্রকাশ। একই সঙ্গে এটি ইকবালের বৌদ্ধিক উত্তরাধিকারের অন্যতম আকর্ষণীয় দিককে তুলে ধরে, ধর্মীয় সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে সত্য, আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং মানবতাকে একসূত্রে বাঁধা অভিন্ন মূল্যবোধের সন্ধান করার ক্ষমতা।


শেহতীয়া খবৰ