আগরতলার পথে পথে ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুসে ভেসে উঠল ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা—হাজারো মানুষের কণ্ঠে নবীপ্রেম, হৃদয়ে শান্তির প্রার্থনা।

Story by  Nurul Haque | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 45 m ago
আগরতলার পথে পথে ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুসে ভেসে উঠল ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা—হাজারো মানুষের কণ্ঠে নবীপ্রেম, হৃদয়ে শান্তির প্রার্থনা।
আগরতলার পথে পথে ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুসে ভেসে উঠল ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা—হাজারো মানুষের কণ্ঠে নবীপ্রেম, হৃদয়ে শান্তির প্রার্থনা।
 
নূরুল হক,আগরতলা,

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বুধবার আগরতলায় অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য জুলুস ও শোভাযাত্রা। ইন্দ্রনগর মাজার শরীফের সামনে থেকে সকালেই শুরু হয় এই বিশাল শোভাযাত্রা। শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই জুলুসে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রায় ছিল ধর্মীয় পতাকার পাশাপাশি দেশের জাতীয় পতাকা। ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা বিভিন্ন ব্যানার ও পতাকা হাতে অংশ নেন বহু মানুষ। মাথায় টুপি ও পাগড়ি পরা ছোট ছোট শিশুরা ছিল জুলুসের অন্যতম আকর্ষণ। সুসজ্জিত গাড়ির উপর মক্কা ও মদিনা শরীফের প্রতিকৃতি শোভা পায়। গাড়ি, বাইক এবং পায়ে হেঁটে বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

শোভাযাত্রার শুরুতেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, সম্প্রীতি, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।জুলুসকে কেন্দ্র করে আগরতলা শহরের বিভিন্ন রাস্তার দু’পাশে উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পুরুষদের পাশাপাশি বহু মহিলা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শোভাযাত্রা দেখেন। গোটা শহরজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

ধর্মীয় শোভাযাত্রা
 
এদিকে বিশাল এই ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আরক্ষা প্রশাসন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং শোভাযাত্রার গতিপথে নজরদারি রাখা হয়। শান্তিপূর্ণভাবেই শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে জুলুসটি।পরবর্তীতে ইন্দ্রনগর গাউছিয়া সমিতির মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শোভাযাত্রার সমাপ্তি হয়। সেখানে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ঈদে মিলাদুন্নবীর এই বিশেষ আয়োজন।

এর আগে ঈদে মিলাদুন্নবীকে সামনে রেখে গত রবিবার ইন্দ্রনগর গাউছিয়া সমিতি ও সৈয়দ ইউসুফ শাহ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে বস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ও সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। ইন্দ্রনগর গাউছিয়া সমিতির মসজিদ প্রাঙ্গণের ‘বাগে হুদা’ হলঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের শতাধিক মানুষের হাতে বস্ত্র ও মিষ্টির প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল বারিক, সাধারণ সম্পাদক শের আলী, নজরুল ইসলাম কাদেরী, জনাব আলী, নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে মসজিদ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।সাংবাদিক সম্মেলনে আয়োজকরা জানিয়েছিলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মানবতা, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এবারের ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুসের আয়োজন। সেই ঘোষণার পর বুধবার বাস্তব রূপ পেল বহুল প্রতীক্ষিত এই শোভাযাত্রা।
 
শোভাযাত্রায় ধর্মীয় পতাকার পাশাপাশি দেশের জাতীয় পতাকা
 
আয়োজকদের বক্তব্য, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে এবারের ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুস আগরতলা শহরে সম্প্রীতির এক সুন্দর বার্তা তুলে ধরল।