ইসলাম ও বিজ্ঞান কি পরস্পরবিরোধী? ইতিহাস বলছে, জ্ঞান ও বিশ্বাসের পথ আসলে একই

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 3 h ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
সাকিব সেলিম 

জনপ্রিয় আলোচনায় প্রায়ই ধর্ম, বিশেষ করে ‘ইসলাম ও যুক্তি’কে দুটি পরস্পরবিরোধী পথ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ইসলামের বৌদ্ধিক ঐতিহ্য গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে দেখা যায়, ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান স্বাভাবিকভাবে কখনও পরস্পরের বিরোধী ছিল না। ঐতিহাসিক বিবরণ, ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনা এবং সমসাময়িক গবেষণা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট যে, বিজ্ঞানকে কখনও ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা কোনও ধর্মনিরপেক্ষ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা হয়নি। বরং, আধ্যাত্মিক ভক্তি এবং ঈশ্বরের সৃষ্টিকে বোঝার স্বাভাবিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বিজ্ঞানকে গ্রহণ করা হয়েছিল।

ইতিহাসবিদ এহসান মাসুদ উল্লেখ করেছেন, ধ্রুপদী আরবি ভাষায় আজকের অর্থে ‘Science’ বা ‘বিজ্ঞান’-এর জন্য পৃথক কোনও শব্দ ছিল না। এর পরিবর্তে পণ্ডিতরা ‘ইলম’ (Ilm) শব্দটি ব্যবহার করতেন, যার অর্থ ‘জ্ঞান’। এই ধারণার পরিসরের মধ্যে ‘প্রাকৃতিক জগতের জ্ঞানের পাশাপাশি ধর্ম এবং অন্যান্য বিষয়ের জ্ঞান’ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ধ্রুপদী অর্থে ‘ইলম’ শব্দটি ব্যবহার করা চিন্তাবিদরা এটিকে এই কথার প্রমাণ হিসেবে দেখেন যে, বিজ্ঞান ও বিশ্বাস একই মুদ্রার দুটি পিঠ।
 

অধ্যাপক আলী উনাল এবং এম জি আল-ফান্দি এই ধারণাটি বোঝাতে ‘দুটি বই’-এর একটি চিরন্তন উপমা ব্যবহার করেছেন। তুরস্কের মহান চিন্তাবিদ সাইদ নুরসির চিন্তাধারার ওপর আলোকপাত করে আলী উনাল ভৌত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ‘সৃষ্টির কোরআন’ এবং পবিত্র গ্রন্থকে ‘লিখিত কোরআন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর যুক্তি, “একটি অট্টালিকা এবং সেই অট্টালিকার বর্ণনা করে লেখা একটি কাগজের টুকরোর মধ্যে যেমন কোনও বিরোধ থাকতে পারে না, ঠিক তেমনই এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এবং কোরআনের মধ্যেও কোনও বিরোধ থাকতে পারে না।”
 
আল-ফান্দিও স্বাধীনভাবে একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডও কোরআনের পাশাপাশি ‘আল্লাহর দুটি বই’-এর একটি। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে হজরত মহম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ প্রথম কথাগুলির। কোরআনের সূরা ৯৬:১–৩-এ তাঁকে ‘পড়তে’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আলী উনাল যেমন উল্লেখ করেছেন, সেই সময়ে ‘পড়ার মতো কোনও লিখিত বই ছিল না’। তাই এই নির্দেশকে আল্লাহর সৃষ্ট বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নিয়ম ও রহস্য অধ্যয়ন করার আহ্বান হিসেবেও বোঝা যায়।
 
আরবি ভাষার ব্যাকরণও এই ধারণাকে একটি বিশেষ অর্থ প্রদান করেছে। কোরআনের একটি আয়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘আয়াহ’ (Ayah) শব্দটিই মানুষের অন্তরে ঘটা বিভিন্ন ঘটনা এবং প্রকৃতির জগতে দেখা বিভিন্ন নিদর্শন বা অলৌকিক চিহ্নের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এই অর্থে প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করা, অধ্যয়ন করা এবং বোঝার চেষ্টা করাও এক অর্থে আল্লাহর নিদর্শনগুলিকে ‘পড়া’র মতো।
 
প্রতীকী ছবি
 
যখন ইসলামের এই দৃষ্টিভঙ্গি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছিল, তখন ভারত এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ধ্রুপদী ইসলামি বৈজ্ঞানিক জাগরণ কোনও শূন্যতার মধ্যে গড়ে ওঠেনি। এর বিকাশের ক্ষেত্রে প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিতদের সমৃদ্ধ জ্ঞান ও অবদান থেকে যথেষ্ট শিক্ষা ও প্রেরণা গ্রহণ করা হয়েছিল।
 
অষ্টম শতকে খলিফা আল-মানসুরের শাসনকালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল-ফাজারি প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিত ব্রহ্মগুপ্ত রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ ‘ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত’ আরবি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। এই গ্রন্থটি পরবর্তীকালে ‘সিন্দহিন্দ’ নামে পরিচিত হয়। এহসান মাসুদ উল্লেখ করেছেন, এই অনুবাদের মাধ্যমেই “প্রথমবারের মতো ভারতীয় সংখ্যা আরব জগতে প্রবেশ করেছিল।”
 
নবম শতকের গণিতবিদ তথা বীজগণিতের (Algebra) অন্যতম জনক আল-খোয়ারিজমি এই জ্ঞানের ভিত্তির ওপর নিজের কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ভারতীয় সংখ্যা নিয়ে তাঁর লেখা গ্রন্থটি স্থান-মূল্যভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি (Positional System)-কে সুদৃঢ় রূপ দিয়েছিল, যা বহু শতাব্দী পরে ইউরোপে প্রচলিত হয়।
 
প্রতীকী ছবি
 
মাসুদ আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, “পশ্চিমা বিশ্ব যেগুলিকে ‘আরবি সংখ্যা’ বলে, আরবি ভাষায় সেগুলিকে ‘ভারতীয় সংখ্যা’ (আল-আরকাম আল-হিন্দিয়া) বলা হয়।”
 
গণিতের এই জ্ঞান আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈপ্লবিক পরিবর্তন ছিল ‘শূন্য’-এর ধারণা। রোমান সংখ্যা পদ্ধতিতে শূন্যের কোনও স্থান ছিল না। কিন্তু ইসলামি গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরবর্তী প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ক্ষেত্রেই শূন্যের ধারণা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল। আল-খোয়ারিজমি ব্রহ্মগুপ্তের মতো প্রাচীন ভারতীয় গণিতবিদদের জ্ঞানকে ইউক্লিডের মতো গ্রিক চিন্তাবিদদের জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করে একটি নতুন বৌদ্ধিক পরম্পরা গড়ে তুলেছিলেন।
 
একশো বছর পর বিদ্বান আল-বিরুনি ভারতীয় সভ্যতা ও বিজ্ঞানের ওপর তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাব-উল-হিন্দ’ (India) রচনা করেন। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন শহরের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কাজ করেছিলেন। আল-বিরুনির কাছে প্রাকৃতিক জগত এবং বিদেশি সভ্যতাগুলির অধ্যয়ন করাও এক অর্থে ঈশ্বরের ইবাদত বা উপাসনার সমান ছিল।
 
আধুনিক বিজ্ঞানী মহম্মদ আব্দুস সালাম
 
মুজাফফর ইকবালের গ্রন্থে মেহদি গোলশানি লিখেছেন, আল-বিরুনির মতে, যিনি সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্য করতে চান, তাঁকে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড অধ্যয়ন করতে হবে এবং জানার চেষ্টা করতে হবে যে, এটি চিরন্তন নাকি এটি সৃষ্টি করা হয়েছে। কারণ এই ধরনের অনুসন্ধানের মাধ্যমেই এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকারী সেই পরম সত্তাকে জানার পথ উন্মুক্ত হয়।
 
এমন এক বৌদ্ধিক পরিবেশে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও আবিষ্কারকে কখনও ধর্মবিরোধী বা কুফর বলে গণ্য করা হয়নি। আল-ফান্দি উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমা ইতিহাসে ১৬১৬ সালে কপার্নিকাসের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ধারণাকে সমর্থন করার জন্য গ্যালিলিওর বিরুদ্ধে বিচার করা হয়েছিল এবং তাঁকে নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু ইসলামি ইতিহাসে এ ধরনের নির্যাতনের উদাহরণ দেখা যায় না। তাঁর ভাষায়, মুসলিম দেশগুলিতে এ ধরনের অভিযোগ বা নির্যাতনের কোনও ঘটনা ঘটেনি।
 
যদি ইসলাম ও বিজ্ঞানের অতীত এতটাই সমন্বয়পূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে দুটির মধ্যে দূরত্ব কেন দেখা দিল? ভারতের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক নথিপত্র দেখায় যে, আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি যে বিরোধিতা দেখা দিয়েছিল, তা মূলত ধর্মীয় নীতি-নিয়মের কারণে হয়নি। বরং এর পেছনে প্রধানত ছিল ঔপনিবেশিক রাজনীতি এবং ব্রিটিশ শাসনের প্রতি বিরোধিতা।
 
প্রতীকী ছবি
 
যখন ব্রিটিশ আধিকারিকরা আরবি ও ফারসি ভাষার শিক্ষা সরিয়ে ইংরেজি শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন, তখন স্যার সৈয়দ আহমদ খান একটি বৈজ্ঞানিক সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তিনি আলিগড়ে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, ‘আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ (AMU) প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করেন।
 
স্যার সৈয়দ প্রাথমিক ইসলামি অনুবাদকদের অমুসলিমদের জ্ঞান গ্রহণের উদাহরণ তুলে ধরে আধুনিক শিক্ষার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আর গ্রিকরা (ইউনানিরা) ঈশ্বরকেও বিশ্বাস করত না; তবুও আমাদের পণ্ডিতরা তাদের জ্ঞান অধ্যয়ন করেছিলেন।”
 
যেখানেই আধুনিক বিজ্ঞানের বিরোধিতা দেখা গিয়েছিল, তার সঙ্গে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরও সম্পর্ক ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের একটি দেশীয় রাজ্যের শাসক নবাব আলিউদ্দিন দূরবীন (টেলিস্কোপ) ব্যবহার করতে অস্বীকার করে বলেছিলেন, “দূরবীনের ফলাফলে অনেক বিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকে... পৃথিবীর সমস্ত দূরবীনের প্রমাণ একসঙ্গে এলেও আমি নবীর বলা একটি শব্দের বিরুদ্ধে সেই প্রমাণ গ্রহণ করব না।” তাঁর এই মনোভাবকে কেবল বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের বিরোধিতা হিসেবে না দেখে, বিদেশি শাসনের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবেও বোঝা যায়।
 
প্রতীকী ছবি
 
একইভাবে, প্লেগ মহামারির সময় ভারতীয় মুসলমানরা ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর আস্থা রেখেছিলেন। এই চিকিৎসা পদ্ধতি “ইবন সিনার কানুন ফিৎ-তিব্ব এবং নবীর ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা (তিব্বে নববি)-এর সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে” গড়ে উঠেছিল। সেই সময়ে ব্রিটিশদের পরিচালিত টিকাকরণ অভিযানের বিরুদ্ধে যে বিরোধিতা দেখা গিয়েছিল, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করার কারণে ছিল না; বরং ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতি রাজনৈতিক বিরোধিতার সঙ্গেও এর সম্পর্ক ছিল। এহসান মাসুদ লিখেছেন, ঔপনিবেশিক যুগে বিজ্ঞানের কণ্ঠ “শাসকের তরবারির ধার-এর সঙ্গে বাঁধা পড়ে গিয়েছিল।”
 
বিশ্বাস ও বুদ্ধিবৃত্তির এই সমন্বয়ের ধারা আধুনিক যুগেও অব্যাহত ছিল। এর একটি জীবন্ত উদাহরণ হলেন পাকিস্তানি পদার্থবিজ্ঞানী মহম্মদ আব্দুস সালাম, যিনি ১৯৭৯ সালে স্টিভেন ওয়েইনবার্গের সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। সালাম ছিলেন একজন ধর্মবিশ্বাসী মুসলমান, অন্যদিকে ওয়েইনবার্গ ছিলেন একজন দৃঢ় নাস্তিক। মাসুদ লিখেছেন, “একজন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সঙ্গে তিনি কী বিষয় অনুসন্ধান বা অধ্যয়ন করছেন, তার কোনও সম্পর্ক নেই।”
 
সালাম সেইসব ধর্মীয় নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যাঁরা বৈজ্ঞানিক শিক্ষাকে উপেক্ষা করতেন। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ধর্মীয় ভাষণ ও উপদেশে বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে উৎসাহিত করা হয় না কেন, যখন পবিত্র গ্রন্থ কোরআনের এক-অষ্টমাংশেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে? এর উত্তরে তাঁকে বলা হয়েছিল, ধর্মীয় বক্তারা শুধু ইবন সিনার সময়কার বিজ্ঞানই জানেন।
 
প্রতীকী ছবি
 
আজও ভারতে এই পরম্পরা মহম্মদ জাকি কিরমানি, মহম্মদ রিয়াজ কিরমানি, এম কলিমুর রহমান এবং আরও বহু পণ্ডিতের মাধ্যমে জীবন্ত রয়েছে। তাঁরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও নৈতিকতার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় স্থাপন করা যায়, সেই বিষয়ে নিরন্তর চিন্তা ও আলোচনা করে চলেছেন। মহম্মদ জাকি কিরমানি জোর দিয়ে বলেছেন, “সুতরাং ইসলামি বিজ্ঞান একই সঙ্গে বিজ্ঞানও এবং নৈতিকতাও।”
 
বিজ্ঞান ও ইসলামের মধ্যকার এই আলোচনা কোনও কঠোর চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং এটি একটি জীবন্ত বৌদ্ধিক পরম্পরার প্রতিফলন। আল-ফান্দির মতো পণ্ডিতরা কোরআনের ‘বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা’র ওপর গুরুত্ব আরোপ করার বিপরীতে জিয়াউদ্দিন সরদারের মতো সমসাময়িক চিন্তাবিদরা আধুনিক বিজ্ঞানের তথাকথিত নিরপেক্ষতার অন্তর্নিহিত দার্শনিক ধারণাগুলি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক করেছেন।
 
এই সমস্ত ঐতিহাসিক ও আধুনিক বিবরণ প্রমাণ করে যে, তা ধ্রুপদী পরিভাষাই হোক, প্রাচীন ভারতীয় গণিতের গ্রন্থগুলির আরবি অনুবাদই হোক, স্যার সৈয়দ আহমদ খানের শিক্ষামূলক সংস্কারই হোক, অথবা আধুনিক নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের কাজই হোক, বিজ্ঞানকে ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়নি। বরং এটিকে সবসময় ধর্মীয় কর্তব্যের একটি পবিত্র সম্প্রসারণ হিসেবে বোঝা হয়েছে, এমন এক অনুসন্ধান হিসেবে, যেখানে ঈশ্বরের সৃষ্টির দুটি বই, কোরআন ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মধ্য দিয়ে সত্যকে অনুসন্ধান করা হয়।