বিশ্বকর্মার আরাধনায় ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে সম্প্রীতির বার্তা, প্রতিমা কাঁধে নিয়ে পূজামণ্ডপে সাংবাদিক জাকির হোসেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা

Story by  Nurul Haque | Posted by  Aparna Das • 6 h ago
বিশ্বকর্মার আরাধনায় ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে সম্প্রীতির বার্তা, প্রতিমা কাঁধে নিয়ে পূজামণ্ডপে সাংবাদিক জাকির হোসেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা
বিশ্বকর্মার আরাধনায় ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে সম্প্রীতির বার্তা, প্রতিমা কাঁধে নিয়ে পূজামণ্ডপে সাংবাদিক জাকির হোসেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা
 
নূরুল হক / আগরতলা

ধর্মের পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবিকতার পরিচয় এক। সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এই বার্তাই যেন প্রতি বছরের মতো এবারও নিজের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তুলে ধরলেন ত্রিপুরার তরুণ সাংবাদিক জাকির হোসেন। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনায় ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের ছবি ফের নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের।
 
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত জাকির হোসেনকে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মের বিভিন্ন উৎসবেও তার অংশগ্রহণ সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।
 

এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ত্রিপুরার একটি সংবাদ ভবনে বিশ্বকর্মা পূজার আয়োজনকে ঘিরে প্রস্তুতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন তিনি। পূজার পরিকল্পনা, প্রতিমা সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রসাদ সামগ্রী কেনাকাটা, মণ্ডপ প্রস্তুত করা এবং প্রসাদ বিতরণ, প্রতিটি কাজেই তাকে সামনে থেকে অংশ নিতে দেখা যায়।
 
বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বাজার থেকে বিশ্বকর্মার প্রতিমা সংগ্রহ করে নিজের কাঁধে তুলে সংবাদ ভবনে নিয়ে আসার দৃশ্য। এরপর নিজেই প্রতিমাটি পূজার আসনে নিয়ে যান তিনি। তার সঙ্গে পূজার প্রস্তুতিতে সামিল ছিলেন সংবাদ ভবনের কর্তৃপক্ষের অরিন্দম দে, অভিষেক দে, প্রাণগোপাল আচার্য, সুব্রত দেবনাথ-সহ অন্যরা।
 
জাকির হোসেনের এই অংশগ্রহণ অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। কখনো রাতের অন্ধকারে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নর্দমায় পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, আবার কখনো অন্য ধর্মের এক প্রসূতি মাকে রক্ত দিয়ে মানবিকতার নজির গড়েছেন বলে জানা যায়।
 
ত্রিপুরার তরুণ সাংবাদিক জাকির হোসেন
 
একইভাবে রমজান ও ঈদের সময় মুসলিম ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে নামাজে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তাকে ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করতেও দেখা যায়। সরস্বতী পূজা এবং বিশ্বকর্মা পূজাতেও তার অংশগ্রহণ প্রতিবছরই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
 
বিশ্বকর্মা পূজার দিন সংবাদ ভবনে তার এই সক্রিয় অংশগ্রহণ যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, উৎসবের আনন্দ কোনো একটি ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও মানবিকতার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে সম্প্রীতির সমাজ।
 
ধর্মের ভিন্নতা পেরিয়ে একই উৎসবে একসঙ্গে কাজ করার এই ছবি তাই শুধু একটি পূজার প্রস্তুতির দৃশ্য নয়, বরং ত্রিপুরার সামাজিক সম্প্রীতির একটি ইতিবাচক বার্তাও বহন করছে।


শেহতীয়া খবৰ