প্রায় ৮০০ কলাগাছের 'বেড়া উৎসবে' সম্প্রীতির অপরূপ দৃশ্য মুর্শিদাবাদে! নবাবী আমলের এই 'আলোকিত' উৎসবে এক হয় হিন্দু-মুসলিম সকলে

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
প্রায় ৮০০ কলাগাছের 'বেড়া উৎসবে'  সম্প্রীতির অপরূপ দৃশ্য মুর্শিদাবাদে! নবাবী আমলের এই 'আলোকিত' উৎসবে এক হয় হিন্দু-মুসলিম সকলে
প্রায় ৮০০ কলাগাছের 'বেড়া উৎসবে' সম্প্রীতির অপরূপ দৃশ্য মুর্শিদাবাদে! নবাবী আমলের এই 'আলোকিত' উৎসবে এক হয় হিন্দু-মুসলিম সকলে
 
তরুণ নন্দী, কলকাতা

নবাবী আমলের ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির আলোকমালায় ভাসবে ভাগীরথী। মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক 'বেড়া উৎসব'-কে ঘিরে এখন চলছে তুমুল উন্মাদনা। লৌকিক বিশ্বাসের অপূর্ব মেলবন্ধনে সেজে উঠছে ঐতিহাসিক পীঠস্থান মুর্শিদাবাদ। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬  হতে চলেছে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী 'বেড়া উৎসব'।
 
কেউ কেউ আবার একে 'খোজা খিজির উৎসব' বলে থাকেন। ভাগীরথীর বুকে আলোকময় করে জলদেবতা পির খাজা খিজিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই নবাবী প্রথাকে ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছে ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সব মানুষদের মধ্যে উন্মাদনা।
 
 'বেড়া উৎসব'
 
জনশ্রুতি রয়েছে, বাংলার রাজধানী স্থানান্তরের পর জলপথে যাতায়াতের সময় বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পেতে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ এই উৎসবের সূচনা করেছিলেন। অনেকে বলে থাকেন, নদীমাতৃক বাংলার আবহমান সংস্কৃতির অঙ্গ এই উৎসব মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঢাকা কিংবা ময়মনসিংহের মতো অঞ্চলেও পালিত হয়ে আসছে। নদী ও জলের সঙ্গে জীবিকার সন্ধানে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা মাঝি-মাল্লা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরাও বিশ্বাস করেন,  ডাকলে বিপদ থেকে রক্ষা করেন পির খোয়াজ।
 
একটু নজর দিলে দেখা যাবে, উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো সুবিশাল 'বেড়া'। প্রায় ৮০০টি কলাগাছের ভেলা, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি সুদৃশ্য এই কাঠামো রঙিন কাগজে সাজিয়ে সুন্দর রূপ দেওয়া হয়। ভাগীরথীর তীরে এখন চলছে এই বেড়া তৈরির শৈল্পিক কর্মযজ্ঞের ব্যস্ততা।
 
 'বেড়া উৎসব'
 
প্রথা অনুযায়ী, কলাগাছ দিয়ে তৈরি বিশাল ভেলা বা ‘বেড়া’ সাজিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ভাগীরথীর বুকে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। উৎসবকে ঘিরে থাকবে আতশবাজির আয়োজনও। তার আগেই উৎসবস্থলে শুরু হয়ে গিয়েছে বেড়া তৈরির প্রাথমিক কাজ।
 
একের পর এক কলাগাছ এসে জমা হচ্ছে নির্দিষ্ট স্থানে। ঐতিহ্যের এই উৎসবকে ঘিরে মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বড় তোরণও। শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসবের প্রস্তুতি দেখতে উৎসুক হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটকরাও। 
 

সব ছাপিয়ে এই উৎসবের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, সম্প্রীতির ছবি। ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মুর্শিদাবাদ সহ অনান্য জেলার সর্বস্তরের মানুষ এই লৌকিক উপচারে শামিল হন। নদীমাতৃক বাংলার এই প্রাচীন লোকসংস্কৃতি যেন দেখিয়ে দেয়,  বিশ্বাস ও সংস্কৃতির শিকড় কতটা গভীর হলে শতাব্দী পেরিয়েও এমন মেলবন্ধন অটুট থাকে। নবাবী আমলের সেই ঐতিহ্যবাহী আলোয় মোড়া ভাগীরথীর জলরাশি দেখতে এখন থেকেই প্রহর গুনছেন উৎসুক মানুষেরা।