৩২ বছরের নিষ্ঠাবান পরিষেবার স্বীকৃতি, ‘অতি উৎকৃষ্ট সেবা পদক’ পেলেন পুণের পুলিশকর্মী রাজাস শেখ

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
৩২ বছরের নিষ্ঠাবান পরিষেবার স্বীকৃতি, ‘অতি উৎকৃষ্ট সেবা পদক’ পেলেন পুণের পুলিশকর্মী রাজাস শেখ
৩২ বছরের নিষ্ঠাবান পরিষেবার স্বীকৃতি, ‘অতি উৎকৃষ্ট সেবা পদক’ পেলেন পুণের পুলিশকর্মী রাজাস শেখ
 
ভক্তি চালক

গভীর অন্ধকার রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা, জনমানবহীন এবং মোবাইল নেটওয়ার্কহীন বো্পদেব ঘাট। সেই জায়গাতেই ঘটেছিল ভয়াবহ গণধর্ষণের ঘটনা। শুধু মহারাষ্ট্র নয়, গোটা দেশের নজর ছিল এই অপরাধের তদন্তের দিকে। তদন্তের শুরুতে কোনও সূত্রই যখন পুলিশের হাতে ছিল না, তখন শুধু অভিযুক্তের পরনে থাকা টি-শার্টের সূত্র ধরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আর এই জটিল মামলার কিনারা করেছিলেন পুণে সিটি পুলিশ বাহিনীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর রাজাস শেখ।
 
৩২ বছরের সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশি পরিষেবায় রাজাস শেখ একের পর এক উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন। তাঁর এই নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর তাঁকে ‘অতি উৎকৃষ্ট সেবা পদক’ প্রদান করেছে। এই সম্মানের মাধ্যমে পুণে পুলিশের মুকুটে যুক্ত হয়েছে আরও একটি গৌরবের পালক।
 
‘আওয়াজ-দ্য ভয়েস’-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানান রাজাস শেখ। তিনি বলেন, “সেদিন হঠাৎ আমার এক বন্ধু ফোন করে ভারত সরকারের ‘অতি উৎকৃষ্ট সেবা পদক’ পাওয়ার খবরটি দেয়। দু’মিনিটের জন্য আমার মন আবেগে ভরে গিয়েছিল এবং চোখে জল এসে গিয়েছিল। এত বছর ধরে যে পরিশ্রম ও পরিষেবা দিয়ে এসেছি, অবশেষে তার স্বীকৃতি পেলাম।”
 
পুণে সিটি পুলিশ বাহিনীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর রাজাস শেখ
 
খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা থেকে পুলিশ বাহিনীতে
 
১৯৯৫ সালে পুণে সিটি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন রাজাস শেখ। খাকি পোশাকের প্রতি প্রবল আকর্ষণ এবং ইউনিফর্ম পরে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার তীব্র ইচ্ছাই তাঁকে পুলিশ বিভাগে আসতে অনুপ্রাণিত করেছিল। স্নাতক হওয়ার পর এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ থেকে ফোন পাওয়ার পর তিনি পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমবারের চেষ্টাতেই পুলিশ বাহিনীতে নির্বাচিত হন তিনি।
 
রাজাস নিজেও একজন দক্ষ ক্রীড়াবিদ। লং জাম্প, হাই জাম্প ও ট্রিপল জাম্পের মতো অ্যাথলেটিক্সে তিনি ছিলেন পারদর্শী। পাশাপাশি জাতীয় স্তরের ভলিবল খেলোয়াড়ও ছিলেন তিনি। খেলাধুলার এই অভিজ্ঞতার কারণে শারীরিক পরীক্ষায় তাঁকে কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। পড়াশোনার ওপর ভরসা করে লিখিত পরীক্ষাতেও ভালো নম্বর পান এবং মেধা তালিকায় জায়গা করে নেন।
 
প্রথমদিকে পুলিশ সদর দফতরের স্টোররুম ও রিজার্ভ আর্মারি বিভাগে হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সেখানে পুণে শহরের সমস্ত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও পুলিশি ইউনিফর্মের হিসাব সংরক্ষণ এবং সরবরাহের দায়িত্ব ছিল তাঁর। পরে ২০০২ সালে তাঁকে ট্রাফিক শাখায় বদলি করা হয়। সেই সময় পুলিশ বিভাগে প্রিপেইড অটো-রিকশার নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। স্নাতক হওয়ার কারণে তাঁকে সেই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি)-এর দফতরেও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
 
তদন্তকারী দলে প্রবেশ
 
প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বদলির নিয়ম অনুযায়ী রাজাস শেখকে ওয়ানোভরি থানায় বদলি করা হয়। সেখান থেকেই প্রকৃত অর্থে শুরু হয় তাঁর অপরাধ শনাক্তকরণের যাত্রা। পুলিশ বাহিনীতে কাজের মাধ্যমে সমাজে ক্রমবর্ধমান অপরাধ দমনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুরু থেকেই বেশ কয়েকজন দক্ষ সিনিয়র পুলিশ আধিকারিককে পরামর্শদাতা হিসেবে পেয়েছিলেন রাজাস শেখ। তাঁদের দিকনির্দেশনায় এগিয়ে চলেন তিনি।
 
ওয়ানোভরি থানায় থাকাকালীন খুন, চুরি ও অপহরণের মতো বিভিন্ন অপরাধের অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত ও কঠিন মামলাটি ছিল মাসালকার নামে এক ব্যক্তির করা ট্রিপল মার্ডার। নিজের মা, স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নৃশংসভাবে খুন করেছিল সে। গোটা সংবাদমাধ্যমের নজর ছিল এই মামলার দিকে। পরিবারের এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি দেখে সকলেই মনে করেছিলেন, ওই ব্যক্তি কোনওভাবেই খুনি হতে পারেন না। কিন্তু রাজাস শেখের তীক্ষ্ণ নজর তাঁর সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে।
 
সিনিয়র আধিকারিকদের কাছে নিজের সন্দেহের কথা জানানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে রাজাস শেখ বলেন, “প্রথমে সিনিয়র বলেছিলেন, ‘যার মা, স্ত্রী এবং সন্তান মারা গিয়েছে, তাকে আবার কেন জিজ্ঞাসাবাদ করছ?’ কিন্তু আমার মনে প্রবল সন্দেহ ছিল। আমরা তাঁকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং জানতে পারি, প্রেমিকাকে বিয়ে করার জন্য সে এই ষড়যন্ত্র করেছিল। পরে আদালত ওই অপরাধীকে কঠোর শাস্তি দেয়।”
 
‘বীর’ মেলায় নিখোঁজ শিশুর সন্ধান
 
ওয়ানোভরির পর কনধওয়া থানায় বদলি হলেও সেখানেও তদন্তকারী দলের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যান তিনি। অত্যন্ত দরিদ্র এক রাজমিস্ত্রির ছোট শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল। কয়েকজন ব্যক্তি ওই শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ শুধু ধনী মানুষের জন্য কাজ করে, এই ধারণাকে রাজাস শেখ ও তাঁর দল ভুল প্রমাণ করেছিলেন।
 
দিন-রাত তল্লাশি চালিয়ে মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তাঁরা শিশুটির সন্ধান পান। শিশুটিকে পুণে জেলার বীর গ্রামের বড় ম্হাসকোবা মেলায় ভিক্ষা করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ সেখানে গিয়ে নিরাপদে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং তার মায়ের হাতে তুলে দেয়।
 
সেই আবেগঘন মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে রাজাস বলেন, “ওই মা যখন নিজের শিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করেছিলেন, সেই মুহূর্তটি আমাকে জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি দিয়েছিল। অন্য কোনও বড় অপরাধের সমাধান করেও আমি যে তৃপ্তি পেয়েছি, তার চেয়েও অনেক বেশি ছিল সেই তৃপ্তি।”
 
আন্তঃরাজ্য এটিএম চুরি চক্র
 
২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে একই জায়গা থেকে দু’বার এটিএম মেশিন চুরির ঘটনা ঘটে। একই জায়গা থেকে পরপর দু’বার এটিএম চুরি হওয়ায় সিনিয়র আধিকারিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে রাজাস শেখ ও তাঁর দল তদন্ত শুরু করেন।
 
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা টানা নয় দিন সিসিটিভি ফুটেজ অনুসরণ করেন। পুণে থেকে শুরু করে সাংলি জেলার কিরলোস্করওয়াড়ি পর্যন্ত তাঁরা ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। নবম দিনে এক অভিযুক্তের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় এবং তাঁর অবস্থান অনুসরণ করে পুলিশ ওসমানাবাদে পৌঁছয়। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জানা যায়, চক্রের অন্য সদস্যরা কর্ণাটক-মহারাষ্ট্র সীমান্তের বেলগাভিতে রয়েছে। সেখানে পৌঁছে গোটা চক্রকে গ্রেফতার করা হয়।
 
চোরেরা যে পদ্ধতিতে এটিএম মেশিন চুরি করত, তা দেখে পুলিশও হতবাক হয়ে গিয়েছিল। তারা নিজেদের মতো করে ট্রলি, পুলি এবং স্লাইডার তৈরি করেছিল। পুলির সাহায্যে এটিএম মেশিনটি বাঁধা হতো, সামনে টায়ার রাখা হতো এবং ধাক্কা দিয়ে মেশিনটিকে এমনভাবে ফেলা হতো, যাতে স্লাইডারের মাধ্যমে সেটি সরাসরি গাড়ির ভিতরে চলে যায়। গাড়ির ভিতরে চালক ও এক পাশের একটি আসন ছাড়া গোটা পিছনের অংশ সম্পূর্ণ খালি রাখা হতো। এই চক্রের মাধ্যমে সাতারা, সাংলি, কোলহাপুর ও ওসমানাবাদ এলাকায় সংঘটিত ১৯টি অপরাধের কিনারা করে রাজাস শেখের দল।
 
পরে ক্রাইম ব্রাঞ্চে বদলি হয়ে অ্যান্টি-নারকোটিক্স সেলে কাজ করার সময় এমডি ড্রাগস ও গাঁজা পাচারকারীদের একটি বড় চক্রের পর্দাফাঁস করেন তিনি। নাইজেরিয়ান প্রতারণা এবং এটিএম ক্লোনিংয়ের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদেরও গ্রেফতার করে জেলে পাঠান তিনি।
 
 
 
আইপিএস আধিকারিকের আলিঙ্গন
 
বো্পদেব ঘাটের গণধর্ষণের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ঘাটে ফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যেত না, কোনও সিসিটিভিও ছিল না। এমনকি অভিযুক্তরা নিজেদের এবং নির্যাতিতাদের মোবাইল ফোনও ফ্লাইট মোডে করে দিয়েছিল। তদন্তের জন্য পুলিশের হাতে একটি সূত্রও ছিল না।
 
রাজাস শেখ দিন-রাত পরিশ্রম করে ফুটেজ খতিয়ে দেখতে থাকেন। একটি ঝাপসা ছবিতে অভিযুক্তের টি-শার্টে একটি হোটেলের নির্দিষ্ট প্রতীক দেখা যায়। সেই একটি সূত্র আঁকড়ে ধরে তিনি দ্রুত ওই হোটেলের সন্ধান বের করেন এবং মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মালিক তাঁর কর্মীকে শনাক্ত করেন এবং পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার দুই সহযোগীর সঙ্গে মিলে অপরাধ করার কথা স্বীকার করে।
 
সফল তদন্তের সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রাজাস শেখ বলেন, “তদন্ত শেষ হওয়ার পর আইপিএস পদমর্যাদার এক অত্যন্ত সিনিয়র আধিকারিক আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। সিনিয়র আধিকারিকরা সাধারণত কাউকে জড়িয়ে ধরেন না। কিন্তু সেদিন আমার মনে হয়েছিল, আমার কাজ সত্যিই মূল্য পেয়েছে।”
 
‘গরিবের অমিতাভ’
 
রাজাস শেখের আদি গ্রাম পুরন্দর তালুকার ভিওয়াড়ি। এই গ্রামের রয়েছে বিপ্লব ও আত্মসম্মানের এক গৌরবময় ইতিহাস। প্রাথমিক বিপ্লবী উমাজি নায়েক ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন, তাতে গোটা গ্রাম অংশ নিয়েছিল। সেই কারণেই গ্রামটিকে ‘বানাচি ভিওয়াড়ি’ অর্থাৎ ‘বিদ্রোহের ভিওয়াড়ি’ বলা হয়।
 
নিজের গ্রামের মাটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাজাস শেখ বলেন, “আমার ভিওয়াড়ির মাটির মধ্যে এক আলাদা ধরনের মানসিকতা রয়েছে। সেই একই মানসিকতাকে সঙ্গে নিয়ে আজ পর্যন্ত নির্ভয়ে পুলিশ বিভাগে কাজ করে চলেছি।”
 
এই কাজের ধরন এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতার কারণে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র আধিকারিকরা স্নেহ করে তাঁকে ‘গরিবের অমিতাভ বচ্চন’ বলে ডাকতেন। নিজে অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করা এবং অন্য কারও সঙ্গে অন্যায় হতে না দেওয়া, এই নীতিই তিনি এতদিনের পরিষেবায় অনুসরণ করেছেন এবং সারা জীবন তা মেনে চলবেন বলে জানিয়েছেন।
 
অপরাধস্থল পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও তাঁর একটি নির্দিষ্ট কাজের ধরন রয়েছে। তিনি বলেন, “অপরাধস্থলে গিয়ে যদি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়, তাহলে ১০০ শতাংশ একটি সূত্র পাওয়া যায়। সেই একটি সূত্র ধরে এগোতে পারলে সাফল্য অবশ্যই পাওয়া যায়, এটাই আমার অভিজ্ঞতা।”
 
মায়ের উপহার শিক্ষা
 
রাজাস শেখের পরিবার ছিল অত্যন্ত দরিদ্র। ছয় ভাই-বোনের পরিবার। তাঁর বাবা-মা কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং তাঁদের সব সন্তানকে পড়াশোনা করিয়েছেন। বর্তমানে পাঁচ ভাই-বোনই স্নাতক। বড় বোনের অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু মায়ের কঠোর পরিশ্রমই বাকি সন্তানদের জীবন গড়ে দেয়।
 
তাঁর বড় ভাই দিলাওয়ার মুলানি টাটা মোটর্সে কর্মরত ছিলেন। বোন আবেদা মুলানি প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে অবসর নিয়েছেন। আরেক বোন জামিলা মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে কাজ করেছেন এবং ভাই কাদার মুলানি পুণে জেলা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষক হিসেবে অবসর নিয়েছেন।
 
মায়ের শিক্ষার প্রতি জোর দেওয়ার কথা স্মরণ করে রাজাস শেখ বলেন, “আমার মা নিরক্ষর ছিলেন। কিন্তু হাতে লাঠি নিয়ে আমাদের পড়তে বসাতেন। তিনি বলতেন, শিক্ষা ছাড়া জীবনে কোনও মুক্তি নেই। এখন অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠকের ধারণা এসেছে। কিন্তু তখন প্রতি সোমবার মা যখন সাসওয়াদ বাজারে আসতেন, তখন আমাদের স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে আমাদের পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইতেন।”
 
আজও রাজাস শেখ তাঁর ভাই-বোনদের সঙ্গে যৌথ পরিবারে থাকেন। তাঁর স্ত্রী নাজমা ওয়াদিয়া কলেজের স্নাতক। বড় মেয়ে এমআইটি থেকে বি.টেক করেছেন। ছোট মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছে এবং সেও পুলিশ আধিকারিক হতে চায়।
 
জীবনযাপন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য
 
দীর্ঘ ৩২ বছরের পরিষেবা জীবনে রাজাস শেখ ২৮০টিরও বেশি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশের ‘কোয়ালিটি সার্ভিস মেডেল’ পেয়েছেন এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে দুটি সম্মানপত্রও পেয়েছেন। এছাড়াও ১৫ থেকে ২৫ বছরের নিষ্কলঙ্ক পরিষেবার জন্য দেওয়া ‘এক্সেলেন্ট সার্ভিস মেডেল’ এবং ২৫ বছরের বেশি পরিষেবার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া ‘মোস্ট এক্সেলেন্ট সার্ভিস মেডেল’-এও সম্মানিত হয়েছেন তিনি।
 
নিজের নিষ্কলঙ্ক পরিষেবা সম্পর্কে দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, “আজ পর্যন্ত আমার পরিষেবাকালে একজন মানুষও যদি বলতে পারেন যে আমি ঘুষ নিয়েছি, তাহলে বলুন। মানুষের কাজ যদি নিয়ম মেনে হাসিমুখে করে দেওয়া যায়, তাহলে কোনও চাপ থাকে না। প্রত্যেকেরই নিজের কাজকে সবসময় উপভোগ করা উচিত।”
 
পুলিশের কাজের নির্দিষ্ট সময় নেই, ফলে তাঁদের জীবনযাপন অনেকটাই চাপপূর্ণ। তবে কাজের সঙ্গে নিজের স্বাস্থ্য ও জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে রাজাস প্রতিদিন শুধু বাড়িতে তৈরি খাবার খান। তিনি শরীরচর্চা করেন, প্রাণায়াম করেন এবং সকালে ৪০-৪৫ মিনিট ধ্যান করেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখেন।
 
তরুণ প্রজন্মকে মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে রাজাস বলেন, “একটি লক্ষ্য স্থির করুন এবং সেই লক্ষ্যের দিকে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করে যান। ধারাবাহিকতা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা আপনাকে অবশ্যই আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।”


শেহতীয়া খবৰ