ধর্মের পরিচয় আলাদা, কিন্তু মানবিকতার বন্ধন সবার ঊর্ধ্বে। দুর্গোৎসবের আনন্দের আবহে ত্রিপুরার সোনামুড়ায় সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার এমনই এক অনন্য নজির গড়লেন তিন হিন্দু যুবক। পথ ভুল করে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এসে পৌঁছনো ১২ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে শুধু খাবার খাইয়েই আশ্বস্ত করেননি তাঁরা, পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপদে তার অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছেন। তাঁদের এই মানবিক উদ্যোগ মন জয় করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জানা গিয়েছে, আগরতলার রাধানগরের বাসিন্দা মহরম আলীর ছেলে ওসমান মিয়া (১২) সোনামুড়ার রাঙ্গামাটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। অষ্টমীর দিন বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে দিক ভুল করে ফেলে সে। পরিচিত রাস্তা খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সোনামুড়ার গরুরবান্দ এলাকার একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে গিয়ে আশ্রয় নেয় ওই কিশোর।
মণ্ডপে অপরিচিত ও অসহায় অবস্থায় কিশোরটিকে দেখে এগিয়ে আসেন কয়েকজন হিন্দু যুবক। তার উদ্বেগ বুঝতে পেরে প্রথমেই খাবারের ব্যবস্থা করেন তাঁরা। পুজোর মণ্ডপে প্রসাদ-সহ অন্যান্য খাবার দিয়ে স্নেহের সঙ্গে তার খোঁজখবর নেন। এরপর কিশোরটির পরিচয় ও পরিস্থিতি বুঝে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তাঁরা।
বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে পুলিশের সাহায্য নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহযোগিতায় ওসমানকে নিরাপদে তার অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সন্তানের খোঁজে উদ্বিগ্ন পরিবারের কাছে এই উদ্যোগ যে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, মিলন ও শুভশক্তির আরাধনা। সেই উৎসবের মঞ্চেই তিন যুবকের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিল, সম্প্রীতি শুধু কথার বিষয় নয়, তা বাস্তবে প্রকাশ পায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। এক অসহায় শিশুকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখা, তার খাবারের ব্যবস্থা করা এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে তাঁদের মানবিকতা ধর্মীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
সোনামুড়ার এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর কোনও ধর্মীয় পরিচয় লাগে না। মানবতাই সবচেয়ে বড় পরিচয়, আর সহমর্মিতাই সম্প্রীতির সবচেয়ে শক্তিশালী সেতু।