৩৭৫ বছরের ঐতিহ্যে সম্প্রীতির আলো! দেবীকে পথ দেখান সংখ্যালঘুরা, চাঁচল রাজবাড়ির দুর্গোৎসবে ধর্মের বেড়া ভাঙে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 18 h ago
৩৭৫ বছরের ঐতিহ্যে সম্প্রীতির আলো! দেবীকে পথ দেখান সংখ্যালঘুরা, চাঁচল রাজবাড়ির দুর্গোৎসবে ধর্মের বেড়া ভাঙে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন
৩৭৫ বছরের ঐতিহ্যে সম্প্রীতির আলো! দেবীকে পথ দেখান সংখ্যালঘুরা, চাঁচল রাজবাড়ির দুর্গোৎসবে ধর্মের বেড়া ভাঙে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

৩৭৫ বছরের ঐতিহ্য বজায় রেখে আজও দেখা যায় মালদার চাঁচল রাজবাড়ির দুর্গোৎসবে সম্প্রীতির অনন্য নজির। দশমীতে লণ্ঠন হাতে পথ দেখান সংখ্যালঘুরা। যা গোটা বাংলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রাচীন রীতি মেনে মহাসপ্তমীর ভোরে সিংহবাহিনীকে নিয়ে যাওয়া হল মালদার চাঁচল রাজবাড়ি থেকে পাহাড়পুরের চণ্ডীমন্দিরে। ঢাকের বোল আর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হল প্রাচীন এই পরম্পরা। ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের এই ছবিটা তুলে ধরে বছরের পর বছর ধরে এই পুজো ধরে রেখেছে তার প্রাচীন গরিমা। 
 
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা রীতি মেনেই মহাসপ্তমীর ভোরে রাজকীয় শোভাযাত্রায় সিংহবাহিনী মা দুর্গাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাহাড়পুরের চণ্ডীমন্দিরে। চাদির পাখা, সোনার ছাতা ও ঝাড়ু-সহ নানা রাজকীয় উপকরণে সাজানো এই শোভাযাত্রা দেখতে ভোর থেকেই রাস্তার দুধারে ভিড় জমে যায়।
 

ইতিহাসের নানা ঘটনাকে সাক্ষী রেখে ৩৭৫ বছরের এই প্রাচীন পুজো আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছে চাঁচল রাজবাড়ি। এই দুর্গোৎসবের প্রকৃত মাহাত্ম্য হল মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে আজও মজুত করে তোলে। যার সম্প্রীতির শিকড় ছড়িয়েছে বছরের পর বছর ধরে।
 
চাঁচল রাজবাড়ির দুর্গোৎসবের সবচেয়ে আকর্ষনীয় দৃশ্য দেখা যায় দশমীর বিসর্জনের সময়। শোনা যায়, গোধূলিলগ্নে মহানন্দার সতীঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ লণ্ঠনের আলো দেখিয়ে দেবীমা-কে পথ দেখান।
 
চাঁচল রাজবাড়ির দুর্গোৎসব
 
বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই রীতি যেন ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা বহন করে চলেছে। হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বুঝিয়ে দেয় উৎসবের আনন্দ কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের সীমানায় আটকে রাখা যায় না। উৎসবের আনন্দে মানুষে মানুষে এই ভালোবাসাই হয়ে ওঠে সম্প্রীতির বড় উদাহরণ।
 
নানা সময়ে যখন ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে নানা আলোচনা সামনে আসে, তখন চাঁচল রাজবাড়ির দুর্গোৎসবের এই ছবি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এখানে সম্প্রীতি এই ছবিটা কিন্তু দীর্ঘদিনের সামাজিক পরম্পরার অংশ। রাজবাড়ির পুজোকে কেন্দ্র করে সর্ব ধর্মের মানুষের সমাগমে তৈরি হয় এক অনন্য সামাজিক আবহ। বলা ভালো, অষ্টমীর অঞ্জলি থেকে দশমীর বিসর্জন, প্রতিটি পর্বেই জড়িয়ে থাকে সর্ব ধর্মের মানুষের আবেগ ও উচ্ছ্বাস।
 
মহাসপ্তমীর ভোরে রাজকীয় শোভাযাত্রা
 
দেবীমায়ের এই আগমন যেন একসঙ্গে থাকার শিক্ষা দিয়ে যায় গোটা সমাজকে। আর লণ্ঠনের আলোয় এগিয়ে চলা বিসর্জনের শোভাযাত্রা আসলে সমাজের সেই ভ্রাতৃত্বের শিক্ষাকেই আরও উজ্জ্বল করে তোলে। ৩৭৫ বছরের ঐতিহ্যের আসল শক্তি বোধহয় এই পুজোর ধারাবাহিকতা। চাঁচল রাজবাড়ির দুর্গোৎসব আজও বার্তা দেয় ধর্মের পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু সম্প্রীতির আলো সবার জন্য।


শেহতীয়া খবৰ