ফারহান ইসরাইলি
কারও কাছে সমাজসেবা একটি দায়িত্ব, কারও কাছে তা একটি পেশা। কিন্তু রুবি খানের কাছে এটি জীবনেরই আরেক নাম। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করা, গার্হস্থ্য হিংসার শিকার নারীদের কাউন্সেলিং করা কিংবা সারা দেশজুড়ে হাজার হাজার কিলোমিটার পদযাত্রা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সামনের সারিতে থেকে কাজ করাকে বেছে নিয়েছেন। গত দুই দশকে মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষাবিদ, লেখক, সমাজকর্মী, প্রাক্তন ‘মিসেস জয়পুর’ এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত গাড়ি রেসার হিসেবে তিনি এক স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় একটাই, যত বেশি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।
গত দুই দশকে রুবি খান মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষাবিদ, লেখক, সমাজকর্মী, প্রাক্তন ‘মিসেস জয়পুর’ এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত গাড়ি রেসার হিসেবে এক অনন্য পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তবে তাঁকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি কীভাবে স্মরণীয় হতে চান, তাঁর উত্তর খুবই সহজ, যে মানুষগুলোর জীবনে তিনি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছেন, তাদের মাধ্যমেই তিনি স্মরণীয় থাকতে চান।
সেবার জন্য নিবেদিত এক জীবন
রুবি খানের বিশ্বাস, সহমর্মিতার প্রকৃত মূল্য তখনই, যখন তা কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। রাজস্থানে যখনই কোনো সংকট দেখা দেয়, তিনি চেষ্টা করেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সবার আগে পৌঁছাতে। শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াই নয়, বরং যাতে মানুষ সরকারের প্রাপ্য সহায়তা ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
তাঁর দর্শন অত্যন্ত সরল, প্রয়োজনের সময় একজন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়। প্রায় ২০ বছর ধরে এই বিশ্বাসই তাঁর প্রতিটি কাজের মূল চালিকাশক্তি। এই দীর্ঘ পথচলায় তাঁর সবচেয়ে বড় সহযাত্রী তাঁর স্বামী ক্যাপ্টেন মির্জা বেগ, যিনি রাজস্থানের প্রথম মুসলিম পাইলট হিসেবে পরিচিত এবং নিজেও একজন সক্রিয় সমাজকর্মী। রুবি জানান, তাঁদের যৌথভাবে নেওয়া বহু সামাজিক উদ্যোগে ক্যাপ্টেন বেগের উৎসাহ ও সহযোগিতাই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।
দু'জনে মিলে চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন, সরকারি নথিপত্র তৈরিতে মানুষের সহায়তা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, অসহায় পরিবারগুলিকে বিনামূল্যে রেশন বিতরণ এবং দরিদ্র কন্যাদের বিয়েতে সহযোগিতাসহ নানা সামাজিক কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁরা রাজ্যের হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
সচেতনতাই ক্ষমতায়নের প্রথম ধাপ
রুবি খানের মতে, সমাজের প্রান্তিক মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা সবসময় দারিদ্র্য নয়; বরং তথ্যের অভাব। অনেক পরিবার সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র তথ্যের অভাবে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে তিনি মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের তথ্য পৌঁছে দেওয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।
ক্যারিয়ার গাইডেন্সও তাঁর অন্যতম প্রধান কর্মক্ষেত্র। ক্যাপ্টেন বেগের সঙ্গে তিনি বেকার যুবকদের পরামর্শ দেন, কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করেন এবং দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোগ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। তাঁদের লক্ষ্য শুধু চাকরি পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া নয়, বরং মানুষকে আত্মনির্ভর করে তোলা।
সংকটে নারীদের পাশে
রুবি খানের কাজের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে গার্হস্থ্য হিংসা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার নারীদের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর বিশ্বাস, অনেক নারী নির্যাতন সহ্য করে চলেন, কারণ তাঁরা নিজেদের অসহায় মনে করেন এবং পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ দেখতে পান না। তাই তাঁর ভূমিকা শুধু কাউন্সেলিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি তাঁদের মানসিকভাবে সাহস জোগান, প্রয়োজনে আইনি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে উৎসাহিত করেন।
একই সঙ্গে তিনি ন্যায়বিচারের পক্ষেও সমানভাবে বিশ্বাসী। কোনো পুরুষ যদি দাবি করেন যে তাঁকে মিথ্যা আইনি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, সেক্ষেত্রেও তিনি তাঁর কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। তাঁর কাছে বিচারই মুখ্য, কোনো পক্ষপাত নয়। এই কাজগুলিতে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করে। রুবি খানের দৃঢ় বিশ্বাস, প্রকৃত ক্ষমতায়ন অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার মাধ্যমেই সম্ভব।
এই কারণেই তিনি নারীদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ দেন এবং তাঁদের ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে বা উপযুক্ত কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে সহায়তা করেন। মেহেন্দি শিল্প, ব্যাংকিং-সংক্রান্ত সচেতনতা, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি বহু নারীকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করেছেন। এ ছাড়াও, নারীদের জন্য বিশেষভাবে ক্যানসার স্ক্রিনিং শিবির এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচিরও আয়োজন করেছেন তিনি।
স্টিয়ারিং হাতে ভেঙেছেন প্রচলিত ধারণা
সমাজসেবা রুবি খানের ব্যক্তিত্বের মাত্র একটি দিক। মোটরস্পোর্টসের জগতেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে তিনি ব্লেজ দে রাজস্থান (Blaze de Rajasthan) এবং উইমেন অন হুইলস (Women on Wheels)-সহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ কার র্যালি ও রেসিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং একাধিকবার বিজয়ী হন।
তাঁর এই সাফল্য তাঁকে রাজস্থানের তিনজন দ্রুততম নারী গাড়ি রেসারের অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। রুবির কাছে মোটরস্পোর্টস শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা নয়; এটি এমন এক প্রতীক, যা নারীদের সেই আত্মবিশ্বাস ও সাহসের প্রতিনিধিত্ব করে, যার মাধ্যমে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ-প্রধান বলে বিবেচিত ক্ষেত্রেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
প্রকৃতির প্রতিও সমান দায়বদ্ধতা
সমাজের প্রতি রুবি খানের দায়বদ্ধতা পরিবেশ সংরক্ষণেও সমানভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রতি গ্রীষ্মে তিনি জয়পুরজুড়ে ‘পরিন্দা অভিযান’ (Parinda Campaign) পরিচালনা করেন। এই কর্মসূচির আওতায় গাছ ও উঁচু স্থানে পাখিদের জন্য পানিভর্তি পাত্র রাখা হয়, যাতে প্রচণ্ড গরমে তারা পানির অভাবে কষ্ট না পায়। শিশুদের পরিবেশ রক্ষায় উৎসাহিত করতে তিনি হাজার হাজার সিড পেন্সিল বিতরণ করেছেন।
এই পেন্সিলগুলো ছোট হয়ে গেলে এর সঙ্গে সংযুক্ত বীজের ক্যাপসুল মাটিতে রোপণ করা যায় এবং সেখান থেকে নতুন গাছ জন্মায়। যেসব শিশু সফলভাবে সেই গাছের পরিচর্যা করে বড় করে তোলে, তাঁদের শংসাপত্র দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এর মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। প্রতি বছর শিক্ষক দিবসেও রুবি খান সমাজগঠনে আত্মনিবেদিত শিক্ষকদের সম্মানিত করেন। তাঁর বিশ্বাস, শিক্ষকই যেকোনো সমাজের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।
পদে পদে ভারতকে চেনার যাত্রা
রুবি খানের জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায়গুলির একটি শুরু হয় ২০২২ সালে, যখন তিনি কন্যাকুমারী থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা সম্পন্ন করেন। প্রায় ১৫০ দিনব্যাপী এই যাত্রায় তিনি ভারতের ১২টি রাজ্য এবং দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অতিক্রম করেন। তিনি ছিলেন এই পদযাত্রায় অংশ নেওয়া রাজস্থানের একমাত্র নারী, যা তিনি শুধু নিজের নয়, রাজ্যের সব নারীর জন্যই গর্বের বিষয় বলে মনে করেন। যদিও এই সর্বভারতীয় পদযাত্রার আয়োজন করেছিল কংগ্রেস এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন রাহুল গান্ধী, তবুও রুবি খানের বক্তব্য, এই যাত্রায় অংশ নেওয়ার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য কখনও রাজনৈতিক ছিল না। তাঁর কাছে এটি ছিল মানুষের সঙ্গে দেখা করে ভারতকে কাছ থেকে জানার এক বিরল সুযোগ।
গ্রাম, শহর ও জনপদ পেরিয়ে হাঁটার সময় তিনি কৃষক, শ্রমিক, নারী এবং তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রত্যেকের জীবনেই ছিল আলাদা সংগ্রাম ও আলাদা গল্প। রুবির কথায়, এই যাত্রা তাঁকে শিখিয়েছে, ভারত শুধু মানচিত্রে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে আছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। এই অভিযান ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অংশগ্রহণকারীরা ট্রাকের ওপর স্থাপিত কনটেইনারে থাকতেন। তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় হাঁটার ফলে তাঁর পায়ে ফোস্কা পড়ে যায়। যাত্রাপথে তিনি এমন আঘাতও পান, যাতে তাঁর ঠোঁটে সেলাই করতে হয় এবং হাত ভেঙে যায়।
তবুও তিনি মাঝপথে যাত্রা ছেড়ে দেননি। এই কঠিন সময়ে ক্যাপ্টেন মির্জা বেগ সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন এবং তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন। রুবির কাছে এই পদযাত্রা কেবল শারীরিক সহনশীলতার পরীক্ষা ছিল না; এটি ছিল অধ্যবসায়, বৈচিত্র্য এবং মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগের এক অনন্য শিক্ষা।
জনসেবার মূল্যবোধ পরিবার থেকেই
রুবি খান মনে করেন, সমাজসেবার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের বড় অংশই এসেছে পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে। বিশেষ করে তিনি তাঁর শ্বশুর মির্জা মুখতার বেগ-এর কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। রাজস্থানের একজন সম্মানিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি তাঁর সন্তানদের সমাজের জন্য কাজ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। আজও সেই উত্তরাধিকার তাঁদের পরিবারে বহমান।
ক্যাপ্টেন বেগের ছোট ভাই মির্জা শারিক বেগ, যিনি একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, জয়পুরের ঐতিহাসিক জলমহল পুনরুদ্ধারের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর অবদানের ফলে জলমহল আজ শহরের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। পরিবারের আরেক সদস্য মির্জা সাকিব বেগ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন। ভিন্ন ভিন্ন পেশায় থাকলেও এই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যেই জনসেবার প্রতি এক অভিন্ন প্রতিশ্রুতি লক্ষ্য করা যায়।
লেখনীর মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা
সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতেও রুবি খান লেখালেখিকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অধ্যাপক কে. এল. কমল-এর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি ‘হিন্দু ধর্ম অউর ইসলাম: দো আঁখে, নাই রোশনি’ শীর্ষক বইটি রচনা করেন। বইটির উদ্দেশ্য ছিল ধর্ম সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা। ২০১০ সালে তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। বর্তমানে এটি উপরাষ্ট্রপতির গ্রন্থাগার এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়-এর গ্রন্থাগারেও সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া তিনি শিশুদের জন্য ‘জ্ঞান কে বুলবুলে’ নামে একটি কবিতার বইও লিখেছেন। সহজ ভাষায় রচিত এই বইয়ের মাধ্যমে শিশুদের ভারতীয় সংস্কৃতি, পরিবেশ সচেতনতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে পরিচিত করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
শুধু ‘মিসেস জয়পুর’ নন
রুবি খানের বহু সাফল্যের মধ্যে অন্যতম হলো ২০০৪ সালে ‘মিসেস জয়পুর’ খেতাব অর্জন। তিনি স্মরণ করেন, প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে সবচেয়ে জোরালো করতালিটি এসেছিল তাঁর স্বামী ক্যাপ্টেন মির্জা বেগের কাছ থেকেই, যিনি পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে তাঁর পাশে ছিলেন। একজন মুসলিম নারী হিসেবে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় তাঁকে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু তিনি এটিকে কেবল একটি মুকুট জেতার প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখেননি; বরং আত্মবিশ্বাস ও নিজের স্বাতন্ত্র্য প্রকাশের একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
রুবি খান
আগামী দিনের লক্ষ্য
রুবি খান এবং ক্যাপ্টেন মির্জা বেগ তাঁদের সমাজসেবামূলক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছেন। যুবসমাজ, নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, বৃত্তি শিবির এবং সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি, জয়পুরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শহরের পরিবর্তিত সামাজিক ও নাগরিক সমস্যাগুলির সমাধানে সরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করারও আশা রাখছেন।
রেস ট্র্যাক থেকে ত্রাণ শিবির, শ্রেণিকক্ষ থেকে কাউন্সেলিং সেন্টার, আর ভারতের দক্ষিণ প্রান্ত কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীরের উপত্যকা, রুবি খানের সমগ্র জীবনযাত্রা একটাই সত্যকে তুলে ধরে। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের লক্ষ্য কখনও ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা। তাঁর কাছে প্রতিটি অর্জনের শেষ গন্তব্য একটাই, সহমর্মিতা, মর্যাদা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাওয়া।