মুম্বাই থেকে শিবসাগর: মানবতার অভিযানে বন্যাদুর্গতদের পাশে দানবীর হুসেইন মনসুরি

Story by  Munni Begum | Posted by  Aparna Das • 12 h ago
মুম্বাই থেকে শিবসাগর: মানবতার অভিযানে বন্যাদুর্গতদের পাশে দানবীর হুসেইন মনসুরি
মুম্বাই থেকে শিবসাগর: মানবতার অভিযানে বন্যাদুর্গতদের পাশে দানবীর হুসেইন মনসুরি
 
মুন্নী বেগম / গুয়াহাটি

অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে যখন হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় মানবতার হাত বাড়িয়ে মুম্বাই থেকে অসমে পৌঁছেছেন সুপরিচিত সমাজসেবী, মানবদরদী ও দানবীর হুসেইন মনসুরি। বর্তমানে তিনি বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলায় দু'দিনব্যাপী ত্রাণ অভিযান পরিচালনা করছেন। এই সময়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং মানসিকভাবে সাহস জোগানোরও নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
 
হুসেইন মনসুরি নিজের উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসা কিট এবং শিশুদের জন্য স্কুলব্যাগসহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী নিয়ে অসমে এসেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য শুধু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ নয়; দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়া মানুষের কাছে পৌঁছে তাদের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করা এবং এই বিশ্বাস জাগিয়ে তোলাও যে কঠিন সময়ে গোটা দেশ তাদের পাশে রয়েছে।
 

বন্যার বিভীষিকা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করার পর হুসেইন মনসুরি গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই ভয়াবহ বন্যা অসমের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়েছে। অন্যদিকে, বহু মানুষ এখনও খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং চিকিৎসা পরিষেবার অপেক্ষায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে হুসেইন মনসুরির এই ত্রাণ অভিযান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তাঁর উপস্থিতি বন্যাদুর্গতদের কাছে আশার বার্তা হয়ে উঠেছে।
 
শিবসাগরে বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে মতবিনিময়
 
দু'দিনের সফরের অংশ হিসেবে হুসেইন মনসুরি শিবসাগরের বন্যাকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন এবং বহু পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের সমস্যা, প্রয়োজন এবং বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নেন। এ সময় তিনি বন্যাদুর্গতদের সাহস জুগিয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য মানুষ এই দুর্যোগের সময় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
 
তাঁর ত্রাণ কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেইসব পরিবারকে, যারা বন্যার কারণে জীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং চিকিৎসা কিট বিতরণের মাধ্যমে তাদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে স্কুলব্যাগ বিতরণ করে তিনি এই বার্তাও দিতে চান যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও তাদের শিক্ষাজীবন থেমে থাকা উচিত নয়।
 
হুসেইন মনসুরির এই মানবিক উদ্যোগ এমন এক সময়ে দেখা গেছে, যখন অসমের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনেরও প্রয়োজন। এমন সময়ে সমাজসেবী, স্বেচ্ছাসেবক এবং মানবদরদী মানুষদের ভূমিকা সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
 
 
মানবসেবার এক পরিচিত নাম
 
মুম্বাইয়ের বাসিন্দা হুসেইন মনসুরি বহু বছর ধরে সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। দরিদ্র, অসহায় এবং দুর্যোগপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বিশ্বাস করেন, মানবসেবার ক্ষেত্রে ধর্ম, জাতি, ভাষা কিংবা অঞ্চলের কোনো বিভেদ নেই। যখন এবং যেখানে মানুষ বিপদে পড়ে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা।
 
তিনি বিশ্বাস করেন, মানবসেবা কেবল সাময়িক দায়িত্ব নয়; বরং প্রয়োজনমতো মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা নিজে বোঝার মধ্যেই প্রকৃত সমাজসেবা নিহিত। সেই কারণেই বিভিন্ন সময়ে তাঁর এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অসমে তাঁর এই সফরও সেই আদর্শ থেকেই অনুপ্রাণিত। মুম্বাই থেকে হাজার কিলোমিটার দূরের অসমে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে তিনি শুধু ত্রাণসামগ্রী বিতরণই করেননি, তাদের দুঃখ-কষ্টও ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, মানবসেবার ক্ষেত্রে ধর্ম, জাতি বা অঞ্চলের কোনো ভেদাভেদ নেই। যেকোনো বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমগ্র সমাজের একটি যৌথ দায়িত্ব।
 
সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে মানবতার বার্তা
 
হুসেইন মনসুরি সামাজিক মাধ্যমেও যথেষ্ট সক্রিয়। তিনি তাঁর সমাজসেবামূলক ও মানবকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মানবতা, সহমর্মিতা এবং একে অপরকে সাহায্য করার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ড বহু মানুষ সামাজিক মাধ্যমে অনুসরণ ও প্রশংসা করেন, যার ফলে ত্রাণ ও মানবসেবামূলক কাজের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
তাঁর মতে, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন শুধু সরকার বা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করে না; প্রত্যেক সচেতন নাগরিক যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসেন, তবে বহু অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালানো সম্ভব।
 
 
মানবসেবাই সর্বশ্রেষ্ঠ সেবা
 
অসমের বন্যা দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে হুসেইন মনসুরির এই ভূমিকা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। যখন বন্যাদুর্গত পরিবারগুলো একসঙ্গে ত্রাণ এবং মানসিক সাহস, উভয়েরই প্রয়োজন অনুভব করছে, তখন তাঁর এই উদ্যোগ দেশবাসীর মধ্যে ঐক্য, সহমর্মিতা এবং মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
 
শিবসাগরে উপস্থিত হয়ে বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসা কিট এবং শিশুদের জন্য স্কুলব্যাগ বিতরণের মতো উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবসেবা। তাঁর মতে, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন শুধু সরকার বা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করে না; প্রত্যেক সচেতন নাগরিক যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসেন, তবে বহু অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালানো সম্ভব।
 
অসমের বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় হুসেইন মনসুরির এই উদ্যোগ তাঁর দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কাজেরই একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। যারা মানবসেবাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাঁদের কাছে তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। হাজার হাজার পরিবার যখন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছে, ঠিক সেই সময় হুসেইন মনসুরির মতো মানবদরদী মানুষের উপস্থিতি তাদের মধ্যে নতুন আশা, সাহস এবং ঐক্যের বার্তা নিয়ে এসেছে।


শেহতীয়া খবৰ