শত্রুর জ্যামিংও কি থামাতে পারবে না ভারতের সামরিক যোগাযোগ? ₹২,৫৬৩ কোটিতে বায়ুসেনার জন্য GSAT-7C উপগ্রহ চুক্তি

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
শত্রুর জ্যামিংও কি থামাতে পারবে না ভারতের সামরিক যোগাযোগ? ₹২,৫৬৩ কোটিতে বায়ুসেনার জন্য GSAT-7C উপগ্রহ চুক্তি
শত্রুর জ্যামিংও কি থামাতে পারবে না ভারতের সামরিক যোগাযোগ? ₹২,৫৬৩ কোটিতে বায়ুসেনার জন্য GSAT-7C উপগ্রহ চুক্তি
 
প্রো (ড.) ডি কে পাণ্ডে

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য একটি স্বতন্ত্র সামরিক যোগাযোগ উপগ্রহের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে বেঙ্গালুরুর নিউ স্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড (NSIL)-এর সঙ্গে ₹২,৫৬৩ কোটি টাকার ‘GSAT-7C’ উপগ্রহ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা, উন্নয়ন ও নির্মিত এই উপগ্রহ ভারতীয় বায়ুসেনার বিভিন্ন সম্পদের জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে বায়ুসেনার সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব তথা ডিরেক্টর জেনারেল (অ্যাকুইজিশন) এ. অনবারসু ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই অধিগ্রহণের মূল লক্ষ্য হল শক্তিশালী নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা গড়ে তুলে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) পরিচালন কাঠামোকে রূপান্তরিত করা।
 
 
সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
 
GSAT-7C-এর প্রাসঙ্গিকতা ও প্রধান সক্ষমতা

প্রচলিত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মূলত স্থলভিত্তিক রেডিও নেটওয়ার্কের উপর নির্ভরশীল। পৃথিবীর বক্রতার কারণে এই ব্যবস্থায় সংকেত আদান-প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর টাওয়ার বা রিলে স্টেশনের প্রয়োজন হয়। এই ব্যবস্থাকে ‘লাইন অব সাইট’ (LOS) যোগাযোগ বলা হয়। তীব্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে একটি রিলে টাওয়ার ধ্বংস হয়ে গেলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হতে পারে এবং সামনের সারির সেনা ইউনিটগুলি কমান্ড সেন্টার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। প্রচলিত অ্যানালগ রেডিও সংকেতও শত্রুপক্ষের দ্বারা আটকানো (ইন্টারসেপশন) এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
 
GSAT-7C উপগ্রহ মহাকাশভিত্তিক যোগাযোগ সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাউন্ড সিস্টেমের সাহায্যে এই দুর্বলতাগুলি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। উপগ্রহ-সংযুক্ত পরিকাঠামোর মাধ্যমে এটি আকাশপথে ব্যবহৃত সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলিকে ‘বিয়ন্ড লাইন অব সাইট’ (BLOS) যোগাযোগের সুবিধা দেবে। এর ফলে সরাসরি দৃষ্টিসীমার বাইরে থেকেও যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
 
ভারতীয় বায়ুসেনার নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে GSAT-7C ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে। শুধুমাত্র বায়ুসেনার ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত এই উন্নত সামরিক যোগাযোগ উপগ্রহ বিস্তৃত অভিযানক্ষেত্রে নিরাপদ, রিয়েল-টাইম এবং জ্যামিং-প্রতিরোধী ডেটা সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণ করবে।
 
আকাশপথে ব্যবহৃত সামরিক প্ল্যাটফর্ম, স্থলভিত্তিক কমান্ড স্টেশন এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন সম্পদকে একটি সমন্বিত কৌশলগত নেটওয়ার্কে যুক্ত করার মাধ্যমে এই উপগ্রহ সেন্সর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের মধ্যবর্তী সময় কমাতে সহায়তা করবে। উপগ্রহের বিস্তৃত কভারেজ ব্যবহার করে যোগাযোগের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্র সম্পর্কে সামগ্রিক পরিস্থিতিগত সচেতনতা উন্নত হবে।
প্রচলিত স্থলভিত্তিক রেডিও নেটওয়ার্ক বনাম GSAT-7C উপগ্রহ
 
দীর্ঘদিন ধরে সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিলম্ব (লেটেন্সি), সীমিত ব্যান্ডউইথ এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামঞ্জস্যের (ইন্টারঅপারেবিলিটি) মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। GSAT-7C উপগ্রহ এই সমস্যাগুলি মোকাবিলা করে উন্নত নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি মহাকাশভিত্তিক একটি যোগাযোগ কাঠামো গড়ে তুলবে, যা বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করতে হবে।
 
GSAT-7C-র উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কীভাবে প্রচলিত স্থলভিত্তিক রেডিও নেটওয়ার্ক থেকে আলাদা, তা নিচে তুলে ধরা হল।
 
১. যোগাযোগের পরিধি ও কভারেজ: প্রচলিত স্থলভিত্তিক রেডিও নেটওয়ার্ক পৃথিবীর বক্রতার কারণে সীমিত সরাসরি দৃষ্টিসীমাভিত্তিক (LOS) যোগাযোগের উপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, GSAT-7C ভূস্থির কক্ষপথের (Geostationary Orbit) মাধ্যমে দৃষ্টিসীমার বাইরেও (BLOS) যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে স্থলভিত্তিক ব্যবস্থার তুলনায় বিস্তৃত এলাকায় যোগাযোগের সুবিধা পাওয়া যাবে।
 
২. জ্যামিংয়ের ঝুঁকি: প্রচলিত স্থলভিত্তিক রেডিও নেটওয়ার্ক অ্যানালগ সংকেতের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় জ্যামিংয়ের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। এর বিপরীতে, GSAT-7C-র যোগাযোগ ব্যবস্থায় জ্যামিং-প্রতিরোধী সফটওয়্যার-ডিফাইন্ড রেডিও (SDR) প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তবে এর কার্যকারিতা উপগ্রহের যোগাযোগ সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট টার্মিনালের সক্ষমতার উপরও নির্ভর করবে।
 
৩. বিকল্প ব্যবস্থা ও নির্ভরযোগ্যতা (রিডানড্যান্সি): প্রচলিত ব্যবস্থায় একটি টাওয়ার বিকল হয়ে গেলে যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, উপগ্রহভিত্তিক রিলে ব্যবস্থা নির্দিষ্ট স্থলভিত্তিক নোড ধ্বংস হয়ে গেলেও বিকল্প যোগাযোগপথ হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
 
৪. ব্যান্ডউইথ ও লেটেন্সি: প্রচলিত স্থলভিত্তিক রেডিও নেটওয়ার্কে যোগাযোগের বিলম্ব ও ব্যান্ডউইথ পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। দীর্ঘ দূরত্বে নেটওয়ার্কের উপর চাপও বাড়তে পারে। GSAT-7C-র উপগ্রহ-সমর্থিত যোগাযোগ কাঠামো উচ্চগতির ডেটা আদান-প্রদান ও উন্নত যোগাযোগ সক্ষমতা প্রদানের লক্ষ্যে তৈরি করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত লেটেন্সি ও ডেটা স্থানান্তরের গতি নির্ভর করবে ব্যবহৃত কক্ষপথ, নেটওয়ার্কের নকশা এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর।
সফটওয়্যার-ডিফাইন্ড রেডিও (SDR)-এর সঙ্গে সমন্বয়
 
GSAT-7C-র যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল উন্নত সফটওয়্যার-ডিফাইন্ড রেডিও (SDR) প্রযুক্তির সঙ্গে এর সমন্বয়। এর মধ্যে ভারতীয় সামরিক বিমান, হেলিকপ্টার এবং স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে ব্যবহৃত BNET-AR মাল্টিব্যান্ড SDR ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
 
নির্দিষ্ট অ্যানালগ হার্ডওয়্যারের উপর নির্ভরশীল প্রচলিত রেডিওর তুলনায় SDR-এ কম্পিউটার প্রসেসরের সাহায্যে সংকেত এনকোড ও ডিকোড করা হয়। এর ফলে বিভিন্ন যোগাযোগ পদ্ধতির মধ্যে পরিবর্তন এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অভিযোজিত করার সুযোগ তৈরি হয়। উপযুক্ত প্রযুক্তি ও কনফিগারেশনের মাধ্যমে জ্যামিংয়ের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
 
GSAT-7C দীর্ঘ দূরত্বে এই SDR নেটওয়ার্কগুলিকে সংযুক্ত করতে সাহায্য করবে। এর ফলে বিভিন্ন সামরিক প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে উচ্চগতির ডেটা, ভয়েস ও ভিডিও আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে।
 
ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে GSAT-7C-এর গুরুত্ব
 
নৌবাহিনীকেন্দ্রিক GSAT-7 (রুক্মিণী) এবং একাধিক বাহিনীর ব্যবহারের উপযোগী GSAT-7A-র পর GSAT-7C-কে ভারতের স্বতন্ত্র সামরিক উপগ্রহ কর্মসূচির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার কৌশলগত চাহিদা পূরণের জন্য পরিকল্পিত এই উপগ্রহের গুরুত্ব কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
 
১. দূরবর্তী এলাকাতেও নিরাপদ যোগাযোগ: মহাকাশভিত্তিক রিলে ব্যবস্থার সাহায্যে সামনের সারির যুদ্ধবিমান, পরিবহণ বিমান এবং চালকবিহীন আকাশযান (UAV) ভূখণ্ড বা দূরত্বের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বায়ু প্রতিরক্ষা কমান্ড কেন্দ্রগুলির সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবে।
 
২. চালকবিহীন আকাশযান ও স্বয়ংক্রিয় সামরিক প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা: আধুনিক আকাশযুদ্ধে ভারী UAV এবং স্বয়ংক্রিয় প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রিয়েল-টাইম নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আঘাত হানার অভিযান পরিচালনার জন্য এই প্ল্যাটফর্মগুলির উচ্চ ব্যান্ডউইথ ও কম লেটেন্সিযুক্ত ডেটা-লিঙ্ক প্রয়োজন। GSAT-7C এই ধরনের সম্পদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা ও সমন্বয় করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ যোগাযোগ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
 
৩. দেশীয় প্রযুক্তি ও আত্মনির্ভর ভারত: NSIL-এর মতো সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে নকশা, উন্নয়ন ও নির্মাণের মাধ্যমে এই প্রকল্প সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের জাতীয় লক্ষ্যকে সমর্থন করবে।
কৌশলগত শক্তিবর্ধক হিসেবে GSAT-7C
 
আধুনিক ও ভবিষ্যতের সামরিক সংঘাতে আধিপত্য শুধু সামরিক সম্পদের সংখ্যার উপর নির্ভর করে না। সেনাবাহিনী কত দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, বিনিময় ও বিশ্লেষণ করতে পারে, তার উপরও সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। এই ধারণাই ‘নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। GSAT-7C নিম্নলিখিত উপায়ে ভারতের সামরিক সক্ষমতার শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করতে পারে।
 
১. পরিস্থিতি সম্পর্কে উন্নত সচেতনতা (Situational Awareness): উপগ্রহটি বিভিন্ন সামরিক সম্পদের মধ্যে রিয়েল-টাইমে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে পৃথক যুদ্ধবিমান ও স্থলভিত্তিক স্টেশনগুলি একটি সমন্বিত যুদ্ধ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করতে পারবে। পাইলটরা যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ও তাৎক্ষণিক কৌশলগত তথ্য পাবেন। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করার মধ্যবর্তী সময় কমানো সম্ভব হবে।
 
২. ইলেকট্রনিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা: ভবিষ্যতের সামরিক সংঘাতে ব্যাপকভাবে ইলেকট্রনিক যুদ্ধের কৌশল ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। GSAT-7C-র লক্ষ্য হল উন্নত ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের পরিস্থিতিতেও ভারতের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও সচল রাখতে সহায়তা করা। তবে এই সক্ষমতা নির্ভর করবে ব্যবহৃত প্রযুক্তি, উপগ্রহ সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার কার্যকারিতার উপর।
 
৩. তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়: GSAT-7C মূলত ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য তৈরি হলেও বৃহত্তর প্রতিরক্ষা যোগাযোগ পরিকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। স্থল, জল, আকাশ ও মহাকাশে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা স্টাফ এবং প্রতিরক্ষা মহাকাশ সংস্থার কৌশলগত উদ্দেশ্যের সঙ্গেও এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
 
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের কৌশলগত আকাশসীমার আধিপত্য বজায় রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য উন্নত, নিরাপদ ও জ্যামিং-প্রতিরোধী সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দেশীয়ভাবে নকশা, উন্নয়ন ও নির্মিত GSAT-7C যোগাযোগ উপগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট স্বতন্ত্র স্থলভিত্তিক যোগাযোগ কেন্দ্র অধিগ্রহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
 
GSAT-7C-কে ভারতীয় বায়ুসেনার অভ্যন্তরে এবং ভারতীয় নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচালিত সামরিক অভিযানে নতুন গতি, উন্নত যোগাযোগ এবং বাহিনীগুলির মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে।


শেহতীয়া খবৰ