‘মাদ্রাসা জেহাদি তৈরির কারখানা, থাকা উচিত নয়’: তসলিমার বিস্ফোরক মন্তব্যে বিতর্ক দানা বাঁধছে

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 14 h ago
‘মাদ্রাসা জেহাদি তৈরির কারখানা, থাকা উচিত নয়’: তসলিমার বিস্ফোরক মন্তব্যে বিতর্ক দানা বাঁধছে
‘মাদ্রাসা জেহাদি তৈরির কারখানা, থাকা উচিত নয়’: তসলিমার বিস্ফোরক মন্তব্যে বিতর্ক দানা বাঁধছে
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী

প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কলকাতায় সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তসলিমার মন্তব্য, ‘মাদ্রাসা জেহাদি তৈরির কারখানা।’ শুধু তাই নয়, ‘মাদ্রাসা থাকা উচিত নয়’ বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন বলে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উপর কঠোর সরকারি নজরদারি এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
 
তসলিমার এই মন্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলিকেও তাঁর এই বক্তব্যের আওতায় রেখেছেন? প্রকাশিত সংবাদসূত্রে তাঁর মন্তব্য মূলত মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণ সমালোচনা হিসেবেই উঠে এসেছে। তবে তাঁর কলকাতা সফর এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলিকে ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
 
ধর্মীয় মৌলবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব তসলিমা নাসরিন। তাঁর লেখালেখি ও বক্তব্যের কারণে অতীতেও একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কলকাতায় তাঁর প্রত্যাবর্তনও রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। সেই আবহেই মাদ্রাসা নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
 
তসলিমার বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসঙ্গ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ৬১৪টি স্বীকৃত মাদ্রাসায় প্রায় ৪.৮ লক্ষ পড়ুয়া রয়েছে। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার মান, পাঠক্রম, আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে তার সমন্বয় এবং সরকারি নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। সম্প্রতি রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে প্রার্থনা-সমাবেশের সময় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সরকারি নির্দেশ নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর হয়েছে।
 
তবে তসলিমার ‘জেহাদি তৈরির কারখানা’ মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের মূল প্রশ্ন অন্য জায়গায়। সমালোচকদের বক্তব্য, মাদ্রাসার মতো একটি বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমন সাধারণীকরণ করা অনুচিত। অন্যদিকে, তসলিমার বক্তব্যের সমর্থকদের দাবি, মাদ্রাসা শিক্ষার নামে কোথাও যদি উগ্রপন্থার প্রচার বা মৌলবাদী চিন্তার প্রসার ঘটে থাকে, তা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও সংস্কার প্রয়োজন।
 
শিক্ষা ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কাজ করা মহলের একাংশের মতে, মাদ্রাসা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে। কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বা উগ্রপন্থার অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত; কিন্তু সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে একই চোখে দেখা ঠিক নয়।
 
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণের পক্ষের মত হল, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত, ইংরেজি ও আধুনিক নাগরিক শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এর ফলে মাদ্রাসার পড়ুয়ারাও মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।তসলিমার বক্তব্যে বিতর্ক যতই তীব্র হোক, পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষাকে ঘিরে বৃহত্তর প্রশ্নটি এখন আরও জোরালো—মাদ্রাসাগুলিতে কী পড়ানো হচ্ছে, সরকারি নজরদারি কতটা কার্যকর এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন স্বচ্ছ তথ্য, সরকারি নথি এবং নিরপেক্ষ পর্যালোচনা।
 
তবে তসলিমার মন্তব্য ইতিমধ্যেই একটি পুরনো বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। মাদ্রাসা কি শুধুই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিষ্ঠান, নাকি আধুনিক শিক্ষার মূলধারার সঙ্গে তার আরও গভীর সংযোগ তৈরি করা উচিত—এই প্রশ্নের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তা ও মৌলবাদের অভিযোগও। ফলে তসলিমার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।