নূরুল হক / আগরতলা
ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ধর্মীয় একতার এক নজির তৈরি করল ত্রিপুরার কৈলাশহর। কৈলাশহরে ঐতিহ্যবাহী সংহতি মেলার উদ্বোধন মঞ্চে একসঙ্গে পাঠ করা হলো কুরআন, গীতা এবং বাইবেল। তিন ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থের সম্প্রীতির বাণী তুলে ধরে উদ্বোধন হলো জাতি জনজাতি সর্ব ধর্মের লোকেদের নিয়ে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী সংহতিমেলার।
কৈলাশহরে পদ্মের পাড় মাঠে ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এই সংহতি মেলা। আশ্রয় সামাজিক সংস্থার উদ্যোগে বিগত প্রায় ২০ বছর যাবত এই সংহতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে কৈলা শহরে। আশ্রয় সামাজিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কৈলাশহর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিরজিৎ সিনহা এই মেলার উদ্যোক্তা। তার সঙ্গেই মেলা কমিটির অন্যতম সদস্য রয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান। রয়েছেন হিন্দু মুসলিম খৃষ্টান মনিপুরি সহ জাতি উপজাতির প্রতিনিধিরা।
ভগবান বিরসা মুন্ডার ১৫০ তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সংহতি মেলার একটি দৃশ্য
এবছর ভগবান বিরসা মুন্ডার ১৫০ তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে এবার এই মেলার উদ্বোধনে জাতি ধর্ম সম্প্রীতির অনন্য বার্তা দিয়েছেন মেলা কমিটির আয়োজকরা। মেলার উদ্বোধন পর্বে শুরুতেই মেলা মঞ্চে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্ম গুরুরা মেলা গীতার শ্লোক পাঠ করেন। তারপরেই মুসলিম ধর্মের মৌলানারা কোরান পাঠ করেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় বাইবেল পাঠ।
একইভাবে মেলা মঞ্চে ত্রিপুরার জনজাতিরা নিজেদের চিরাচরিত পোশাকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন। মেলার আয়োজকরা মুসলিম মৌলানা সহ হিন্দু ধর্মের পুরোহিত এবং খ্রিস্টান ধর্ম গুরুদের মঞ্চে তুলে সম্মাননা জানান।
সংহতি মেলায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্য
মেলা মঞ্চের চারিদিকে হিন্দু ,মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সমস্ত ধর্মের লোকেদের তাদের নিজেদের ধর্মীয় পোশাকে একে অপরে মেলামেশা করতে দেখা গেছে। এই সংহতি মেলা প্রাঙ্গণ যেন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সর্ব ধর্মের প্রতি সম্মান জানানোর ঐতিহ্যকে এক নতুন রূপে সামনে তুলে এনেছে।
আগামী দশ দিনব্যাপী এই মেলা প্রাঙ্গনে সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন স্টল খোলা হয়েছে। এসব স্থলে বিভিন্ন ধর্ম এবং সংস্কৃতির পোশাক সহ খাবারের বৈচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ত্রিপুরার কৈলাশহরের এই সংহতি মেলায় ধর্মীয় সংহতির ছবি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুরাচ্ছে।