স্বাস্থ্য–সচেতন তরুণদের নতুন পছন্দ, Wired Earphone- এর বিজয়যাত্রা আবার শুরু

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 18 h ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
নয়া দিল্লি 

ডিজিটাল যুগে স্মার্ট গ্যাজেটের ঝলক থাকলেও, তারযুক্ত ইয়ারফোন (Wired Earphone)আবার ট্রেন্ডে ফিরে এসেছে। এবার এর পেছনে শুধু ফ্যাশন নয়, স্বাস্থ্য–সচেতনতার বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়্যারলেস ইয়ারবাডের তুলনায় তারযুক্ত ইয়ারফোন ব্যবহারকারীদের জন্য স্বাস্থ্যগতভাবে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে। ফলে শিক্ষার্থী, গেমার, কর্মজীবী মানুষ, সবার মধ্যেই নতুন করে বাড়ছে এই ডিভাইসের প্রতি আস্থা এবং গ্রহণযোগ্যতা।

তারযুক্ত ইয়ারফোনের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য উপকারিতা হলো কম রেডিয়েশন এক্সপোজার। ব্লুটুথ ইয়ারবাড ব্যবহারের সময় কানে সামান্য পরিমাণ ইএমএফ (Electromagnetic Frequency) তরঙ্গের সংস্পর্শে আসতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে কিছু ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তারযুক্ত ইয়ারফোনে যেহেতু ব্লুটুথ সংকেত নেই, তাই রেডিয়েশন ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম, স্বাস্থ্যসচেতন ব্যবহারকারীরা এ কারণে তারযুক্ত ডিভাইসের দিকেই ঝুঁকছেন।
 
এছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, তারযুক্ত ইয়ারফোন কানের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। অনেক ওয়্যারলেস ইয়ারবাড গভীরভাবে কানের ভিতর ঢুকে থাকে, যা দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে অস্বস্তি, ব্যথা বা ইয়ার ক্যানালের ক্ষতও তৈরি করতে পারে। তারযুক্ত ইয়ারফোন সাধারণত আরামদায়কভাবে কানের ওপর বসে, ফলে তা দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের জন্য উপযোগী। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, বা দৈনন্দিন ফোনালাপে ব্যবহারকারীরা তাই এগুলোতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
 
সাউন্ড সেফটির দিক থেকেও তারযুক্ত ইয়ারফোন এগিয়ে। অনেক ওয়্যারলেস ইয়ারবাড উচ্চ ভলিউমে সাউন্ড বুস্ট করে, যা কানের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে তারযুক্ত ইয়ারফোন তুলনামূলক ন্যাচারাল অডিও লিমিট বজায় রাখে, ফলে ব্যবহারকারীরা অযথা বেশি ভলিউমে অডিও শুনে ফেলেন না। অডিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদে শ্রবণশক্তি রক্ষায় সহায়ক।
 
এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দীর্ঘ ব্যবহারে কম স্ট্রেস। ব্লুটুথ ইয়ারবাডে ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া, কানেকশন লস, ল্যাগ ইত্যাদি বিষয় থেকে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তারযুক্ত ইয়ারফোনে এসব ঝামেলা নেই, সহজেই প্লাগ ইন করলেই কাজ শুরু হয়ে যায়। মানসিক স্বস্তি, মিনিমালিজম, এবং প্রযুক্তিগত নিখুঁততার সামঞ্জস্যই তারযুক্ত ইয়ারফোনকে আবার জনপ্রিয় করেছে।
 
ফ্যাশন ট্রেন্ডেও এটির পুনর্জাগরণ দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে তরুণদের মধ্যে তারযুক্ত ইয়ারফোনকে স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে গড়ে ওঠার দৃশ্য এখন দৃষ্টিগোচর। একসময় যে ইয়ারফোনকে পুরোনো ভাবা হতো, সেটিই এখন ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য, আরাম, এবং স্টাইল, সবকিছু মিলিয়ে নতুন যুগের ‘কুল গ্যাজেট’ হিসেবে নিজের জায়গা ফিরিয়ে নিচ্ছে।