টবেই ফলছে জাপানের মিয়াজাকি আম, আরবের আজওয়া খেজুর! মুর্শিদাবাদের কৃষকের ছাদবাগান এখন আকর্ষণের কেন্দ্র

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 13 h ago
টবেই ফলছে জাপানের মিয়াজাকি আম, আরবের আজওয়া খেজুর! মুর্শিদাবাদের কৃষকের ছাদবাগান এখন আকর্ষণের কেন্দ্র
টবেই ফলছে জাপানের মিয়াজাকি আম, আরবের আজওয়া খেজুর! মুর্শিদাবাদের কৃষকের ছাদবাগান এখন আকর্ষণের কেন্দ্র
 
মুর্শিদাবাদ: 

ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর আধুনিক উদ্যানচর্চার মেলবন্ধন ঘটলে যে বাড়ির ছাদও হয়ে উঠতে পারে এক টুকরো আন্তর্জাতিক ফলের বাগান, তারই অনন্য নজির গড়েছেন মুর্শিদাবাদের সুতি থানার নতুন চান্দড়া গ্রামের ৭০ বছরের কৃষক গিয়াসউদ্দিন বিশ্বাস। তাঁর ছাদবাগানে এখন টবে ফলছে বিশ্বের অন্যতম দামি জাপানি মিয়াজাকি আম, আরবের আজওয়া ও খুরমা খেজুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মায়ানমার-সহ বিভিন্ন দেশের মোট ৪৬ প্রজাতির ফলের গাছ।

পাঁচ বছর আগে বাড়ির খালি ছাদে বাগান তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন গিয়াসউদ্দিন। ২০২০ সালে হুগলির আরামবাগের একটি নার্সারি থেকে মিয়াজাকি আমের চারা এনে টবে রোপণ করেন। অনেকেই তখন বলেছিলেন, বাংলার আবহাওয়ায় কিংবা ছাদে এই বিদেশি আম ফলানো সম্ভব নয়। কিন্তু নিয়মিত পরিচর্যা, জৈব সার এবং ধৈর্যের জোরে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছেন তিনি। এখন তাঁর গাছে ঝুলছে গাঢ় লালচে-বেগুনি রঙের বিরল মিয়াজাকি আম।

মিয়াজাকি আম বিশ্বের অন্যতম দামি আম হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম প্রতি কেজি প্রায় ৮০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। জাপানে এটি 'এগ অব দ্য সান' (Egg of the Sun) নামেও পরিচিত। উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক শর্করা, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং অনন্য স্বাদের জন্য এই আমের বিশেষ কদর রয়েছে। জাপানি সংস্কৃতিতে এটি অভিজাত উপহার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

শুধু মিয়াজাকি নয়, গিয়াসউদ্দিনের ছাদবাগানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারি-৪ আম, আরবের আজওয়া ও খুরমা খেজুর, হিমাচলের আপেল, ভিয়েতনামের ড্রাগন ফল, তাইওয়ানের পেয়ারা, থাই সবেদা, বার্মার কাঁঠাল, জামরুল, কামরাঙা, ব্ল্যাক জাম, কমলা, লেবুসহ নানা বিদেশি ও দেশি ফলের গাছ। সবকটিই টব বা ড্রামে জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে।

গাছের পরিচর্যায় কোনও রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করেন না গিয়াসউদ্দিন। প্রতিদিন সকাল-বিকেল নিজেই গাছে জল দেন, জৈব সার প্রয়োগ করেন এবং প্রতিটি ফলের বিশেষ যত্ন নেন। মিয়াজাকি আমে যাতে সমানভাবে রোদ লাগে এবং পাখি বা পোকামাকড়ের আক্রমণ না হয়, সেজন্য প্রতিটি আম সবুজ জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে এই ছাদবাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন কৃষক, উদ্যানপ্রেমী, কৃষি আধিকারিক এবং সাধারণ মানুষ। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে ছাদে ফলচাষের কৌশল শিখছেন এবং নিজেদের বাড়িতেও ছাদবাগান তৈরির অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। গিয়াসউদ্দিন বিশ্বাসের কথায়, "ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে ছাদেও সোনা ফলানো যায়।" তাঁর এই উদ্যোগ এখন মুর্শিদাবাদে নগর কৃষি (Urban Farming) ও ছাদবাগান চর্চার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।


শেহতীয়া খবৰ