ওড়িশা-বেঙ্গালুরুর বদলে বাংলার পদ্মেই মায়ের চরণ সাজছে! ১৬-২০ টাকায় মিলছে গোলাপি পদ্ম, পুজোর বাজারে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 18 h ago
ওড়িশা-বেঙ্গালুরুর বদলে বাংলার পদ্মেই মায়ের চরণ সাজছে! ১৬-২০ টাকায় মিলছে গোলাপি পদ্ম, পুজোর বাজারে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা
ওড়িশা-বেঙ্গালুরুর বদলে বাংলার পদ্মেই মায়ের চরণ সাজছে! ১৬-২০ টাকায় মিলছে গোলাপি পদ্ম, পুজোর বাজারে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা
 
কলকাতা

দুর্গাপুজোর ফুলের বাজারে এবার ছবিটা বেশ আলাদা। মায়ের চরণ সাজাতে গোলাপি পদ্মের জোগানের জন্য আর ওড়িশা কিংবা বেঙ্গালুরুর দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে না। রাজ্যের ফুলচাষিরাই মিটিয়ে দিচ্ছেন বিপুল চাহিদা। কলকাতার মল্লিকঘাট থেকে পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া, পুরুলিয়া, সর্বত্রই মিলছে বাংলার পদ্ম। দামও ক্রেতাদের নাগালে। একটি পদ্মের দাম ১৬ থেকে ২০ টাকা। অথচ অন্যান্য বছর সপ্তমীর রাতে একটি পদ্ম কিনতেই গুনতে হত ৫০ টাকা পর্যন্ত।

দুর্গাপুজোয় ১০৮টি পদ্ম দিয়ে দেবীর চরণ সাজানোর রীতি বহু পুজোয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ফলে পুজোর মরসুমে পদ্মের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু অতীতে বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পদ্ম-সহ নানা ফুলের জোগান ব্যাহত হত। চাহিদা মেটাতে ভিন্‌রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হত বাংলার বাজারকে। এবার সেই ছবিতে বদল এসেছে। গোলাপি পদ্মের পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে দেখা মিলছে সাধারণ পদ্মেরও।
 
সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়কের কথায়, এবার রাজ্যে তেমন বন্যা হয়নি। পাশাপাশি, যেসব জমিতে জল জমে থাকার কারণে আমন ধানের চাষ করা যায় না, সেসব জমির অনেকগুলিতে এবার পদ্ম চাষ করেছেন কৃষকরা। তার ফলেই বাজারে পদ্মের জোগান বেড়েছে। চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এই বাড়তি জোগান ফুলচাষিদেরও লাভের মুখ দেখাচ্ছে।
 
গুণগত মান ও সৌন্দর্যের দিক থেকেও বাংলার পদ্মের বিশেষ কদর রয়েছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বেঙ্গালুরুর পদ্ম আকারে মাঝারি হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দ্রুত শুকিয়ে যায়। অন্যদিকে, ওড়িশার পদ্ম সাধারণত সাদা রঙের ও আকারে ছোট। তুলনায় বাংলার গোলাপি পদ্মের রং ও সৌন্দর্য পুজো উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। ফলে মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে দেবীর পুজোর উপকরণ—সব ক্ষেত্রেই দেশি পদ্মের চাহিদা বেড়েছে।
 
তবে পদ্মের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সপ্তমীতে মল্লিকঘাট ফুল বাজারে অন্যান্য ফুলের দামে কিছুটা চড়া ভাব দেখা গিয়েছে।
 
বাজারের দর অনুযায়ী, রজনীগন্ধা বিক্রি হয়েছে কিলোপ্রতি ৪০০ টাকায়। ২৪টি রজনীগন্ধার স্টিকের একটি বান্ডিলের দাম ছিল ২৫০ টাকা। ১০০টি গোলাপের দাম উঠেছে ৩৫০ টাকা। ঝুরো গাঁদা বিক্রি হয়েছে কিলোপ্রতি ৭০ টাকায় এবং হলুদ ঝুরো গাঁদার দাম ছিল কিলোপ্রতি ৯০ টাকা।
 
তিন ফুট লম্বা ২০টি লাল গাঁদা ফুলের দাম ছিল ২০০ টাকা। একই মাপের ২০টি হলুদ-বাসন্তী গাঁদা ফুলের মালা বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকায়। অপরাজিতা ফুলের দাম ছিল কিলোপ্রতি ৪৫০ টাকা। দোপাটি ফুল বিক্রি হয়েছে কিলোপ্রতি ৪০০ টাকায়।
 
সব মিলিয়ে, এবার দুর্গাপুজোর ফুলের বাজারে বাংলার পদ্ম চাষিদের সাফল্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। একদিকে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুল পাচ্ছেন, অন্যদিকে রাজ্যের কৃষকরাও নিজেদের উৎপাদিত পদ্ম বিক্রি করে লাভের সুযোগ পাচ্ছেন। ভিন্‌রাজ্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বাংলার মাঠের পদ্মই এবার হয়ে উঠেছে পুজোর বাজারের অন্যতম আকর্ষণ।


অধিক পঢ়ক

শেহতীয়া খবৰ