প্রতিদিনের খাবারেই কতটা ‘Hidden Sugar’ ঢুকে পড়ছে?

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 23 h ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
গুয়াহাটি 

সকালের চা থেকে শুরু করে সন্ধ্যার বিস্কুট, অজান্তেই দিনের খাবারের তালিকায় যোগ হচ্ছে চিনি। আমরা অনেকেই ভাবি, মিষ্টি, চকোলেট বা কোমল পানীয় খেলেই বুঝি শরীরে অতিরিক্ত চিনি ঢোকে। কিন্তু বাস্তবতা আরও সূক্ষ্ম। এমন বহু খাবার রয়েছে, যেগুলো দেখতে বা স্বাদে খুব একটা মিষ্টি নয়, অথচ তাতেও থাকতে পারে যথেষ্ট পরিমাণ ‘হিডেন সুগার’ (Hidden Sugar)। ফলে না বুঝেই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে জমতে থাকে বাড়তি চিনি।
 
চিনি শুধু মিষ্টির বাক্সেই থাকে না
 
চা বা কফিতে এক চামচ চিনি দেওয়া আমরা সহজেই হিসাব করতে পারি। কিন্তু প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা সরল নয়। বিস্কুট, ব্রেড, ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, ফ্লেভার্ড দই, কেচাপ, সস, ইনস্ট্যান্ট খাবার, প্যাকেটজাত জুস কিংবা বিভিন্ন ‘হেলদি’ বলে প্রচারিত খাবারেও চিনি যোগ করা থাকতে পারে।
 
কখনও তা সরাসরি ‘সুগার’ নামে লেখা থাকে, আবার কখনও গুড়, গ্লুকোজ সিরাপ, ফ্রুক্টোজ, কর্ন সিরাপ, মল্টোজ বা অন্য কোনও নামের আড়ালে থাকতে পারে। তাই কোনও খাবার খুব বেশি মিষ্টি নয় বলেই সেটিতে চিনি নেই, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
 
‘হেলদি’ লেখা থাকলেই কি স্বাস্থ্যকর?
 
বাজারে এখন ‘লো ফ্যাট’, ‘ফিট’, ‘হেলদি’, ‘মাল্টিগ্রেন’ বা ‘ন্যাচারাল’ শব্দে মোড়া নানা খাবার পাওয়া যায়। নাম শুনে অনেকেই সেগুলিকে নিশ্চিন্তে খাদ্যতালিকায় রাখেন। কিন্তু খাবারের সামনের প্যাকেটের চেয়ে পিছনের Nutrition Facts বা উপাদানের তালিকাটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
 
কারণ, কোনও পণ্যে ফ্যাট কম থাকলেও তার স্বাদ ঠিক রাখতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা থাকতে পারে। আবার ফলের স্বাদযুক্ত দই বা পানীয়তে ফলের নাম থাকলেও তাতে আলাদা করে যোগ করা চিনি থাকতে পারে।
 
বেশি চিনি শরীরে কী করতে পারে?
 
শরীরের জন্য গ্লুকোজ গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস। সমস্যা তৈরি হয় যখন খাদ্য থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি free বা added sugar আসে। অতিরিক্ত চিনি ওজন বাড়া, দাঁতের ক্ষয় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে মিষ্টি পানীয় দ্রুত বেশি চিনি গ্রহণের একটি সহজ পথ, কারণ এগুলো খেলে পেট ভরার অনুভূতি তুলনামূলক কম হতে পারে।
 
তবে সব ধরনের চিনি এক নয়। গোটা ফলের মতো খাবারে প্রাকৃতিকভাবে থাকা চিনি এবং খাদ্য উৎপাদনের সময় যোগ করা চিনি শরীরে একইভাবে বিবেচিত হয় না। তাই ফলকে বাদ দিয়ে শুধু ‘চিনি’ শব্দটি দেখেই আতঙ্কিত হওয়ারও কারণ নেই।
 
কীভাবে চিনবেন ‘হিডেন সুগার’?
 
প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় শুধু ‘Sugar’ লেখা আছে কি না, তা দেখলেই হবে না। Ingredients তালিকায় sugar, glucose, fructose, sucrose, maltose, syrup, honey ইত্যাদি উপাদানের উপস্থিতি খেয়াল করা দরকার। উপাদানগুলি সাধারণত পরিমাণের ক্রম অনুযায়ী লেখা থাকে, তাই তালিকার প্রথম দিকেই কোনও ধরনের চিনি বা সিরাপ থাকলে সতর্ক হওয়া ভালো।
 
আর একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, একটি খাবারে একাধিক ধরনের মিষ্টিকারক উপাদান থাকতে পারে। ফলে প্রত্যেকটির পরিমাণ আলাদা করে দেখলে কম মনে হলেও মোট যোগফল যথেষ্ট হয়ে যেতে পারে।
 
চিনি কমানোর সহজ উপায়
 
প্রতিদিনের খাবার থেকে চিনি কমাতে বড় কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। চা-কফিতে ধীরে ধীরে চিনি কমানো, মিষ্টি পানীয়ের বদলে জল বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়া, প্যাকেটজাত জুসের বদলে গোটা ফল খাওয়া এবং বিস্কুট-চকোলেটের বদলে বাদাম বা কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
 
সবচেয়ে বড় কথা, কোনও খাবারকে শুধু তার বিজ্ঞাপনের ভাষা দিয়ে বিচার না করে লেবেল পড়ার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। কারণ ‘হিডেন সুগার’-এর আসল বিপদ শুধু তার মিষ্টি স্বাদে নয়, বিপদ হল, অনেক সময় আমরা জানতেই পারি না যে তা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের অংশ হয়ে গেছে।


শেহতীয়া খবৰ