স্বাদ ও সৃজনশীলতায় মুম্বাইয়ের হৃদয় জয় করা শেফ সাজিদা খান

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 18 h ago
 সাজিদা খান
সাজিদা খান
 
অনিকা মাহেশ্বরী / নয়াদিল্লি

মুম্বাইয়ের ব্যস্ততম জীবনযাত্রার মাঝেও রান্নাকে শুধুমাত্র ঘরোয়া কাজের গণ্ডিতে না রেখে শিল্প, বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার এক অনন্য মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন শেফ সাজিদা খান। রান্নার প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসা ও আগ্রহকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ করে থেমে থাকেননি, বরং তা কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার মানুষের শেখার সুযোগ, আত্মনির্ভর হয়ে ওঠা এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথও তৈরি করেছেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ মা, গৃহিণী এবং সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সাজিদা খানের এই যাত্রা দেখিয়ে দেয়, নিজের দক্ষতা ও স্বপ্নের প্রতি নিষ্ঠা থাকলে সীমিত সম্পদ দিয়েও একটি বড় উদ্যোগের সূচনা করা সম্ভব।
 
ছোটবেলা থেকেই সাজিদা খানের রান্না করা এবং নতুন নতুন পদ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রতি আগ্রহ ছিল। তাঁর কাছে রান্নাঘর শুধুমাত্র খাবার তৈরির জায়গা ছিল না, বরং সেটি ছিল সৃজনশীলতা ও আনন্দের এক জগৎ। সময়ের সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন, মুম্বাইয়ের মতো মহানগরে যারা কুকিং ও বেকিং শিখতে চান, তাদের জন্য এমন প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার পরিবেশের সঙ্গে পাকশিল্প শেখানো হয়।
 
সাজিদা খানের 'কালিনারি ক্রাফটস' পাঠশালার শিক্ষার্থীরা
 
তিনি আরও উপলব্ধি করেন যে বহু মানুষ রান্না শিখতে চান, কিন্তু প্রচলিত কুকিং ক্লাস থেকে তাঁরা সেই অভিজ্ঞতা পান না, যা তাঁরা খুঁজছেন। এই ভাবনা থেকেই তাঁর মনে নতুন একটি স্বপ্নের জন্ম হয় এবং তিনি পওয়াইয়ের হিরানন্দানি গার্ডেন্সে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত ‘কালিনারি ক্রাফটস স্টুডিও’ প্রতিষ্ঠা করেন।
 
শুরুটা সহজ ছিল না। একজন গৃহিণী ও মা হিসেবে তাঁকে পরিবার এবং নিজের স্বপ্নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনও নিজের লক্ষ্য নিয়ে আপস করেননি। ধীরে ধীরে তাঁর এই ছোট্ট উদ্যোগ মুম্বাইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় কুকিং ও বেকিং স্টুডিওতে পরিণত হয়। আজ কালিনারি ক্রাফটস শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এমন একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে, যেখানে সব বয়স ও সব ধরনের পটভূমির মানুষ নিজেদের পাকশিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
 
সাজিদা খানের মতে, রান্না শুধুমাত্র কোনও রেসিপি অনুসরণ করা নয়, বরং এটি একটি অভিজ্ঞতা। মানুষ যেমন কোনও সিনেমা, সঙ্গীত অনুষ্ঠান বা নাটক উপভোগ করতে যান, ঠিক তেমনই কুকিংও এমন একটি অভিজ্ঞতা হওয়া উচিত, যা শেখার পাশাপাশি একজন মানুষকে আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস দেয়।
 
এই কারণেই কালিনারি ক্রাফটসে আসা শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র রেসিপি শেখানো হয় না, তাঁদের বোঝানো হয় কোনও খাবারের পেছনে থাকা বিজ্ঞান কী, মশলার ভারসাম্য কীভাবে তৈরি করতে হয়, স্বাদ ও পরিবেশনের মধ্যে কীভাবে সামঞ্জস্য রাখা যায় এবং একটি সাধারণ পদকে কীভাবে স্মরণীয় করে তোলা যায়।
 
সাজিদা খানের 'কালিনারি ক্রাফটস' পাঠশালার শিক্ষার্থীরা
 
স্টুডিওতে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারিক। এখানে শিক্ষার্থীরা অত্যাধুনিক, সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত রান্নাঘরে অভিজ্ঞ শেফদের নির্দেশনায় কাজ করার সুযোগ পান। চকলেট টেম্পারিং, ব্রেড ও কেক বেকিং, পেস্ট্রি তৈরি, পাস্তা প্রস্তুত করা, ডিম তৈরির বিভিন্ন কৌশল, আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় খাবারের খুঁটিনাটি, ফুড প্লেটিং এবং প্রেজেন্টেশনের মতো নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
 
প্রশিক্ষণের সময় অংশগ্রহণকারীদের শুধু রান্না করাই শেখানো হয় না, বরং পেশাদার রান্নাঘরে কীভাবে কাজ করতে হয় এবং গুণমান বজায় রেখে কীভাবে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে হয়, তাও শেখানো হয়।
 
শুরুটা সহজ ছিল না। একজন গৃহিণী ও মা হিসেবে তাঁকে পরিবার এবং নিজের স্বপ্নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনও নিজের লক্ষ্য নিয়ে আপস করেননি। ধীরে ধীরে তাঁর এই ছোট্ট উদ্যোগ মুম্বাইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় কুকিং ও বেকিং স্টুডিওতে পরিণত হয়। আজ কালিনারি ক্রাফটস শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এমন একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে, যেখানে সব বয়স ও সব ধরনের পটভূমির মানুষ নিজেদের পাকশিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
 
সাজিদা খানের মতে, রান্না শুধুমাত্র কোনও রেসিপি অনুসরণ করা নয়, বরং এটি একটি অভিজ্ঞতা। মানুষ যেমন কোনও সিনেমা, সঙ্গীত অনুষ্ঠান বা নাটক উপভোগ করতে যান, ঠিক তেমনই কুকিংও এমন একটি অভিজ্ঞতা হওয়া উচিত, যা শেখার পাশাপাশি একজন মানুষকে আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস দেয়।
 
সাজিদা খানের 'কালিনারি ক্রাফটস' পাঠশালার শিক্ষার্থীরা
 
এই কারণেই কালিনারি ক্রাফটসে আসা শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র রেসিপি শেখানো হয় না, তাঁদের বোঝানো হয় কোনও খাবারের পেছনে থাকা বিজ্ঞান কী, মশলার ভারসাম্য কীভাবে তৈরি করতে হয়, স্বাদ ও পরিবেশনের মধ্যে কীভাবে সামঞ্জস্য রাখা যায় এবং একটি সাধারণ পদকে কীভাবে স্মরণীয় করে তোলা যায়।
 
স্টুডিওতে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারিক। এখানে শিক্ষার্থীরা অত্যাধুনিক, সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত রান্নাঘরে অভিজ্ঞ শেফদের নির্দেশনায় কাজ করার সুযোগ পান। চকলেট টেম্পারিং, ব্রেড ও কেক বেকিং, পেস্ট্রি তৈরি, পাস্তা প্রস্তুত করা, ডিম তৈরির বিভিন্ন কৌশল, আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় খাবারের খুঁটিনাটি, ফুড প্লেটিং এবং প্রেজেন্টেশনের মতো নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।প্রশিক্ষণের সময় অংশগ্রহণকারীদের শুধু রান্না করাই শেখানো হয় না, বরং পেশাদার রান্নাঘরে কীভাবে কাজ করতে হয় এবং গুণমান বজায় রেখে কীভাবে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে হয়, তাও শেখানো হয়।
 
সাজিদা খানের বিশ্বাস, ভালো শিক্ষা সেটিই, যা একজন মানুষকে আত্মনির্ভর করে তোলে। তাই কালিনারি ক্রাফটসের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পাকশিল্প শেখানো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতাও গড়ে তোলা।
 
বিশেষ করে মহিলাদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি একটি নতুন সুযোগ হিসেবে সামনে এসেছে। এখানে প্রশিক্ষণ নেওয়া বহু মহিলা নিজেদের বাড়ি থেকেই বেকারি ও ফুড ব্যবসা শুরু করেছেন। অন্যদিকে, অনেক তরুণ-তরুণী নামী হোটেল ও রেস্তোরাঁয় নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছেন। এইভাবে কালিনারি ক্রাফটস শুধুমাত্র দক্ষতা উন্নয়নের কেন্দ্র নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি মাধ্যমেও পরিণত হয়েছে।
 
 
সাজিদা খানের স্বপ্ন শুধুমাত্র একটি সফল স্টুডিওতেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর লক্ষ্য মুম্বাই মেট্রোপলিটন রিজিয়নের আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পাকশিল্পের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া, যাতে প্রত্যেক মানুষ সুস্বাদু ও গুণমানসম্পন্ন খাবার তৈরির কৌশল শিখতে পারেন এবং চাইলে এই দক্ষতাকে নিজের কেরিয়ার বা ব্যবসায় পরিণত করতে পারেন। তাঁর বিশ্বাস, রান্না এমন একটি দক্ষতা, যা সারাজীবন একজন মানুষের সঙ্গে থাকে এবং তাঁকে সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও অর্থনৈতিক সুযোগ, এই তিনটিই প্রদান করে।
 
আজ কালিনারি ক্রাফটস তাঁদের কাছে একটি অনুপ্রেরণাদায়ক নাম হয়ে উঠেছে, যারা নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ‘মাস্টারশেফ’-কে চিনতে চান। এখানে আসা শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র সুস্বাদু খাবার তৈরি করতে শেখানো হয় না, বরং খাবারের মাধ্যমে কীভাবে মানুষের মন জয় করা যায়, তাও শেখানো হয়।
 
সাজিদা খানের সাফল্য প্রমাণ করে, যখন কোনও নারীর আবেগ ও ভালোবাসা তাঁর দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তিনি শুধু নিজের জীবনই বদলে দেন না, বরং সমাজে দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দেন। তাঁর গল্প সেই সমস্ত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা, যারা নিজেদের স্বপ্নকে পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতার চেয়ে বড় বলে মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন যে পরিশ্রম, শেখার ইচ্ছা ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে যেকোনও লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব।


শেহতীয়া খবৰ