একসঙ্গে দুই হাত আর এক পা চলে! বালি, আগুন দিয়ে চোখের পলকে একাধিক ছবি এঁকে ফেলেন, স্পিড পেইন্টার রবিন বর যেন ‘সুপারম্যান’
তরুণ নন্দী / কলকাতা
ক্যানভাসে রঙ তুলিতে ছবি আঁকা তো একেবারে স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু যদি চোখের সামনে দেখেন শিল্পী একসঙ্গে দুহাত আর এক পা দিয়ে ছবি আঁকছেন, তবে তো অবাক হওয়ারই কথা। চোখের পলক ফেলার আগেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে একের পর এক শিল্পকর্ম। শুনতে রূপকথার গল্পের মতো মনে হলেও, এই অসম্ভবকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন বাংলা তথা দেশের কৃতী সন্তান বিশ্ববিখ্যাত স্পিড পেইন্টার রবিন বর।
তাঁর শৈশব কেটেছে এই বাংলায়। তবে আজ তাঁর শিল্পকর্মের ব্যাপ্তিতে নাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশ থেকে দেশান্তরে। চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর হিসেবে তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা যেকোনো শিল্পরসিককে ভাবতে বাধ্য করে। অনেকেই বলেন তিনি 'সব্যসাচী' শিল্পী। যাঁর দুটি হাত তো বটেই, সমান তালে এবং সমান দক্ষতায় কাজ করে তাঁর একটি পা। একই সঙ্গে দুটি হাত ও একটি পায়ের সাহায্যে তিনটি আলাদা আলাদা ছবি আঁকার মতো অসামান্য দক্ষতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
স্পিড পেইন্টার রবিন বর
তবে রবিন বর গোটা বিশ্বে যে জন্য বিখ্যাত তাহলো তাঁর অবিশ্বাস্য দ্রুততা। ক্যানভাসে ঝড় তুলে মাত্র ৩ মিনিটে দুই বাই তিন ফুট কাগজে ৩০টি ছবি এঁকে ফেলতে পারেন অনায়াসেই। আধ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার একাধিক পেইন্টিং ফুটিয়ে তুলতে পারেন, যা যেকোনো সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।
এই শিল্পীর সবচেয়ে আকর্ষনীয় গুণ হল, মানুষের সিগনেচার বা সইকে খুব দ্রুত একটি অর্থপূর্ণ ছবিতে পরিনত করার অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে। যা সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল। তাঁর এই গুণের পরিধিতে কুড়িয়েছে গোটা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রশংসা। বালি, আগুন কিংবা সাধারণ তুলি, শিল্পসৃষ্টির উপাদান যাই হোক না কেন, মঞ্চে দাঁড়িয়ে লাইভ পারফর্ম্যান্সের মাধ্যমে চিত্রশিল্পকে শিল্পী রবিন বর নিয়ে গেছেন একটি বিনোদনের পর্যায়ে।
এই অবিশ্বাস্য প্রতিভার জোরেই আন্তর্জাতিক স্তরে আজ রবিন বরের নাম রয়েছে প্রথম সারিতে। তাঁর ঝুলিতে একে একে জমা হয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস, ইউনিক ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এবং ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এর মতো অন্তত চার থেকে পাঁচটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বরেকর্ড।
সত্যি কথা বলতে কি, সাধারণ মানুষ যেভাবে ছবি আঁকেন বা দেখেন, সেইসব ধারনা বদলে দিয়েছেন রবিন বর। তাঁর শিল্পসৃষ্টির প্রদর্শনী যেন সেইসব চেনা ছকের সম্পূর্ণ বাইরে। একাধারে শিল্প, গতি আর অদ্ভুত শরীরী ভারসাম্যের যুগলবন্দীতে বিশ্বমঞ্চে নিজের নামকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই স্পীড পেইন্টার। মিশ্র মাধ্যমে শিল্প সৃষ্টির এই জাদুকরের তুলির টানে আগামী দিনে আরও কত ইতিহাস তৈরি হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।