আলফিয়া শেখ / পুণে
পুণের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় তিন মানাচে (Manache) গণপতি মূর্তির প্রতিকৃতি গণেশোৎসব, যা গণেশ চতুর্থী নামেও পরিচিত, উপলক্ষে জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। উপত্যকায় বসবাসকারী হিন্দুদের ফের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির হুমকির মধ্যে ভগবান গণেশকে উৎসর্গ করা এই উৎসব এবারও একটি সামাজিক উৎসব হিসেবে পালিত হবে।
কাশ্মীর উপত্যকায় গণেশোৎসব উদযাপনের এটি টানা পঞ্চম বছর। পুণের শ্রীমন্ত ভাউসাহেব রাঙ্গারি গণপতি ট্রাস্ট এবং পুণের অন্যান্য বিশিষ্ট মণ্ডলগুলির উদ্যোগে বিশেষভাবে এই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
কাশ্মীরের জন্য কর্মীদের হাতে গণপতি মূর্তি তুলে দেওয়া হচ্ছে
এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উপলক্ষে সম্প্রতি ট্রাস্টের মন্দিরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পুণের মর্যাদাপূর্ণ ‘শ্রী কাসবা গণপতি’, ‘শ্রী তাম্বডি জোগেশ্বরী’ এবং ‘গণপতি গুরুজি তালিম’-এর প্রতিকৃতি কাশ্মীরের গণেশ মণ্ডলগুলির প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
আনুষ্ঠানিক পুজোর পর মূর্তিগুলিকে নিরাপদে উপত্যকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। কাশ্মীরের প্রতিনিধিদের মধ্যে মোহিত ভান, ঋষভ চাকু, শিশান্ত চাকু, সন্দীপ রায়না, সঞ্জীব রায়না, হিতেশ রায়না এবং সন্দীপ কৌলের হাতে এগুলি তুলে দেওয়া হয়। এই সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে সমর্থন জানাতে পুণের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর উলহাস কদম, প্রবীণ পরদেশি, বিকাশ পাওয়ার, প্রশান্ত টিকার এবং সূরজ থোরাট উপস্থিত ছিলেন।
কাশ্মীরি পণ্ডিতরা কিছুটা ভিন্নভাবে গণেশ উৎসব পালন করেন। তাঁরা ‘রোথ’ (মিষ্টি দিয়ে তৈরি ভাজা রুটি) তৈরি করেন এবং গণেশ চতুর্থী থেকে শুরু হওয়া পক্ষের নির্ধারিত দিনগুলির মধ্যে কোনও একটি দিনে পরিবারে পুজো করেন। তাঁরা এই উৎসবকে ‘পান্ন দান’ (Pann Dann) নামে অভিহিত করেন। ঐতিহ্যগতভাবে কাশ্মীরি হিন্দুরা নিজেদের বাড়িতেই এই উৎসব পালন করেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মহারাষ্ট্র এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে পালিত উৎসবের আদলে সামাজিকভাবে গণেশোৎসব উদযাপনের চল তাঁদের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শ্রীমন্ত ভাউসাহেব রাঙ্গারি গণপতি ট্রাস্টের ট্রাস্টি পুনিত বালান একটি উত্তেজনাপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, শ্রী ভাউসাহেব রাঙ্গারি গণপতির ছয় ফুট উচ্চতার একটি মূর্তিও অনন্তনাগে পাঠানো হচ্ছে। এই বিশাল মূর্তিটি একটি প্রস্তাবিত গণেশ মন্দিরের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ওই অঞ্চলে ২,৫০০ বর্গফুট জমির উপর মন্দিরটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উৎসবটি পুনরুজ্জীবিত করার অনুপ্রেরণা সম্পর্কে বালান জানান, তাঁর কাশ্মীরি বন্ধুরা তাঁকে উপত্যকায় অতীতে এই উৎসব পালনের কথা এবং পরবর্তীকালে কীভাবে সেই ঐতিহ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সে সম্পর্কে নানা গল্প বলেছিলেন। সেই থেকেই তিনি ২০২২ সালে এই ঐতিহ্য পুনরায় শুরু করতে উদ্যোগী হন। এ বছরের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, শ্রীনগরে দেড় দিন এবং অনন্তনাগ ও কুপওয়াড়ায় পাঁচ দিন ধরে গণেশোৎসব পালিত হবে।
এবারের উৎসবের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হল স্থানীয় আয়োজকদের অসীম সাহস। বালান তাঁদের দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করে জানান, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির কাছ থেকে কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এই হুমকি সত্ত্বেও নিজেদের জীবনের পরোয়া না করে গণেশোৎসব পালনের তাঁদের উৎসাহ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। পুণের গণেশ মণ্ডলগুলির ধারাবাহিক সহযোগিতার লক্ষ্য হল এই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করা এবং কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলা।