৩ ঢাকের ওপর ১ পায়ে ব্যালেন্স! বাংলার 'সুপারলেডি'দের কসরত দেখে থ গোটা বিশ্ব, পুজোয় চমক দিতে শুরু হয়ে গেছে অনুশীলন
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 8 h ago
৩ ঢাকের ওপর ১ পায়ে ব্যালেন্স! বাংলার 'সুপারলেডি'দের কসরত দেখে থ গোটা বিশ্ব, পুজোয় চমক দিতে শুরু হয়ে গেছে অনুশীলন
তরুণ নন্দী / কলকাতা
ঢাকের কাঠি হাতে পেলেই তাঁদের বোলে যেন বদলে যায় গোটা পরিবেশ। সাধারণ ঢাকের তাল কানে এলেই মনটা এমনিতেই অন্যরকম হয়ে যায়। কিন্তু যদি সেই ঢাকেরই ওপর দাঁড়িয়ে, এক পায়ে শরীরের পুরো ভারসাম্য রেখে ঘুরতে ঘুরতে বাজে তাল?
চোখধাঁধানো মহিলা ঢাকিদের এই প্রতিভা আজ গোটা দুনিয়ার শিল্পরসিকদের মুগ্ধ করছেন। যাঁর নেপথ্যে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার মসলন্দপুরের শিলা রায় ও তাঁর ‘লোকনাথ ব্যান্ড অ্যান্ড মহিলা ঢাকি’।
সমাজে আজও মনে করা হয়, ঢাক বাজানো শুধুই পুরুষদের একচ্ছত্র অধিকার। কিন্তু সময় বদলেছে। মহিলারাও কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে নেমে পড়েছেন এই পেশায়। মহিলা ঢাকি শিলা রায় মহিলাদের নিয়ে ঢাকের দল গড়ার সিদ্ধান্ত নিতেই সমাজের চারপাশ থেকে উড়ে এসেছিল নানা বাঁকা কথা। মেয়েদের আবার ঢাক বাজানো কিসের? এমন নানা মন্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন শিলাদেবী।
সংসার সামলে সকাল-বিকেল চলে কঠোর অনুশীলন। মহিলা ঢাকিদের দল গড়তে শীলাদেবী মেয়েদের প্রথাগত ঢাক বাজানো নয়, শিখিয়েছেন একটি, দুটি, এমনকি তিনটি ঢাকের ওপর দাঁড়িয়ে ভারসাম্য রেখে কীভাবে ঢাক বাজানোর মতো কঠিন শারীরিক কসরত আয়ত্ত করতে হয়।
লোকনাথ ব্যান্ড অ্যান্ড মহিলা ঢাকি
জানা গেছে, তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক অনন্য দাম্পত্য মেলবন্ধন। শিলাদেবী জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নিজ হাতে তৈরি করেন ধবধবে সাদা চামড়ার এক বিশেষ ঢাক। যার সুর ও স্থায়িত্ব নিয়ে সুনাম রয়েছে ঢাকিমহলে। স্বামীর তৈরি করা সাদা ধবধবে চামড়ার সেই ঢাক কাঁধে তুলে নিয়ে কিংবা তার ওপর দাঁড়িয়ে সুরের ঝড় তুলছেন শিলা রায় ও তাঁর আটজন দক্ষ নারী ঢাকির দল।
এই দীর্ঘ পথচলায় আজ মহিলা ঢাকিদের প্রতিভা সুদূর বিদেশেও প্রবাসী বাঙালিদের ঢাকের তালে নাচতে বাধ্য করছেন। সময়ের হাত ধরে যেসব মুখগুলো একসময় সমালোচনায় মুখর ছিল, আজ তারাই বাহবা দিচ্ছে শীলাদেবী ও তাঁর মহিলা টিমের শিল্পীদের।
ঢাক প্রস্তুতের দৃশ্য
চলার পথে প্রতিটি বাধা টপকে এই মহিলা ঢাকিরা প্রমান করেছেন, ইচ্ছা আর সততা থাকলে কোনো কাজই ছোট নয়। পুরুষের সমকক্ষ হয়ে নিজেদের দক্ষতায় আজ তাঁরা স্বাবলম্বী। ঢাক বাজিয়ে শিল্পীর মর্যাদা নিয়ে সমাজে অর্জন করেছেন অভাবনীয় সম্মান। বলা ভালো ঢাকের প্রতিটি বোলে আজ প্রতিধ্বনিত হয় তাঁদের লড়াই, আত্মবিশ্বাস আর নারীশক্তির জয়গান।