ব্যস্ততা আর Productivity এক নয়: বেশি কাজ করলেই কি বেশি সফল হওয়া যায়?

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
গুয়াহাটি

আজকের দ্রুতগতির জীবনে ‘ব্যস্ত’ থাকা যেন সাফল্যের অন্যতম পরিচয় হয়ে উঠেছে। সারাদিন মিটিং, ফোন, ই-মেইল, একের পর এক কাজ, সব মিলিয়ে নিজের দিনকে যত বেশি ব্যস্ত রাখা যায়, ততই যেন নিজেকে সফল মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে ব্যস্ততা (Busyness) এবং প্রোডাক্টিভিটি (Productivity) এক জিনিস নয়। সারাদিন কাজের মধ্যে থাকা মানেই যে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কার্যকরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে, এমনটা নয়।
 
ব্যস্ততা কী?
 
ব্যস্ততা বলতে সাধারণত একসঙ্গে অনেক কাজের মধ্যে থাকা, বারবার কাজ বদলানো বা সারাক্ষণ কোনও না কোনও কাজে যুক্ত থাকাকে বোঝায়। একজন মানুষ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অসংখ্য কাজ করতে পারেন, কিন্তু দিনের শেষে হয়তো তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই অসম্পূর্ণ থেকে গেল।
 
অন্যদিকে, প্রোডাক্টিভিটির মূল বিষয় হলো ফলাফল। কত ঘণ্টা কাজ করা হয়েছে তার চেয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেটিই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
 
বেশি কাজ মানেই বেশি ফল নয়
 
বর্তমান ওয়ার্ক কালচারে (Work Culture) মাল্টিটাস্কিংকে (Multitasking) অনেক সময় দক্ষতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। একসঙ্গে ই-মেইলের উত্তর দেওয়া, ফোনে কথা বলা এবং রিপোর্ট তৈরি করা, বাইরে থেকে দেখতে খুব ব্যস্ত মনে হলেও এতে কাজের গুণমান ও মনোযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
 
একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্দিষ্ট সময় ধরে মনোযোগ দিয়ে শেষ করা অনেক সময় দশটি ছোটখাটো কাজ একসঙ্গে করার চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। তাই প্রোডাক্টিভিটির ক্ষেত্রে কাজের পরিমাণের চেয়ে কাজের মান এবং অগ্রাধিকার বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
 
সবসময় ‘অনলাইন’ থাকাও প্রোডাক্টিভিটি নয়
 
স্মার্টফোন ও ডিজিটাল যোগাযোগের কারণে কাজের সীমা এখন অনেকটাই অস্পষ্ট। অফিসের সময় শেষ হওয়ার পরও নোটিফিকেশন, ই-মেইল এবং ওয়ার্ক মেসেজ (Work Message) আসতেই থাকে। ফলে অনেকের মনে হয়, সবসময় অনলাইনে থাকলেই বুঝি তিনি দায়িত্বশীল ও কর্মঠ।
 
কিন্তু ক্রমাগত নোটিফিকেশন চেক করা বা প্রতি কয়েক মিনিটে কাজের মধ্যে ইন্টারাপশন আসা মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে। কখন কাজ করতে হবে এবং কখন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড (Digital World) থেকে দূরে থাকতে হবে, এই সীমা নির্ধারণ করাও প্রোডাক্টিভ থাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
 
বিশ্রামও কাজের অংশ
 
প্রোডাক্টিভিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিশ্রাম। পর্যাপ্ত ঘুম, বিরতি এবং কাজের বাইরে নিজের জন্য সময় না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তি ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সারাদিন কাজ করাই প্রোডাক্টিভিটির চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
 
কখনও কখনও একটি নির্দিষ্ট কাজ শেষ করার পর কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া, ফোন দূরে রাখা বা দিনের কাজের তালিকা নতুন করে সাজানোই পরবর্তী কাজকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।
 
তাহলে প্রোডাক্টিভিটি আসলে কী?
 
সহজ ভাষায়, Busyness বলে আপনি কতটা ব্যস্ত; Productivity বলে আপনার সেই ব্যস্ততার ফল কী।একজন ব্যক্তি দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করেও যদি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ করতে না পারেন, তবে তাঁর ব্যস্ততা প্রোডাক্টিভিটির নিশ্চয়তা দেয় না। অন্যদিকে, কেউ হয়তো কম সময় কাজ করছেন, কিন্তু সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সময়মতো শেষ করছেন, তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি প্রোডাক্টিভ হতে পারেন।
 
তাই আজকের কর্মজীবনে সাফল্যের নতুন মাপকাঠি হওয়া উচিত শুধু “আমি কতটা ব্যস্ত?” নয়, বরং “আমি যে সময় ও শক্তি ব্যয় করছি, তার মাধ্যমে কতটা অর্থপূর্ণ ফল তৈরি করতে পারছি?” কারণ Busy থাকা সহজ; সঠিক কাজে Focus করে Result তৈরি করাই আসল Productivity।