কলকাতা
হাওড়ার শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে এখন দর্শনার্থীদের মধ্যে নতুন উত্তেজনার নাম, রসগোল্লা গাছ। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন! নামটা মজার হলেও ঘটনা বাস্তব। বাগানের বিভিন্ন কোণে ছড়িয়ে থাকা এই গাছের ফল দেখতে অনেকটা রসগোল্লার মতো এবং স্বাদেও মিষ্টি, তাই স্থানীয় মানুষজন আদর করে নাম দিয়েছেন, রসগোল্লা ফল।
গাছটি কিন্তু ভারতের নয়। সুদূর সেন্ট্রাল আমেরিকা থেকে আনা এই ‘রসগোল্লা গাছ’ বহু বছর আগে শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে লাগানো হয়েছিল। এর পর থেকেই ধীরে ধীরে গাছটি নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে, শিকড় ছড়িয়েছে চারদিকে এবং আজ আকারে বিশাল হয়ে উঠেছে। এক নয়, একাধিক রসগোল্লা গাছ এখন শোভা বাড়াচ্ছে বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে।
অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যই গাছটিকে আলাদা করে দিয়েছে অন্যদের থেকে। দেখতে রসগোল্লার মতো গোল, রঙে সাদা এবং স্বাদে মিষ্টি, এই তিন বৈশিষ্ট্য মিলেই গাছটির নাম স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। বোটানিক্যাল গার্ডেনে আসা পর্যটকদের কাছেও এটি এখন অন্যতম আকর্ষণ। অনেকে মজা করে বলছেন, “রসগোল্লা যদি গাছে ফলে, তবে এটাই তার প্রমাণ!”
শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের যুগ্ম ডিরেক্টর দেবেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, “রসগোল্লা গাছ বহু বছর আগে এখানে আনা হয়েছিল। দেশীয় ও বিদেশি গাছগুলির সংগ্রহের মধ্যে এটি অন্যতম বিশেষ সংযোজন।”
ভারতীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণে অন্যতম কেন্দ্র আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যান–এ দেশি, বিদেশি এবং স্থানীয়, তিন ধরনের উদ্ভিদের সংরক্ষণ হয়। শৈবাল, ছত্রাক থেকে শুরু করে অজস্র বৃক্ষজাত উদ্ভিদ এখানে যত্নে রক্ষিত। এই সমৃদ্ধ সংগ্রহে ‘রসগোল্লা গাছ’ এখন যেন এক নতুন চমক।
বৈজ্ঞানিক নাম Chrysophyllum cainito, সাফোটার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। বাইরের খোসা ও ভেতরের শাঁস সাদা, বীজ দেখতে সাবেদার মতো হলেও আকারে কিছুটা বড়। উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে গাছে ফল ধরে।
এক কথায়, রসগোল্লা আর মিষ্টির রাজধানী এখন শুধু কলকাতা নয়, শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনেও! আর এই অদ্ভুত ও সুস্বাদু গাছকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটক এবং প্রকৃতিপ্রেমীরা।