নেতাজির ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফেরানোর আবেদন, কেন্দ্রের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট ঃ অনিতা বসু পাফ
নয়াদিল্লি:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান ও মৃত্যুর রহস্য ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যেই নতুন মোড়। টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত নেতাজির বলে দাবি করা ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফিরিয়ে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর একমাত্র কন্যা অনিতা বসু পাফ। মঙ্গলবার তাঁর আবেদনের শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
অনিতা বসু পাফের বক্তব্য, জাপানে সংরক্ষিত থাকা তাঁর বাবার বলে পরিচিত ওই দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে এনে যথাযথভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা উচিত। তাঁর পক্ষে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী এ এম সিংভি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত।
নেতাজির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রায় আট দশক ধরে বিতর্ক চলে আসছে। প্রচলিত সরকারি তদন্তের একটি অংশ অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহোকু—বর্তমান তাইপেই—এ একটি বিমান দুর্ঘটনার পর নেতাজির মৃত্যু হয়। সেই তত্ত্ব অনুযায়ী তাঁর দেহ দাহ করার পর দেহাবশেষ জাপানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষণ করা হয়। তবে এই দেহাবশেষ সত্যিই নেতাজির কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।
বিভিন্ন তদন্তে এই বিষয়ে ভিন্নমতও সামনে এসেছে। শাহনওয়াজ কমিটি এবং বিচারপতি জি ডি খোসলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর তত্ত্বকে সমর্থন করেছিল। অন্যদিকে বিচারপতি মুখার্জি কমিশন ২০০৬ সালে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর তত্ত্ব গ্রহণ করেনি এবং রেনকোজি মন্দিরের দেহাবশেষ নেতাজির নয় বলেও মত দিয়েছিল। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার ওই প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
এই বিতর্কের মধ্যেই মার্চ ২০২৬-এ সুপ্রিম কোর্টে নেতাজির দেহাবশেষ ভারতে ফেরানোর বিষয়ে একটি পৃথক আবেদন উঠেছিল। তখন আদালত জানিয়েছিল, নেতাজির একমাত্র উত্তরাধিকারী অনিতা বসু পাফ যদি এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ চান, তাহলে তাঁকেই সরাসরি আদালতের সামনে আসতে হবে।
এরপর এবার অনিতা বসু পাফ নিজেই আবেদন করলেন। ফলে রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত দেহাবশেষের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হল।
তবে আদালতের সামনে এখনও একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রেনকোজি মন্দিরে রাখা দেহাবশেষ আদৌ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কি না। অতীতে আদালতও এই প্রশ্নের প্রমাণ ও তথ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে।
এখন কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে কী অবস্থান নেয়, সেটিই নজরে। কেন্দ্রের জবাবের পর মামলাটির পরবর্তী গতিপথ স্পষ্ট হতে পারে। আর তার সঙ্গে প্রায় আট দশক ধরে চলা নেতাজির অন্তর্ধান ও মৃত্যুর রহস্যও ফের জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এল।