কলকাতা ঃ
আজ ১১ আগস্ট। বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর ১১৯তম শহিদ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে গোটা দেশ। ১৯০৮ সালের এই দিনেই ব্রিটিশ শাসকদের হাতে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করেন বাংলার অন্যতম তরুণ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু। তাঁর আত্মত্যাগকে স্মরণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
অতি অল্প বয়সেই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম বসু। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম কনিষ্ঠ শহিদ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন।
১৯০৮ সালে বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে তিনি বিহারের মুজফ্ফরপুরে ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ডকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ৩০ এপ্রিল ১৯০৮ সালে কিংসফোর্ডকে বহন করছে বলে মনে করে একটি গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেন তাঁরা। তবে গাড়িটিতে কিংসফোর্ড ছিলেন না। বিস্ফোরণে দুই ব্রিটিশ মহিলা নিহত হন।
ঘটনার পর প্রফুল্ল চাকী গ্রেফতার এড়াতে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে ক্ষুদিরাম বসু ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। বিচার শেষে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট মুজফ্ফরপুর কেন্দ্রীয় জেলে ক্ষুদিরাম বসুকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। মৃত্যুর মুখেও তাঁর অসীম সাহস ও দৃঢ়তা তাঁকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অমর প্রতীকে পরিণত করে।
দেশপ্রেম, তারুণ্যের সাহস এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে ক্ষুদিরাম বসু আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর আত্মবলিদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।