তিরঙ্গা যাত্রায় জাতীয় পতাকা ধরে হাঁটলেন হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে! রাজনীতির ঊর্ধ্বে দেশপ্রেম, বদলে দিল বঙ্গ রাজনীতির চেনা মেরুকরণ
তরুণ নন্দী / কলকাতা
স্বাধীনতার মেজাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলার কোনায় কোনায়। দেশপ্রেমের টানে ধর্মীয় ভেদাভেদ সরিয়ে মহতী উদ্যোগকে তুলে ধরতে হাত মেলালেন হিন্দু-মুসলিম সহ সর্বস্তরের মানুষ। ৯ থেকে ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে বিজেপির ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার হাড়োয়া এক নম্বর মণ্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত তিরঙ্গা যাত্রায় দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাড়োয়া অঞ্চলে।
হাড়োয়ার বাসাপাশা লালন মেলার ময়দান থেকে জাতীয় পতাকা হাতে হাজার হাজার মানুষ মিছিলে পা মেলালেন। সব ভেদাভেদ ভুলে বড় হয়ে উঠল ভারতীয় ঐক্যের ছবি। হাড়োয়া এক নম্বর মণ্ডল সভাপতি রজতবরণ সাহার নেতৃত্বে এই মিছিলে সামিল হয়েছিলেন বিমল দাস, লক্ষণ দাস, পার্থ চ্যাটার্জি, সুশেন বৈদ্য, সেলিম মোল্লা সহ বিজেপি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে এদিন তেরঙ্গা যাত্রায় সবথেকে উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।
২৪ পরগনার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার হাড়োয়া এক নম্বর মণ্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত তিরঙ্গা যাত্রা
জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলে হাঁটার পর উচ্ছ্বসিত সেলিম মোল্লা স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এখানে হিন্দু-মুসলিম আমরা সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই জাতীয় উৎসবে শামিল হয়েছি। বিজেপির এই উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে সত্যি দারুণ লাগছে।” রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ধর্মীয় বিভাজনের চেনা ছক ভেঙেই দেশভক্তিতে আকৃষ্ট হয়ে থাকা সেলিমদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করল জাতীয় পতাকার তিন রঙের সামনে সমাজের তৈরি করা সমস্ত বিভেদ ফিকে হতে বাধ্য।
মূলত, বঙ্গ বিজেপি এবার তাদের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ যাত্রার কর্মসূচিকে শুধু জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়নি। প্রত্যন্ত গ্রাম, সীমান্ত এলাকা ও মফস্বলে জাতীয়তাবাদের জোরালো বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য। বলা ভালো, হাড়োয়ার তেরঙ্গা যাত্রায় সকলের উপস্থিতি বোঝাল, জাতীয় আবেগকে সামনে রাখলে বিভাজনের রাজনীতি দূরে সরিয়ে সুসংহত সমাজ গড়া মোটেও অসম্ভব নয়। বর্তমান সময়ের এই সম্প্রীতির চিত্রটা বোধহয় সত্যি জরুরী ছিল।
সমাজকর্মীদের মতে, ভিন্ন ধর্মের মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে এমন কর্মসূচি আসলে দেশের মৌলিক বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের মূল চালিকাশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বার্তা দিল, জনগণ এখনও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেমকে স্থান দিতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক দলগুলি যদি সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এই ধরণের সামাজিক ও জাতীয় ঐক্যের ধারা অব্যাহত রাখতে পারে, তবেই ভারতীয় গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।