পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ ভোটার বাদ: ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের তথ্য চাইল সুপ্রিম কোর্ট

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 h ago
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ ভোটার বাদ: ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের তথ্য চাইল সুপ্রিম কোর্ট
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ ভোটার বাদ: ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের তথ্য চাইল সুপ্রিম কোর্ট
 
নয়াদিল্লি:

 পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর সময় যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। আদালতের নির্দেশে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে এখনও পর্যন্ত কতগুলি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কতগুলি মামলা হাতে রয়েছে, সেই তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার বেঞ্চ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে এই নির্দেশ দেয়। আবেদনে পশ্চিমবঙ্গের আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে এসআইআর-সংক্রান্ত মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছিল।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, শুধু আপিল দায়ের করাই যথেষ্ট নয়, সেই আপিলের কী পরিণতি হচ্ছে সেটিও দেখা প্রয়োজন। তাই এখনও পর্যন্ত কতগুলি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান আদালতের কাছে পেশ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।শীর্ষ আদালত রাজ্যের আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে নিষ্পত্তি হওয়া এবং এখনও বিচারাধীন মামলাগুলির বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।

শুনানিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর আইনজীবী এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের সরকারি রেশন বা গণবণ্টন ব্যবস্থার সুবিধা (পিডিএস) না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদন বা আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের পিডিএস সুবিধা বন্ধ করা উচিত নয়।

তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে পিডিএস সুবিধা বন্ধ করা হচ্ছে কি না, সেটি আলাদা বিষয়। এই অভিযোগ কলকাতা হাইকোর্টে পৃথকভাবে জানাতে হবে।

বিচারপতি বাগচী বলেন, আবেদনের পরিধি যদি পিডিএস সুবিধার বিষয়েও বাড়ানো হয়, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এই মামলাটি গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। তাঁর মতে, এসআইআর-এর তথ্য ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনও ব্যক্তির পিডিএস সুবিধা বন্ধ করছে কি না, সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণের মামলা এবং তা কলকাতা হাইকোর্টে উত্থাপন করতে হবে।

বিচারপতি বাগচী আরও বলেন, এই মুহূর্তে আদালতের মূল নজর ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে নয়। বরং আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে কত দ্রুত এবং কত সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে, সেটিই প্রধান বিষয়।

তিনি আপিল ট্রাইব্যুনালের পুরো ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক করার কথাও বলেন। অনলাইনে বিচারকদের কাছে মামলার নথি পৌঁছে দেওয়া-সহ ভবিষ্যৎমুখী বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ডি এস নাইডু মামলাটি ২৫ আগস্ট অন্যান্য একই ধরনের মামলার সঙ্গে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানান।

এরপর বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ২৫ আগস্ট মামলাটি অন্যান্য বিচারাধীন মামলার সঙ্গে যুক্ত করে শুনানি করা হবে।এর আগে গত ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিলের শুনানির জন্য স্বাধীন আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। এই ট্রাইব্যুনালগুলির নেতৃত্বে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিরা।

এছাড়াও এসআইআর-সংক্রান্ত অভিযোগের শুনানির জন্য পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের নিম্ন আদালতের বিচারকদেরও কাজে নিয়োগের অনুমতি দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়াটি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে পরিচালিত হয়েছিল। প্রক্রিয়াটি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি তৎকালীন রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ‘আস্থার ঘাটতি’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।


শেহতীয়া খবৰ