বিজেপি শিবিরে 'মুসলিম ঢেউ'? বসিরহাটে গ্রাম কমিটির ক্ষমতা গেল সংখ্যালঘুদের হাতে, বিরোধীদের ঘুম এড়াতে নয়া কৌশল বিজেপির

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
বিজেপি শিবিরে 'মুসলিম ঢেউ'? বসিরহাটে গ্রাম কমিটির ক্ষমতা গেল সংখ্যালঘুদের হাতে, বিরোধীদের ঘুম এড়াতে নয়া কৌশল বিজেপির
বিজেপি শিবিরে 'মুসলিম ঢেউ'? বসিরহাটে গ্রাম কমিটির ক্ষমতা গেল সংখ্যালঘুদের হাতে, বিরোধীদের ঘুম এড়াতে নয়া কৌশল বিজেপির
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির নজরে এবার সংখ্যালঘুরা। সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে এবার মিনাখাঁ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় গ্রাম কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হলো সংখ্যালঘুদের। সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে গড়া হচ্ছে বিশেষ গ্রাম কমিটি। রাজ্যে জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি একের পর এক মাষ্টারস্ট্রোক দিতে শুরু করেছে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ভবিষ্যতের নির্বাচনী লড়াইয়ের সলতে পাকাতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। সামনেই বসিরহাট লোকসভা উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
 
পাশাপাশি আগামীতে পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন নিয়েও অংক কষতে শুরু করছে বঙ্গ বিজেপি। আর তাই সংগঠনকে বুথ স্তর থেকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে স্থানীয় স্তরে। যার অংশ হিসেবে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা মিনাখাঁ বিধানসভার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে সংগঠনের মূল দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের হাতেই।
 

বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত ১২২ নম্বর মিনাখাঁ বিধানসভার ধুতুরদহ অঞ্চলে সংগঠনকে সাজাতে এক বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। জনমত তৈরি করতে ছোট ছোট জনসভা ও কর্মীসভার মধ্য দিয়ে দলীয় কর্মসূচি সম্প্রসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর,  ধুতুরদহ অঞ্চলের ২৩৭ নম্বর বুথে আবু খায়ের আলী মোল্লা, ২৩৮ নম্বর বুথে সত্যবান সরদার, ২৩৯ নম্বর বুথে খোকন মিস্ত্রি, ২৪০ নম্বর বুথে রহমালী ঢালী এবং ২৪২ নম্বর বুথে আবু মোতালেব সরদারের হাতে গ্রাম কমিটি পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পন করা হয়।
 
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার অন্যতম শীর্ষ নেতা নুর ইসলাম মোল্লা, জেলা কমিটির সদস্য তথা ২০২৬-এর মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রুদ্রেন্দ্র পাত্র, মিনাখাঁ ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি ভরত দাস, সাধারণ সম্পাদক রামকৃষ্ণ নাইয়া, মিন্টু দাসসহ ব্লক, মণ্ডল ও জেলা স্তরের অন্যান্য কর্মী ও নেতৃবৃন্দ। এদিনের সভা থেকে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সকলকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সার্বিক উন্নয়নই নবগঠিত সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
 
সভার একটি দৃশ্য
 
বিরোধী শিবিরের অপ্রচারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নেতা নুর ইসলাম মোল্লা বলেন, বিজেপিকে অনেকে সাম্প্রদায়িক বলে অপপ্রচার চালায়। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর ৪ তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত কারও প্রতি কি কোনো অন্যায় হয়েছে? কেউ কি দেশছাড়া হয়েছেন বা কারও ঘরবাড়ি ভাঙা হয়েছে? বিজেপি প্রমাণ করে দিয়েছে, কীভাবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়।
 
স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিজেপিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই নতুন উদ্দীপনা দেখে উচ্ছ্বসিত গেরুয়া শিবির। সংখ্যালঘুদের এই বিজেপির প্রতি মোহ দেখে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আগামী দিনে অঞ্চলটিতে পদ্ম শিবিরের ভিত্তি আরও শক্ত করবে। গ্রাম স্তরে গেরুয়া শিবিরের এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।