উত্তর-পূর্বে ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’-এর বড় সাফল্য, অসম-মিজোরাম-মণিপুরে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ১৮

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 h ago
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
 
নয়াদিল্লি

মাদক পাচার এবং আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। সম্প্রতি ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’-এর অধীনে উত্তর-পূর্ব ভারতের তিনটি রাজ্য, অসম, মিজোরাম ও মণিপুরে যৌথ অভিযান চালিয়ে একটি বড় আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের হদিশ পেয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।
 
গত ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার, একাধিক মাদকবিরোধী সংস্থা ও পুলিশ বাহিনী একযোগে তিনটি রাজ্যের প্রায় ৩৮টি জায়গায় অভিযান চালায়। এই অভিযানে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু গ্রেফতারি নয়, এই অভিযানের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির তথ্যও সামনে এসেছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, তদন্তে প্রায় ১০০ কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ১,৪২৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৭.৮২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন ১২ লক্ষ টাকা নগদ এবং ৫০০টি ডিটোনেটরও উদ্ধার করা হয়েছে।
 
রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমাজমাধ্যম এক্সে এই অভিযানের সাফল্যের কথা জানান। একই সঙ্গে অভিযানে যুক্ত তিন রাজ্যের কেন্দ্রীয় সংস্থা ও পুলিশ বাহিনীর দলগুলিকে অভিনন্দন জানান তিনি।
 
অমিত শাহ তাঁর পোস্টে লেখেন, “মোদী সরকার ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’-এর মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় দমন অভিযান শুরু করেছে। এই অপরাধী নেটওয়ার্ক ভারত, মায়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্ত বরাবর একটি ভয়াবহ ‘ডেথ ট্রায়াঙ্গল করিডর’-এর মাধ্যমে মাদক পাচার করত।”
 
তিনি আরও জানান, ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি মাদক পাচার চক্রকে নির্মূল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
 
উল্লেখ্য, নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে পদক্ষেপের পর এবার মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর উপরে জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত ২১ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে পুলিশ স্মৃতিদিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, আগামী সাড়ে তিন বছরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মাদকের বিরুদ্ধে নির্ণায়ক যৌথ লড়াই চালাবে। সেই ঘোষণার পর ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’-এর এই সাফল্যকে মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


শেহতীয়া খবৰ