অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে ভারত-চিন সেনার মুখোমুখি পরিস্থিতি অব্যাহত: ITBP প্রধান

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 h ago
অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে ভারত-চিন সেনার মুখোমুখি পরিস্থিতি অব্যাহত: ITBP প্রধান
অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে ভারত-চিন সেনার মুখোমুখি পরিস্থিতি অব্যাহত: ITBP প্রধান
 
নয়াদিল্লি

অরুণাচল প্রদেশের ভারত-চিন সীমান্তের একাধিক স্থানে গত কয়েক দিন ধরে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনী (আইটিবিপি)-র ডিরেক্টর জেনারেল শত্ৰুজিৎ কাপুর।
 
চলতি মাসের শেষে অবসর নিতে চলেছেন কাপুর। রাজস্থানের আলওয়ারে বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “গত কয়েক দিনে অরুণাচল প্রদেশের একাধিক স্থানে ভারত ও চিনের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।”
 
আইটিবিপি প্রধান আরও জানান, বাহিনীতে ‘শৌর্য কমান্ডো’ নামে একটি নতুন বিশেষ যুদ্ধদল গঠন করা হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সঙ্গে মুখোমুখি পরিস্থিতির মোকাবিলায় এই কমান্ডো দল নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
 
কাপুর জানান, আগামী দিনে সীমান্তে মোতায়েন প্রতিটি ব্যাটালিয়নে এই বিশেষ কমান্ডো দল থাকবে। এর ফলে বাহিনীর সামরিক দক্ষতা বাড়বে এবং আইটিবিপি একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি লাভ করবে।
 
তবে সূত্রের দাবি, চিনের সঙ্গে সীমান্তে মুখোমুখি পরিস্থিতি নিয়ে আইটিবিপি প্রধানের মন্তব্য মূলত সীমান্তে বাহিনীর নিয়মিত মোতায়েন ও প্রস্তুতির প্রসঙ্গে করা হয়েছে। এই বক্তব্যের সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট সংঘর্ষ বা ঘটনার সরাসরি যোগ নেই বলেও সূত্রগুলি স্পষ্ট করেছে।
 
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে গঠিত আইটিবিপি চিনের সঙ্গে ভারতের ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করে।
 
আইটিবিপি প্রধানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন এস রাজা সুব্রহ্মণী ভারত-চিন সীমান্তের পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল বলে উল্লেখ করেছিলেন।
 
গত সেপ্টেম্বর মাসে এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে অংশ নিয়ে জেনারেল সুব্রহ্মণী বলেছিলেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল এবং এ নিয়ে উদ্বেগের বিশেষ কারণ নেই।
 
তাঁর কথায়, “আমার মতে, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল। সম্প্রতি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকের বিষয়টিও আপনারা জানেন। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আলোচনা হল সর্বোত্তম উপায়।”
 
তিনি আরও জানান, সীমান্তে মোতায়েন দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সময়ে সময়ে সীমান্তের সেনা আধিকারিকদের মধ্যে বৈঠকও হয়। তাঁর মতে, বর্তমানে সীমান্তে অস্থিরতার কোনও পরিস্থিতি নেই এবং উদ্বিগ্ন হওয়ারও বিশেষ কারণ নেই।
 
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বের কথা বলেন।
 
নয়াদিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকনমি ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি জানান, সীমান্তে যে কোনও ধরনের অশান্তি বা উত্তেজনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
 
জয়শঙ্করের কথায়, “আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে ভারত-চিন সম্পর্ক উন্নত হয়েছে কি না, তাহলে আমি বলব, হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সম্পর্ক আরও উন্নত হয়েছে।”
 
এদিকে, আইটিবিপি প্রধান শত্ৰুজিৎ কাপুর চিন সীমান্তকে ভারতের অন্যতম চ্যালেঞ্জপূর্ণ সীমান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, চিন একটি শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং ভারতের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেও জোর দেওয়া জরুরি।
 
বিশেষ করে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। কাপুরের মতে, ড্রোন যেমন বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তেমনই নতুন সম্ভাবনার পথও খুলে দিচ্ছে। চিন তাদের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে আধুনিক করে তুলতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। ফলে প্রচলিত সামরিক পদ্ধতিতে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সহজ হবে না।
 
তবে ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন যুদ্ধের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তির সাহায্যে একটি ছোট দেশও শক্তিশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
 
কাপুর বলেন, “ড্রোনের আবির্ভাবের পর থেকে প্রচলিত সেনাবাহিনীর ভূমিকা বদলে গিয়েছে। তাই ড্রোন এবং ড্রোনবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারে আমাদের আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”
 
আইটিবিপি জওয়ানদের যুদ্ধদক্ষতা বাড়াতে ‘স্ট্রাইক’ নামে একটি নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান বাহিনীর প্রধান। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় জওয়ানদের আরও দক্ষ করে তোলাই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। ২০২৭ সালের শেষের মধ্যে আইটিবিপির সমস্ত জওয়ানকে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুন মাসে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই সংঘর্ষে ভারতীয় জওয়ানদের উপর পাথর, পেরেক লাগানো লাঠি, লোহার রড এবং অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়। পরবর্তী সময়ে চিন চার জন সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে চিনা সেনার মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি ছিল বলে দাবি করা হয়েছিল।
 
এই পরিস্থিতিতে ভারত-চিন সীমান্তে মোতায়েন আইটিবিপি জওয়ানদের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি এবং বিশেষ যুদ্ধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও সক্ষম করে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।