৬৬ হাজার দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নে, ব্যতিক্রম শুধু চোরবাগানের দুর্ঘটনা! মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সতর্কতার বার্তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা
চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা বাদ দিলে রাজ্যের প্রায় ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। শনিবার এমনই মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, “চোরবাগানের ঘটনা ছাড়া রাজ্যের ৬৬ হাজার পুজোই ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিসর্জনও নির্বিঘ্নে হয়েছে। প্রতি বছর নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত, কিন্তু এ বছর তেমন ঘটনা ঘটেনি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা না ঘটলেই ভালো হত। এখন এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।”
আগামী কালীপুজোর আগে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
চোরবাগানের পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখরাহাটে স্নেহা ভাণ্ডারী এবং হাওড়ার সালকিয়ায় বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মৃতদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্যও তুলে দেন তিনি। তাঁর দাবি, এ নিয়ে মোট ১৫টি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এমন অপূরণীয় ক্ষতির কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না। কিন্তু এই কঠিন সময়ে পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। আমরা আর্থিক সাহায্য দিয়েছি এবং আগামী দিনেও তাঁদের পাশে থাকব।” পাশাপাশি, দুর্ঘটনায় মৃত এক ব্যক্তির স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। আগামী ডিসেম্বর মাসে তিনি কাজে যোগ দেবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
২০১৭ সালে গঙ্গাসাগর মেলায় জেটি ভেঙে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তৎকালীন সরকারের ভূমিকার সঙ্গে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের তুলনা টেনে তিনি বলেন, “আমরা কী করছি, তার কৃতিত্ব নিতে চাই না। মানুষ সব কিছু দেখছেন, তাঁরাই বিচার করবেন। সেই সময়ের প্রতিক্রিয়া আর এখনকার প্রতিক্রিয়ার পার্থক্য মানুষ জানেন।”
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর কলকাতার চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ২৫ জন। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘিরে পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।