কলকাতা
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চুরি করা মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশে পাচার করা হত বলে অভিযোগ। এই আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের তদন্তে নেমে কলকাতার বড়বাজার থেকে মহম্মদ মুস্তাফা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল মুম্বাই পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের অন্যতম মূল পাণ্ডা মুস্তাফা। শুক্রবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হলে সাত দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুম্বাইয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, চোরাই মোবাইল ফোন পাচারের এই নেটওয়ার্কের হদিশ পেতে তদন্ত চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৯১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করা ফোন সংগ্রহ করে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেগুলি বাংলাদেশে পাঠানো হত।
এই পাচারচক্রের তদন্ত করতে গিয়েই মুস্তাফার নাম সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বড়বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন মুম্বাই পুলিশের তদন্তকারীরা। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া এবং মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়ে ব্যাঙ্কশাল আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে।
তদন্তকারীদের এখন মূল লক্ষ্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কীভাবে চোরাই ফোন সংগ্রহ করা হত, কোন পথে সেগুলি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছত এবং এই নেটওয়ার্কে আর কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করা। ফোন পাচারের পিছনে কোনও সংগঠিত সরবরাহকারী চক্র কাজ করছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারচক্রের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র, ফোন সরবরাহের রুট এবং অন্য অভিযুক্তদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া ১৯১টি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।