এভারেস্ট বেসক্যাম্পে ট্রেকিং করতে গিয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখে বসিরহাটের ২৯ জন পর্বতারোহী। বরফে ঢাকা পাহাড়ি এলাকায় যে হোটেলে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সেই হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। কোনওরকমে প্রাণে বাঁচলেও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে তাঁদের জামাকাপড়, শীতের পোশাক, ওষুধপত্র, টাকা-পয়সা-সহ যাবতীয় সামগ্রী। বাইরে চলছে তুষারপাত। চতুর্দিকে জমছে কোমর সমান বরফ। এই পরিস্থিতিতে আটকে পড়া পর্বতারোহীদের উদ্ধারে ভারত সরকারের কাছে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করার আবেদন জানাল বসিরহাটের ট্রাভেলার্স গিল্ড।
সূত্রের খবর, গত ২১ অক্টোবর বসিরহাটের পর্বতারোহণ সংস্থা ট্রাভেলার্স গিল্ডের উদ্যোগে প্রায় ৩০ জনের একটি দল কলকাতা থেকে এভারেস্ট বেসক্যাম্প ট্রেকিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। গত ২৮ অক্টোবর তাঁরা পৌঁছন নেপালের ডিংবোচে এলাকায়। তুষারপাতের কারণে সেখানে একটি হোটেলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে হোটেলে আগুন লেগে যায়।
প্রাণ বাঁচাতে কোনওরকমে হোটেল থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন পর্বতারোহীরা। কিন্তু মাত্র তিন-চারজন ছাড়া বাকিরা নিজেদের কোনও মালপত্রই উদ্ধার করতে পারেননি। আগুনে পুড়ে গিয়েছে শীতের পোশাক, ট্রেকিংয়ের জুতো, ব্যাগ, ওষুধপত্র এবং দলের জন্য রাখা সমস্ত টাকা। বর্তমানে পাশের একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু তাদের বিপদ এখনও কাটেনি বলেই জানা গেছে।
তুষারপাত অব্যাহত, কোমর সমান বরফে আবৃত চতুর্দিক। পর্যাপ্ত শীতের পোশাক, জুতো এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাহাড় থেকে নেমে আসা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক এই প্রতিকূলতার মধ্যে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে আটকে পড়া পর্বতারোহীদের।
হোটেলে ভয়াবহ আগুনের একটি দৃশ্য
এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে ট্রাভেলার্স গিল্ড। নেপালের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পর্বতারোহীদের উদ্ধার করে নিরাপদ কোনও জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা।
এখন একটাই প্রশ্ন, প্রতিকূল আবহাওয়া আর বরফের মধ্যে আটকে থাকা এই ২৯ জন পর্বতারোহীকে কবে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে? পরিবারের সদস্যরাও এখন তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি উদ্যোগের দিকে।