নয়াদিল্লি/গুয়াহাটি:
উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে। দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি হয়ে অসমের গুয়াহাটি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন চালানোর প্রস্তাবিত নর্দার্ন হাইস্পিড রেল করিডরে অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার বারাণসীতে এই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজধানীর সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ অনেক দ্রুত হবে। বিশেষ করে অসম-সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
রেলমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বুলেট ট্রেন করিডর দিল্লি থেকে শুরু হয়ে আগ্রা, কানপুর, লখনউ, অযোধ্যা, বারাণসী, প্রয়াগরাজ, পাটনা ও শিলিগুড়ি হয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত পৌঁছবে। অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিকে যুক্ত করে শেষ পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রবেশ করবে এই হাইস্পিড রেলপথ।
শনিবার বারাণসী থেকে বারাণসী-নয়াদিল্লি বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধনের আগে এই প্রকল্পের অনুমোদনের কথা জানান অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নর্দার্ন বুলেট ট্রেন করিডরে অনুমোদন দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প যুবসমাজ, মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
দিল্লি থেকে গুয়াহাটি পৌঁছতে লাগতে পারে ৮ ঘণ্টারও কম
প্রস্তাবিত করিডরের অন্যতম আকর্ষণ যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসা। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দিল্লি থেকে আগ্রা যেতে সময় লাগবে মাত্র ৫৯ মিনিট। দিল্লি থেকে কানপুর ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট এবং লখনউ পৌঁছতে ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট লাগতে পারে। দিল্লি থেকে বারাণসী পৌঁছনোর সম্ভাব্য সময় ৩ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। অন্যদিকে, লখনউ থেকে বারাণসী যেতে সময় লাগতে পারে ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট।
আকাশবাণীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত করিডরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার। দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত বর্তমানে প্রায় ২০ ঘণ্টার রেলযাত্রা কমে ৬ ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
অসমকে যুক্ত করতে উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রীর
প্রাথমিক পরিকল্পনায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন করিডরের কথা থাকলেও পরে গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বার্থে তিনি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে এই করিডর গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারণের আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব বিবেচনা করে অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে গুয়াহাটি পৌঁছতে আট ঘণ্টারও কম সময় লাগতে পারে। এর ফলে অসমের সঙ্গে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলির যোগাযোগ আরও সহজ হবে। রাজ্যে প্রযুক্তি ও আধুনিক শিল্পের বিকাশেও এই যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মাণের পরিকল্পনা
রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুলেট ট্রেন প্রকল্পের নির্মাণকাজে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতার ব্যবহার করা হবে। স্তম্ভ নির্মাণ থেকে শুরু করে গার্ডার বসানো পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার, শ্রমিক ও কারিগররা যুক্ত থাকবেন। প্রকল্পটি 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এখনও এই করিডরের বিস্তারিত স্টেশন তালিকা, মোট নির্মাণ ব্যয় এবং কাজ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও পরিষেবা চালুর জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত দিল্লি-গুয়াহাটি বুলেট ট্রেন করিডর বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে অসম, উত্তরবঙ্গ এবং বিহারের মানুষের কাছে দ্রুত যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।