রাজস্থানের আজমেরে অবস্থিত খাজা মইনুদ্দিন হাসান চিশতির দরগায় এই সপ্তাহে দেখা গেল এক বিশেষ অতিথিকে। অসমের গুয়াহাটিতে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দিরের সাধ্বী পণ্ডিত বিদ্যা দেবী সুফি সাধকের মাজারে প্রার্থনা করেন এবং চাদর চড়ান। কামাখ্যা মন্দির শক্তিপীঠগুলির অন্যতম এবং দেবীশক্তির পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত।
হিন্দু ধর্মের ৫১টি পবিত্র শক্তিপীঠের অন্যতম হিসেবে বিশ্বজুড়ে খ্যাত কামাখ্যা মন্দির দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। পণ্ডিত বিদ্যা দেবী আজমের শরিফের দরগায় চাদর চড়িয়ে প্রার্থনা করেন এবং দেশের শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা করেন।
কামাখ্যা পীঠের এক সাধ্বীর আজমের দরগা সফর দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করেছে। দরগা চত্বরে পণ্ডিত বিদ্যা দেবীকে আধ্যাত্মিক আবেশে ডুবে থাকতে দেখা যায়। সেখানে সুফি কাওয়ালিও উপভোগ করেন তিনি।
তাঁর সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদলও এসেছিল। দরগায় উপস্থিত হয়ে তাঁরা ধর্মীয় বিদ্বেষ দূর করার লক্ষ্যে কাজ করার শপথ নেন। মাজারে ফুল অর্পণ করে তাঁরা ভারতের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। দরগার খাদেম সৈয়দ আহমেদ আলি নিয়াজি পণ্ডিত বিদ্যা দেবীকে দরগা চত্বর ঘুরিয়ে দেখান। সেই সঙ্গে দরগার ইতিহাস ও সুফি ঐতিহ্য সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন।
প্রথা অনুযায়ী, তিনি সমস্ত অতিথিকে পাগড়ি পরিয়ে সম্মান জানান এবং দরবারের তবাররুক বা পবিত্র প্রসাদ তুলে দেন। ধর্মীয় এই আয়োজন উপস্থিত তীর্থযাত্রীদের মন জয় করে নেয়। পণ্ডিত বিদ্যা দেবী তীর্থযাত্রী ও অসহায় মানুষের জন্য একটি লঙ্গরেরও আয়োজন করেন। সেখানে তিনি নিজে হাতে খাবার বিতরণ করেন।
দরগার খাদেম সৈয়দ আহমেদ আলি নিয়াজি জানান, পণ্ডিত বিদ্যা দেবীর সঙ্গে আজমের দরগার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বহু বছর ধরেই তিনি নিয়মিত এই দরগায় আসছেন। তাঁর দাবি, নতুন কোনও উদ্যোগ শুরু করার আগে সুফি সাধক খাজা মইনুদ্দিন চিশতির আশীর্বাদ নিতে তিনি আজমের শরিফে আসেন।
পণ্ডিত বিদ্যা দেবী দরগার জন্য একটি ছাউনি এবং একটি বড় চাদরও উপহার দেন। খাদেমদের মতে, আগামী ৮১৫তম উরস উপলক্ষে ব্যাপক পরিসরে মানুষের সেবা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন পণ্ডিত বিদ্যা দেবী।উরস উপলক্ষে ভারত ও বিদেশ থেকে আগত তীর্থযাত্রীদের খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে তিনি সহযোগিতা করতে চান।
সারা দেশেই তাঁর হাজার হাজার অনুগামী রয়েছেন। পণ্ডিত বিদ্যা দেবী বিশ্বাস করেন, পরমেশ্বরের উপাসনার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হল মানবসেবা। তীর্থযাত্রা শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন পণ্ডিত বিদ্যা দেবী। তিনি জানান, আজমের দরগায় এসে যে আধ্যাত্মিক শান্তি অনুভব করেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রয়োজন। দেশে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় বিদ্বেষ দূর করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সকলের মঙ্গল এবং দেশের অগ্রগতির কামনা নিয়েই তিনি এখানে এসেছেন।
দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করেন পণ্ডিত বিদ্যা দেবী। দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পড়ুয়াদের দাবিগুলি যুক্তিসংগত হতে পারে এবং প্রতিবাদ জানানোর অধিকার তাঁদের রয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর পদটির নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে। প্রতিবাদ জানানোর সময় পড়ুয়াদের ভাষার ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা উচিত। প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানানো প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। পড়ুয়ারাই দেশের ভবিষ্যৎ, তাই তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা উচিত।
পণ্ডিত বিদ্যা দেবী বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবা করার চেয়ে বড় ধর্ম আর কিছু হতে পারে না। দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ালে মন প্রকৃত শান্তি লাভ করে। তিনি জানান, খাজা গরিব নেওয়াজের আশীর্বাদ তাঁর আধ্যাত্মিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং সেই আশীর্বাদের টানেই বারবার তাঁকে আজমেরে নিয়ে আসে।