চোরবাগানে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে বিহারের পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিল রাজ্য

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 5 h ago
চোরবাগানে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে বিহারের পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিল রাজ্য
চোরবাগানে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে বিহারের পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিল রাজ্য
 
কলকাতা

চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন বিহারের মুজফফরপুরের বাসিন্দা অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮) ও তাঁর সাত বছরের ছেলে অংশ শ্রীবাস্তব। এবার দুর্ঘটনায় মৃত পিতা-পুত্রের পরিবারের পাশে দাঁড়াল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুজফফরপুরে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে মোট ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিধায়ক উমেশ রাই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
 
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এদিন মুজফফরপুরে পৌঁছন উমেশ রাই। মৃত অভিষেক ও তাঁর ছেলে অংশের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকা করে দুটি চেক তুলে দেন তিনি। অর্থাৎ রাজ্য সরকারের তরফে মোট ৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফে আরও ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
 
ভিডিও কলে পরিবারের এক মহিলা সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চোরবাগানের দুর্ঘটনায় বহু আহতকে বাঁচাতে পেরেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁদের পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাঁর কথায়, “এটা আমাদের হাতে ছিল না।” একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, এই কঠিন সময়ে রাজ্য সরকার পরিবারটির পাশে থাকবে।
 
পরিবারের তরফে বিহার সরকারের সঙ্গে কথা বলে একজন সদস্যের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়োগবিধি এবং ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়। দুর্ঘটনায় মৃত পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের পরিবারের ক্ষেত্রে সেই শর্ত পূরণ করা সম্ভব হলেও অভিষেকের পরিবার বিহারের বাসিন্দা হওয়ায় বিষয়টি কিছুটা জটিল। তবে বিহারের বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
 
এদিন উমেশ রাইও মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, স্থানীয় বিধায়ক ও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিবারটিকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, ভবিষ্যতেও পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
 
উল্লেখ্য, চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। তবে ভিনরাজ্যের বাসিন্দা হওয়ার কারণে অভিষেকের পরিবারের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত।
 
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। সেই রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
 
এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ অভিষেকের পরিবার। সেই শোকের ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হলেও আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিল রাজ্য সরকার।


শেহতীয়া খবৰ