১৯ মৃত্যুর ধাক্কায় বড় সিদ্ধান্তের পথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! দুর্গাপুজোয় উঠতে পারে ভিআইপি গেট, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারি

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 18 h ago
১৯ মৃত্যুর ধাক্কায় বড় সিদ্ধান্তের পথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! দুর্গাপুজোয় উঠতে পারে ভিআইপি গেট, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারি
১৯ মৃত্যুর ধাক্কায় বড় সিদ্ধান্তের পথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! দুর্গাপুজোয় উঠতে পারে ভিআইপি গেট, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারি
 
কলকাতা

কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোর মণ্ডপগুলিতে ভিআইপি গেট তুলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য পর্যাপ্ত এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকা জরুরি। রবিবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন তিনি।
 
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে বৃষ্টির মধ্যে চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। তাতে ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ২৫ জন। বড় ও জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড়ের সময়ে অনেক ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে ভিআইপি গেট দিয়ে বিশেষ প্রবেশের ব্যবস্থা থাকে। এই পরিস্থিতিতে ভিআইপি প্রবেশের ব্যবস্থা বন্ধ করার পাশাপাশি সব দর্শনার্থীর জন্য সমান প্রবেশপথ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার উপরে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
 
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৬ অক্টোবর কলকাতা ও শহরতলির পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে সংযত পরিসরে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হবে। সেখানে এ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ স্থির করা হবে। ওই অনুষ্ঠানে পদপিষ্টের ঘটনায় আহত প্রত্যেককে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
 
নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল

মুখ্যমন্ত্রী জানান, শনিবারের ঘটনার পরেই কলকাতার বড় দুর্গাপুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ওই দলে রয়েছেন দমকল বিভাগের ডিজি অনুজ শর্মা এবং স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিম।
 
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, দলটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। শহরের সমস্ত পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঘটনাস্থলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দর্শনার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। ভিআইপিদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থাও থাকবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
 
জেলাগুলিতেও পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও ইন্সপেক্টরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নিজ নিজ এলাকার মণ্ডপ পরিদর্শন করে ভিড় নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকা তৈরি করতে হবে এবং পুজো কমিটিগুলি যাতে তা কঠোরভাবে মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
 
নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ
 
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১৯ জনের মধ্যে এক জন বিহারের মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা। বাকি ১৮ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া তদারক করতে ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শেষকৃত্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা শোকাহত পরিবারগুলির পাশে থাকবেন। বিহারের মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
 
আগামী ২০ ও ২১ অক্টোবর নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানো এবং প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ওই দু’দিনে যত বেশি সম্ভব পরিবারের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
 
আহত ২৫ জনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁদের মধ্যে ২৩ জনের আঘাত সামান্য এবং শীঘ্রই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি দু’জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা এই মুহূর্তে প্রাণঘাতী নয়।
 
তদন্তে পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে
 
পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের আওতা থেকে কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা এবং দমকল বিভাগের কর্মীদের রাখা হয়নি। এই সংস্থাগুলির কারও দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তা খতিয়ে দেখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
 
ঘটনার সময় সাহায্যের জন্য পুলিশকে পাওয়া যায়নি বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ যে অভিযোগ করেছেন, তা অবশ্য খারিজ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁদের কয়েক জন জানিয়েছেন, পুলিশ অনলাইন ক্যাব পরিষেবা থেকেও গাড়ি ভাড়া করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল।
 
সিটের নেতৃত্বে কলকাতা হাইকোর্টের কোনও বর্তমান বিচারপতিকে রাখার অনুমতি চেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল শীঘ্রই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভিতলরাও ঘুগের কাছে চিঠি লিখবেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুমতি পাওয়া গেলে কোনও বর্তমান বিচারপতি তদন্তের দায়িত্ব নেবেন, অন্যথায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
 
এদিকে, রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুলিশ সদর দফতরের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে গিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভিড়ের পরিস্থিতি নিজে পর্যবেক্ষণ করার কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পুজো দর্শনার্থীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, সংবেদনশীলতার সঙ্গে মণ্ডপে যান এবং মা দুর্গার আশীর্বাদ প্রার্থনার পাশাপাশি শাস্ত্র ও পঞ্জিকা নির্ধারিত আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলুন।


শেহতীয়া খবৰ