মহাসপ্তমীর রাতে জামুড়িয়ায় ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ চিমনি, মৃত্যু ৪ শ্রমিকের! নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 15 h ago
মহাসপ্তমীর রাতে জামুড়িয়ায় ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ চিমনি, মৃত্যু ৪ শ্রমিকের! নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন
মহাসপ্তমীর রাতে জামুড়িয়ায় ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ চিমনি, মৃত্যু ৪ শ্রমিকের! নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন
 
আসানসোল

উৎসবের আনন্দের মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায়। মহাসপ্তমীর রাতে ইকড়া শিল্পতালুকে শ্যাম সেল কারখানার ৩ নম্বর গেটের কাছে ভেঙে পড়ে একটি নির্মীয়মাণ চিমনি। সার্থকপুর শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন একাধিক শ্রমিক। গভীর রাত পর্যন্ত উদ্ধার হয় চারজনের মৃতদেহ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে সকাল থেকে ফের উদ্ধারকাজ শুরু করে প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চিমনি ভেঙে পড়ার সময় ওই এলাকায় বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। আচমকা এই বিপর্যয়ে কার্যত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিল্পাঞ্চলে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স।
 
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন জামুড়িয়ার বিধায়ক ডা. বিজন মুখোপাধ্যায়, পুলিশ কমিশনার-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বৈঠক করেন তাঁরা। কীভাবে নির্মীয়মাণ চিমনি ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে অনুসন্ধান।
 
দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক বৈঠকে ঠিক হয়েছে, মৃত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে এককালীন ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি এবং শেষকৃত্যের জন্য অবিলম্বে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
 
তবে এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে ক্ষোভের পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্মাণকাজ চলাকালীন কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে।
জামুড়িয়ার বিধায়ক ডা. বিজন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্যও পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে আগামী দিনে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন বিধায়ক।
 
উৎসবের রাতে এই দুর্ঘটনা ফের সামনে আনল শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। তদন্তে চিমনি ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ এবং সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন শ্রমিকদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


শেহতীয়া খবৰ